শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫২ পি.এম
ব্যস্ত সড়ক থাকলেও, সেখানে দেখার জন্য যেন কেউ নেই। দীর্ঘ পাকা সড়কটি ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে, এবং বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে; যানবাহন চলাচলের সময় চালক ও যাত্রীদের জন্য ভোগান্তি নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এসবের মধ্যেও সড়কের মাঝে বাতাসে দোল খেতে থাকা পাকা ধানের শীষ হাসি-তামাশার খোরাক যোগাচ্ছে।
রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কের এই বেহাল অবস্থা। পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে তানোর উপজেলার কাশিমবাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ ভেঙে গেছে। গত এক বছরে এই দীর্ঘ অংশটি একরকম কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। বায়ার মোড়ের দুটি স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন যখন পার হতে যায়, তখন সেগুলো দেবে যায়। এলাকার লোকজন ওই দুটি স্থানে কাঠি পুঁতে সেখানে চিপসের দুটি প্যাকেট রেখে দিয়েছেন, যাতে চালকদের চোখে পড়ে।
এদিকে, বায়া মোড় থেকে কাশিমবাজারের দিকে যাওয়ার প্রথম ৫০০ মিটার সড়কের বের হয়ে আসা মাটিতে ধানের ফলন ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বৈশাখ মাসে রাস্তার পাশে ট্রাকে ধান বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। সেই ধান থেকেই এক সময় চারা বের হয়। ধীরে ধীরে সেই চারা বড় হয়ে ওঠে এবং ধানের শীষ বের হয়। এখন সেই ধান পেকে গেছে। তবুও সড়কটি মেরামতের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দোকানি হাসমত আলীর দোকানের সামনে ধান মোটামুটি পেকেছে। তিনি বলেন, "গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে।" পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তারা যত্ন করেছেন এবং কাউকে নষ্ট করতে দেননি। এখন সেই ধান পেকে গেছে।
হাসমত আলীর মতে, পাকা সড়কে ধানের এই ফলন ‘প্রকৃতির প্রতিবাদ’। তিনি বলেন, "টানা এক বছর ধরে এই সড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "একটু বৃষ্টি হলে পথচারীদের কাদা মেখে বাড়ি যেতে হয়। রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি পার হতে গেলে পথচারীর গায়ে কাদা লাগবেই।"
এক পথচারী রসিকতা করে বলেন, "এবার বৃষ্টি বেশি হলে মানুষ রাস্তার গর্তে মাছ ছাড়বে।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। পরে উপসহকারী প্রকৌশলী মসিউর রহমান বলেন, "এই রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মে মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে, এজিংয়ের (সড়কের দুই পাশের মেরামত) কাজ চলছে। কাজের মেয়াদ রয়েছে এক বছর। আগামী মে মাসে কাজ শেষ হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার দুই মাস পরেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে, জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য হলো, তিনি বহিষ্কারের পর আর দলের সদস্য নন।
৭৫ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্য, যিনি সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়েছেন, গণমাধ্যমকে জানান, "আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে সদস্যপদ আল্লাহর রহমতে এখনো আছে। খাতা-কলমে সব জায়গায় আমি জামায়াতের সদস্য হিসেবেই আছি।" তিনি আরও বলেন, দলের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে কী বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।
তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা গাজী মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত মত প্রকাশ করেছেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ জানান, "বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।"
একইভাবে, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর স্পিকার ও ইলেকশন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি।"
সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তরুণীর সঙ্গে গাজী মো. নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরে তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়।
দল থেকে বহিষ্কারের পর জাতীয় সংসদে তার সদস্যপদ বহাল থাকবে কিনা, অথবা তিনি স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন কিনা—এটি এখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে জামায়াতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার কিংবা নির্বাচন কমিশন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও অনেক মুদি দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু দোকানে তেল পাওয়া গেলেও সেগুলো ২ বা ৫ লিটারের বোতল। আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল নেই বললেই চলে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীরা জানাচ্ছেন, গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম কোম্পানিগুলো বাড়িয়েছে। এরপরও তারা সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি। মূলত, ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম পরিমাণে ছাড়ছে।
বিক্রেতাদের মতে, বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ক্রেতাদের আকর্ষণ করার জন্য অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন।
তেল কেনার জন্য ক্রেতাদের ৪-৫টি দোকান ঘুরে একটিতে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তাও কাঙ্খিত পরিমাণের বোতল মিলছে না।
খুচরা বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বাজারে সয়াবিনের আধা লিটার ও এক লিটার বোতলের সরবরাহ একেবারেই নেই। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। বর্তমানে শুধু দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। তাও ২ ও ৫ লিটারের বোতলে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, ২ লিটার তেল কিনতে এখন ক্রেতাকে একসঙ্গে গুনতে হচ্ছে ৪০৮ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের জন্য ১০২০ টাকা।
অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, তেল কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রির কমিশন একবারে কমিয়ে দিয়েছে। এখন প্রতি লিটারে মাত্র এক টাকা কমিশন দিচ্ছে।
রামপুরা এলাকার ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, "৫ লিটার তেল কিনলে এমনিই মানুষ ৫-১০ টাকা কম দিতে চায়। এখন আমাদের মুনাফাই ৫ টাকা। অর্থাৎ, হাজার টাকা ইনভেস্ট করে লাভ হচ্ছে ৫ টাকা। তাও কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।"
এদিকে, বোতলজাত তেলের সংকটে খোলা তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে বিস্কুট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহত শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিকেলে আসরের নামাজের পর শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় রহমতপুর গ্রামের আজিজ মিয়ার ছেলে কিশোর লাকিব মিয়া শিশুটিকে বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে একটি খালি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত লাকিব মিয়া দরজা খুলে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটির পরিবার তাকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
শিশুটির চাচা জানান, শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সে বারবার আঁতকে উঠছে। রাতের বেলা তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশকে জানানো হয় এবং পরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে নিয়ে কাল রাতে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবার জানিয়েছে, আজকে বিকেলে থানায় অভিযোগ দাখিল করবেন। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনা দেশে এলে তাকে দুইটি হাতকড়া নিয়ে রিসিভ করা হবে।
এটি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন। ওই দিন উপজেলার রতনপুর গ্রামে অসহায় বৃদ্ধা গোলাপী বেগমের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থে লুটপাট করে এ দেশের সমস্ত কিছু নিয়ে গেছে। তবে এখন তারা সেই লুটপাটের টাকা খেতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসবে এবং তার ফাঁসি হবে।
এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, মাঝে মাঝে শোনা যায়, উঁকি দিয়ে বলা হয়, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাকি শেখ হাসিনা এখানে আসবে। তিনি জানান, এই কথাগুলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বলা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট আমলের যারা লুকিয়ে আছে, তারা যেন পুলকিত হয়, সে কারণে এসব কথা বলা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা তো বলি, আপনি ৩১ ডিসেম্বর কেন, কালকেই আসেন। আমরা আপনাকে আইনের মাধ্যমে রিসিভ করব। সঙ্গে দুইটি হাতকড়া থাকবে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) যে মানবতাবিরোধী অমানবিক আচরণ করেছেন বাংলাদেশের মানুষের ওপর, তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। এই বিচার করার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। তিনি জানান, আমরা পার্শ্ববর্তী দেশকে অনুরোধ করেছি, অতিসত্বর শেখ হাসিনাসহ তার দোষীদের আমাদের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য।
অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ