বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৫০ পি.এম
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের বারইখালী গ্রামে দুদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে পুলিশের দ্বারা এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির উত্তর পাশে একটি ডোবার মধ্যে মরদেহটি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার একটি দল সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের নাম নিজাম উদ্দিন (৯০), তিনি ওই গ্রামের মৃত হাফেজ উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টার সময় নিজাম উদ্দিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে তার খোঁজ করতে থাকেন। এ সময় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং মাইকিংও করা হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে ডোবায় তার মরদেহ ভাসছে দেখতে পান।
নিহতের ছেলে আলী হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকটাই অসুস্থ ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। আমরা আত্মীয়-স্বজন, আশপাশের গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেছি, থানায় জিডি করেছি এবং মাইকিংও করেছি। কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি। আজ সকালে বাড়ির পাশের ডোবায় তার মরদেহ দেখতে পাই।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিজাম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। এছাড়া তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তাদের ধারণা, অসুস্থতার জন্য তিনি দুর্ঘটনাবশত ডোবায় পড়ে যেতে পারেন।
খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে জমি বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে খুনের মামলায় আবুল কালাম নামের প্রধান আসামির মৃতুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে (চার্জশিটে) অভিযুক্ত অপর ২ নারীকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরের কক্সবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই আদেশ প্রদান করেছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন জানান, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই এলাকার আজিজুল হকের স্ত্রী রাশেদা বেগম ও ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া কন্যা জন্নাতুল ফেরদৌসকে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এই ঘটনার পর ২২ জানুয়ারি আবুল কালামকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ঈদগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন আজিজুল হক। মামলার অপর অভিযুক্তরা ছিলেন প্রধান আসামির ভাই আবুল তাহের, প্রধান আসামির স্ত্রী হামিদা বেগম এবং আবু তাহেরের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।
পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ জুলাই আবু তাহেরকে অব্যাহতি প্রদান করে অপর ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আদালত বিচারকার্য শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রদান করে। আদেশ প্রদানকালে আসামিদের ৩ জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মেহেরপুরে ফুটবল খেলতে গিয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলবেলা গাংনী উপজেলার আজান গ্রামে ফুটবল মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
রাব্বি হোসেন (১৮) হচ্ছেন মেহেরপুর সদর উপজেলায় বুড়িপোতা গ্রামের মিজানুর রহমানের পুত্র। তার নানা বাড়ি আজান গ্রামে অবস্থিত।
জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ও গাংনী উপজেলার আজান গ্রামের কিশোরদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলাটি চলাকালে রাব্বি আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাব্বির বন্ধুরা জানান, রাজিব হোসেন বলেন, আমাদের মধ্যে রাব্বি ছিল একজন বন্ধু। আজান গ্রামের যুবকদের সাথে প্রীতি ফুটবল খেলার প্রস্তাব সে দিয়েছিল। খেলা চলাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই সে অসুস্থ হয়ে মাঠে বুকে হাত দিয়ে বসে পড়ে। এটা কেমন হলো, আমরা বুঝতে পারছি না।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাহিদ হাসান জানান, রাব্বি নামের একজন ফুটবল খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু ঘটে। যেহেতু তার বয়স মাত্র ১৮, তাই আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, থানা পুলিশের একটি টিম বর্তমানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৬২৬ বাংলাদেশির ভিসা অটো ক্যান্সেল হয়েছে। এই ৬২৬ জনের মধ্যে ৪১৭ জনের ভিসা নবায়নের জন্য আমিরাত সরকারকে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এ তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আমিরাতে এখন পর্যন্ত ৬২৬ জন বাংলাদেশির ভিসা অটো ক্যান্সেল হয়েছে। এই ৬২৬ জনের মধ্যে ৪১৭ জনের তালিকা ইতোমধ্যে আমিরাত সরকারের কাছে ভিসা নবায়নের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের তথ্যও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে ভিসা বাতিল হলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানেরও কিছু দায়িত্ব থাকে। আমাদের দূতাবাস সরাসরি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও যোগাযোগ চলছে।
প্রবাসীদের সচেতনতা ও স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য নিজ নিজ দেশের ও গন্তব্য দেশের আইন মেনে চলা জরুরি। ফেসবুকে কোনো সংবেদনশীল বিষয় বা রাজনীতি নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়া ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে।
ভুয়া কাগজপত্র জমার প্রভাব নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, জাল বা ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করলে পুরো দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এবং যারা বৈধ উপায়ে কাজ করতে যেতে চান, তাদের পথও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভুয়া তথ্য বা কাগজ জমা দিলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানসহ জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার খরচ অনেক বেশি। এই ব্যয় কমাতে এবং দালাল চক্রের প্রতারণা রুখতে মন্ত্রণালয় সমন্বিত কাজ শুরু করেছে। অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার রোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি স্বতন্ত্র মাইগ্রেশন উইং গঠন করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্স থেকে অবৈধভাবে ব্রিটেনে প্রবেশের লক্ষ্য হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার দুটি পৃথক প্রচেষ্টায় চার অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই তারিখে ফরাসি কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুধবার রাতের দিকে সমুদ্র উপকূলীয় শহর হারদেলোর কাছে এক ডিঙ্গি নৌকা ডুবে যাওয়ার ফলে একজনের মৃত্যু হয়। সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন ডানকার্ক বন্দরের নিকটে সমুদ্র থেকে আরও তিন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নত জীবনের প্রার্থনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে সমুদ্রপথে ফ্রান্স থেকে ব্রিটেনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই বিপজ্জনক রুট পার হওয়ার সময় প্রায়ই হৃদয়বিদারক নৌডুবির ঘটনাগুলো ঘটে, যার ফলে বহু মানুষের প্রাণ গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ