প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্যস্ত সড়ক থাকলেও, সেখানে দেখার জন্য যেন কেউ নেই। দীর্ঘ পাকা সড়কটি ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে, এবং বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে; যানবাহন চলাচলের সময় চালক ও যাত্রীদের জন্য ভোগান্তি নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এসবের মধ্যেও সড়কের মাঝে বাতাসে দোল খেতে থাকা পাকা ধানের শীষ হাসি-তামাশার খোরাক যোগাচ্ছে।
রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কের এই বেহাল অবস্থা। পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে তানোর উপজেলার কাশিমবাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ ভেঙে গেছে। গত এক বছরে এই দীর্ঘ অংশটি একরকম কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। বায়ার মোড়ের দুটি স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন যখন পার হতে যায়, তখন সেগুলো দেবে যায়। এলাকার লোকজন ওই দুটি স্থানে কাঠি পুঁতে সেখানে চিপসের দুটি প্যাকেট রেখে দিয়েছেন, যাতে চালকদের চোখে পড়ে।
এদিকে, বায়া মোড় থেকে কাশিমবাজারের দিকে যাওয়ার প্রথম ৫০০ মিটার সড়কের বের হয়ে আসা মাটিতে ধানের ফলন ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বৈশাখ মাসে রাস্তার পাশে ট্রাকে ধান বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। সেই ধান থেকেই এক সময় চারা বের হয়। ধীরে ধীরে সেই চারা বড় হয়ে ওঠে এবং ধানের শীষ বের হয়। এখন সেই ধান পেকে গেছে। তবুও সড়কটি মেরামতের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দোকানি হাসমত আলীর দোকানের সামনে ধান মোটামুটি পেকেছে। তিনি বলেন, "গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে।" পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তারা যত্ন করেছেন এবং কাউকে নষ্ট করতে দেননি। এখন সেই ধান পেকে গেছে।
হাসমত আলীর মতে, পাকা সড়কে ধানের এই ফলন ‘প্রকৃতির প্রতিবাদ’। তিনি বলেন, "টানা এক বছর ধরে এই সড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "একটু বৃষ্টি হলে পথচারীদের কাদা মেখে বাড়ি যেতে হয়। রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি পার হতে গেলে পথচারীর গায়ে কাদা লাগবেই।"
এক পথচারী রসিকতা করে বলেন, "এবার বৃষ্টি বেশি হলে মানুষ রাস্তার গর্তে মাছ ছাড়বে।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। পরে উপসহকারী প্রকৌশলী মসিউর রহমান বলেন, "এই রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মে মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে, এজিংয়ের (সড়কের দুই পাশের মেরামত) কাজ চলছে। কাজের মেয়াদ রয়েছে এক বছর। আগামী মে মাসে কাজ শেষ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন