ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিকিৎসককে ‘ভাই’ বলায় কোলের শিশুর চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ


চিকিৎসককে ‘ভাই’ বলায় কোলের শিশুর চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় একটি রোগীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রোগীর স্বজন চিকিৎসককে উদ্দেশ্য করে বলছেন, 'প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?' জবাবে চিকিৎসক বলেন, 'আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।'

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

জানা গেছে, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে একটি বিড়াল আঁচড় দিলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নেওয়া হয়।

তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে 'ভাই' সম্বোধন করে শিশুর বিষয়ে জানান তিনি। চিকিৎসক তখন হাসপাতাল থেকে বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা না থাকায় বিকেলে আসতে বলেন। পরে যোগাযোগের সুবিধার্থে চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে চিকিৎসক ক্ষুব্ধ হয়ে যান। এমন সময় তিনি বলেন, 'আপনি একজন বিসিএস ক্যাডারকে ভাই বলে ডাকেন, আবার তার ফোন নম্বর চান?' এই মন্তব্যের পর রোগীর স্বজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তাদের চলে যেতে বলেন।

এ বিষয়ে তানভীর হাসান বলেন, 'আমি আমার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম চিকিৎসার আশায়। চিকিৎসককে সম্মান দিয়েই কথা বলেছি। কিন্তু 'ভাই' বলায় তিনি বিরক্ত হন। পরে নম্বর চাইতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং চিকিৎসা না দিয়ে চলে যেতে বলেন।'

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'ডা. আরিফুল ইসলাম দায়িত্বশীল ও কর্মঠ একজন চিকিৎসক। ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। রোগী যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। ভিডিওতেও ভাই বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। আমার মতে, উভয়পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।'

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে রোগীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাকসু ভবনে হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের ২ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ পি.এম


রাকসু ভবনে হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের ২ জন গ্রেপ্তার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাকসু ভবনে হামলার ঘটনার পর গঠন করা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাকসু ও শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শুরু করতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে রাকসু, হল সংসদ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের একটি বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, ভিসি স্যার এক ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। অভিযুক্ত দুজনকে পুলিশ তাদের নিজ উদ্যোগে মামলায় গ্রেপ্তার করেছে। তবে তিনি চান যে, এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সে অনুযায়ী আনাস ও হাসান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগে পুলিশ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করেছে। শিক্ষার্থীরা আরো দাবি করেছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। ভিসি স্যার দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, আমরা খুব দ্রুত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে তথ্য যাচাই করব এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এর আগে রাকসু ভবনে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সুষ্টু তদন্তের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাকসু ও হল সংসদের নেতারা। পরে উপাচার্যের সাথে বৈঠকের পর প্রশাসনের সিদ্ধান্তে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্ককে এফ-৩৫ ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প: "আমি কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেবে না"

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৩ এম


তুরস্ককে এফ-৩৫ ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প: "আমি কী বিক্রি করব, সেটা কেউ ঠিক করে দেবে না"

তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরোধিতা নিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সেই সঙ্গে ন্যাটো মিত্র দেশ হিসেবে তুরস্কের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) ওয়াশিংটন ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ মন্তব্য করলেন।

ট্রাম্প বলেন, 'তুরস্ক আমার জন্য অসাধারণ এক মিত্র। আমাদের কী বিক্রি করা উচিত, তা আমাকে কেউ বলে দেবে না।'

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং পরবর্তীতে গাজা যুদ্ধের কারণে তুরস্ক ও ইসরাইলের সম্পর্ক তলানিতে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলের শীর্ষ কর্মকর্তারা আঙ্কারাকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করছেন।

চলতি মাসে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তুরস্ককে 'মুসলিম ব্রাদারহুডে আক্রান্ত একটি শাসনব্যবস্থা' বলেন। তিনি দাবি করেন, 'তাদের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন দেয়া উচিত নয়।'

এয়ার ফোর্স ওয়ানে তুরস্কের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলে ওঠেন, 'তুরস্ক ইসরাইলের সমর্থক নয়। কিন্তু তারা আমার জন্য দারুণ ছিল।' ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, 'তুরস্ক খুবই শক্তিশালী একটি দেশ। তাদের বিশাল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে এবং তাদের কাছে অনেক আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম আছে।'

এর আগে চলতি মাসে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিতে পারেন। তবে সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর কংগ্রেসকে জানায়, তুরস্ক এখনও এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অংশ নেয়ার শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে বহুজাতিক এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। একই সঙ্গে 'কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট' আইনের আওতায় আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

যদিও ৭ জুলাই এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানায়, 'তুরস্ক এখনও শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে ভবিষ্যতে শর্ত পূরণ করলে এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যরাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মোদি সরকারের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


মধ্যরাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মোদি সরকারের বৈঠক

আন্দোলন প্রত্যাহার করার পরেও ভারতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়েছে। তবে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। বৈঠকে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনটি জানায়, বিক্ষোভকারীদের একা ফেলে রাখা হবে না এবং সবাই একসঙ্গে থাকবে।

সাংবাদিকদের কাছে সংগঠনটি তাদের দাবি জানায়, সরকার বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারির আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো, এর কয়েক ঘণ্টা আগে ককরোচ জনতা পার্টি অভিযোগ করেছিল যে, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গ করা হচ্ছে এবং এ নিয়ে তারা নতুন করে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেয়।

পরে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি ককরোচ জনতা পার্টির কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা হবে, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হবে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির কথাও বলা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় জানান, কেন্দ্রীয় সরকার আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার হবে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধ্যেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকার প্রতিনিধিরা বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের বিজ্ঞপ্তি দেখান, যেখানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সৌরভ দাস উল্লেখ করেন, অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একই ধরনের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে।

এদিকে, বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সমঝোতা সত্ত্বেও দেশে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা এখনও পুলিশি পদক্ষেপের মুখে পড়ছেন। তিনি বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিবি কার্যালয়ে জোর করে ঘোষণা আদায়ের অভিযোগে দেশজুড়ে সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


ডিবি কার্যালয়ে জোর করে ঘোষণা আদায়ের অভিযোগে দেশজুড়ে সমালোচনা

জুলাই ডিবি কার্যালয়ে সকল ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। কিন্তু তার বক্তব্যের পর সন্দেহ এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অন্য সমন্বয়করা অভিযোগ করেছেন যে, জোর করে এ ঘোষণা আদায় করা হয়েছে, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তারা সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

পাঁচ সমন্বয়কের পর, ২৮ জুলাই ভোরে আরেক সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকেও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তার কারণে তাদের গোয়েন্দা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দিবাগত রাতে ডিবি হেফাজতে ভিডিও বার্তা প্রদান করেন সমন্বয়করা। ভিডিওতে নাহিদ ইসলামকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে দেখা যায়, যেখানে তিনি সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন।

সেদিনের ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা সময় সংবাদকে জানাচ্ছিলেন আটক থাকা সমন্বয়করা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বললেন, ‘হাত আর চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। আমাকে প্রায় ৪ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। কখনও কখনও নিচে নামিয়ে মারধর করা হয়।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানালেন, ‘ডিবি অফিস থেকে চাপ দিয়ে ভিডিও বার্তা বের করে। যদিও আমরা জানতাম না যে, ওই ভিডিও বার্তাটা মিডিয়াতে দেখানো হবে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যে, যেকোনোভাবে আন্দোলনটি স্থগিত করা।’

এদিকে, সমন্বয়কদের জিম্মি করে এমন বক্তব্য দেয়া হয়েছে বলেও সেই সময় প্রচার করেন অন্য সমন্বয়করা। তখন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ঘোষণা দেন, তারা নতুন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানালেন, তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত ছিল যে, সমন্বয়কদের মধ্যে ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও যেন পরবর্তী পর্যায়গুলো প্রস্তুত থাকে। ওই সময় আন্দোলন সারা দেশে এমনভাবে ছড়িয়ে গিয়েছিল যে, কেউ এসে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করলেও তারা বুঝতেন, আন্দোলন বন্ধ হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বললেন, সেই সময় তাদের আর পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ যদি হাসিনা কোনোভাবে বেঁচে যেতে পারেন, তবে তাদের মৃত্যু শতভাগ নিশ্চিত। এমনকি তাদের লাশও পাওয়া যেত না।

২৮ জুলাই সব অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করে ঢাকার ৮টি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। এদিন আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে ১৪৭ মৃত্যুর তথ্য দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ৫ আগস্টে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ডিবি কার্যালয়ের বাইরে লিখে দেন হারুনের ভাতের হোটেল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%