১০:২৩ এম
জুলাই ডিবি কার্যালয়ে সকল ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। কিন্তু তার বক্তব্যের পর সন্দেহ এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অন্য সমন্বয়করা অভিযোগ করেছেন যে, জোর করে এ ঘোষণা আদায় করা হয়েছে, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তারা সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
পাঁচ সমন্বয়কের পর, ২৮ জুলাই ভোরে আরেক সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকেও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তার কারণে তাদের গোয়েন্দা হেফাজতে রাখা হয়েছে। দিবাগত রাতে ডিবি হেফাজতে ভিডিও বার্তা প্রদান করেন সমন্বয়করা। ভিডিওতে নাহিদ ইসলামকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে দেখা যায়, যেখানে তিনি সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন।
সেদিনের ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা সময় সংবাদকে জানাচ্ছিলেন আটক থাকা সমন্বয়করা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বললেন, ‘হাত আর চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়। আমাকে প্রায় ৪ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। কখনও কখনও নিচে নামিয়ে মারধর করা হয়।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানালেন, ‘ডিবি অফিস থেকে চাপ দিয়ে ভিডিও বার্তা বের করে। যদিও আমরা জানতাম না যে, ওই ভিডিও বার্তাটা মিডিয়াতে দেখানো হবে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যে, যেকোনোভাবে আন্দোলনটি স্থগিত করা।’
এদিকে, সমন্বয়কদের জিম্মি করে এমন বক্তব্য দেয়া হয়েছে বলেও সেই সময় প্রচার করেন অন্য সমন্বয়করা। তখন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ঘোষণা দেন, তারা নতুন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানালেন, তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত ছিল যে, সমন্বয়কদের মধ্যে ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও যেন পরবর্তী পর্যায়গুলো প্রস্তুত থাকে। ওই সময় আন্দোলন সারা দেশে এমনভাবে ছড়িয়ে গিয়েছিল যে, কেউ এসে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করলেও তারা বুঝতেন, আন্দোলন বন্ধ হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বললেন, সেই সময় তাদের আর পেছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ যদি হাসিনা কোনোভাবে বেঁচে যেতে পারেন, তবে তাদের মৃত্যু শতভাগ নিশ্চিত। এমনকি তাদের লাশও পাওয়া যেত না।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
২৮ জুলাই সব অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করে ঢাকার ৮টি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। এদিন আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার কারণে ১৪৭ মৃত্যুর তথ্য দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ৫ আগস্টে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ডিবি কার্যালয়ের বাইরে লিখে দেন হারুনের ভাতের হোটেল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন