মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:২৪ পি.এম
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু ও হাম উপসর্গের কারণে আটজনের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচজন ডেঙ্গুতে এবং তিনজন হাম উপসর্গে মারা গেছেন।
এ তথ্য মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩৬৬ জন। অন্যদিকে, হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৫৯ জন।
ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৩০০ ছাড়াল
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজন মারা গেছেন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫ জন ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। এছাড়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, খুলনা বিভাগে ১৪১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮০ জন এবং রংপুর বিভাগে ৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিলেট বিভাগে নতুন করে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১২০৪
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে তিনজনের মৃত্যুর পর, গত ১৫ মার্চ থেকে মোট ১২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন মারা গেছেন। বাকি ১১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে হাম উপসর্গে। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৭ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতি বছর কক্সবাজারে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ছুটে আসেন পাহাড়, সমুদ্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে। এখানে পর্যটকদের থাকা ও খাওয়ার জন্য গড়ে উঠেছে অনেক হোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। তবে সম্প্রতি ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১০ পর্যটকের প্রাণহানি ঘটার পর, এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের সতর্কবার্তা ও নোটিশ থাকা সত্ত্বেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এই মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট দফতরের দাবি, সমন্বয়হীনতা, জনবলসংকট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আইন না মানার প্রবণতার কারণে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৫০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ফায়ার লাইসেন্স নিয়েছে প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান। আর ই-লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় আবেদন করেছে মাত্র ৫২টি প্রতিষ্ঠান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার জানিয়েছেন, প্রায় ৪০০টি প্রতিষ্ঠান এখনো ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে এটি উদ্বেগজনক।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক রিসোর্টের মালিক প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা অনুসারে ব্যবস্থা নিতে চান না। বারবার সতর্ক করা, নোটিশ দেয়া এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করার পরও একই ধরনের অনিয়ম চলছে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথোরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে অনেক রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ আইন ও বিধিমালা মানতে চায় না। তাদের বারবার সতর্ক করা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হলেও বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয় না।
গত শনিবার ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, অনিয়মের বিষয়ে আগে থেকে সতর্ক করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্বজন নঈমুদ্দিন অভিযোগ করেছেন, ফায়ার সার্ভিসের নোটিশ উপেক্ষা করেও জরিমানা দিয়ে রিসোর্টের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তিনি বলেন, "সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে হয়তো এতগুলো প্রাণ ঝরে যেত না।"
নিহতদের আরেক স্বজন ফয়সাল জাহান বলেছেন, টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় রেস্তোরাঁ পরিচালিত হলেও ওপরের স্থাপনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়েছে। সতর্ক করার পরও ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন ঘটনার দায় কার? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার দায় সাধারণ মানুষ কেন নেবে?"
ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রাতারাতি স্থাপনা নির্মাণ হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া জনবলসংকটও রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান বলেছেন, "কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেয়ার আগে সেটি আইনসম্মত কি না এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সমন্বয়ে কাজ করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই রাতারাতি স্থাপনা তৈরি হয়ে যায়। বিষয়টি জানার আগেই নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় জনবলসংকটের কারণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয় না। তবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশা করছেন তারা।"
কক্সবাজারকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা এবং পর্যটন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, "সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার আলোকে নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের নোটিশ দেয়া হয়। চূড়ান্ত নোটিশের পরও কেউ অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।"
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
এদিকে ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় রিসোর্টের মালিক ও ব্যবস্থাপকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মার্কিনিরা জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে ‘শাস্তি’ দিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।
চার দিনের এই জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৩১ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় এক শতাংশ পয়েন্ট কম। এটি তার প্রেসিডেন্সির যেকোনো মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়।
যদি আজ কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তখন ভোটাররা কোন দলকে ভোট দিতেন—এমন একটি সাধারণ প্রশ্নের (যাকে ‘জেনেরিক ব্যালট’ বলা হয়) উত্তরে, দেশব্যাপী জরিপে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৫ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ পয়েন্টে ডেমোক্র্যাটদের এই এগিয়ে থাকা বর্তমান নির্বাচনী চক্রে সবচেয়ে বড় ব্যবধান। এটি মার্কিন প্রতিনিধি সভা ও মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ক্ষেত্রে দলটির আশাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
রিপাবলিকানদের জন্য, যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপাবলিকান কংগ্রেস প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো, আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক নারী ভোটার ডেমোক্র্যাটদের বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। নারী ভোটারদের প্রায় ৫০ শতাংশ বলেছেন, তারা ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেবেন। বিপরীতে, ৩২ শতাংশ নারী রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
পুরুষ ভোটারদের সমর্থনও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বেশি ছিল, তবে ব্যবধান ছিল তুলনামূলক কম।
সূত্র: রয়টার্স
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শীতকাল পুরোপুরি আসার আগেই ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে, চামড়া উঠছে বা ঠোঁটের কোণে ফাটল দেখা দিচ্ছে? অনেকের ধারণা, ঠোঁট ফাটার সমস্যা শীতকালেই হয়। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, শরীরে পানির অভাব, ঠোঁটের উপর বারবার জিভ দিয়ে ভেজানো এবং কিছু প্রসাধনীর ব্যবহারও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।
ঠোঁটের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় খুবই পাতলা এবং এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি প্রায় নেই। তাই ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারায়। শীত আসার আগেই ঠোঁটের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কেন শীতের আগেই ঠোঁট ফাটছে?
১. আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসের আর্দ্রতা কমে গেলে, শুষ্ক বাতাস এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনে ঠোঁটের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে।
২. বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে ভেজান। কিন্তু লালার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সময় ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে ফাটার সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করা: শরীরে পানির অভাব হলে মুখ ও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র ঠোঁট ফাটলেই শরীরে পানির অভাব রয়েছে, এমনটি বলা যায় না।
৪. প্রসাধনী ও টুথপেস্টের প্রতিক্রিয়া: কিছু লিপস্টিক, লিপবাম, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী বা টুথপেস্টের উপাদান ঠোঁটে জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
৫. পুষ্টির অভাব: কিছু ক্ষেত্রে আয়রন, ভিটামিন বি১২ বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাবের সঙ্গে ঠোঁটের সমস্যা, বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে ফাটার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে শুধুমাত্র এই লক্ষণ দেখে পুষ্টির অভাব নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
৬. ঠোঁটের প্রদাহ বা অন্য সমস্যা: দীর্ঘদিন ধরে ঠোঁট ফাটা, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা ঠোঁটের কোণে ক্ষত হওয়ার পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণও দায়ী হতে পারে।
ঠোঁট ফাটা কমাতে কী করবেন?
লিপবাম ব্যবহার করুন: সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি বা সাধারণ লিপবাম ব্যবহার করা উচিত। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং ঘুমানোর আগে এটি লাগানো যেতে পারে।
ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলা থেকে বিরত থাকুন। এতে ক্ষত ও জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: তৃষ্ণা ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন। দীর্ঘ সময় পানি না খেয়ে থাকবেন না।
রোদ থেকেও সুরক্ষা নিন: বাইরে গেলে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগান।
ঠোঁটে জ্বালা তৈরি করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি বা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে ঠোঁটে জ্বালা বাড়তে পারে। যে পণ্য ব্যবহারে অস্বস্তি হয়, সেটি বন্ধ করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ঠোঁটের সমস্যা না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঠোঁটে অতিরিক্ত ফোলা, পুঁজ, তীব্র ব্যথা, বারবার রক্তপাত বা ঠোঁটের কোণে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত হলে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক অ্যালার্জি, সংক্রমণ বা পুষ্টির অভাবের বিষয়টি মূল্যায়ন করতে পারেন।
শীত আসার আগেই যত্ন নিন
ঠোঁট ফাটা একটি ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও অবহেলা করলে তা ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও ক্ষতের কারণ হতে পারে। তাই শীতের আগমনের অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁট আর্দ্র রাখুন, ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন এবং উপযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার একটি ব্রিজের অভাবে সহস্রাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় আগে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করেছিলেন। তবে বর্তমানে এটি নড়বড়ে হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে, যা চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে দুই পাড়ের মানুষ জীবন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন; বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের ভোগান্তি বেড়েছে।
জানা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের তালুক রিফাইতপুর এলাকায় আলাই নদীর দুই পাড়ের মানুষ এক সময় ভাসমান ড্রামের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতেন। প্রায় এক যুগেরও বেশি আগে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রম ও গ্রামের মানুষের চাঁদার টাকায় বাঁশ-কাঠ দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার কারণে এটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন অংশ ভেঙে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নদীর এপাড়ে স্কুল, বাজার, হাসপাতাল থাকায় স্থানীয়দের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ও বাঁশের ভেলায় যাতায়াত করতে হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় সেটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর আর খোঁজ রাখেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কোমলমতি শিশুদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয় এ বাঁশ-কাঠের সাঁকোর ওপর দিয়েই।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, "বিভিন্ন দফতরে ঘুরেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। ভোটের আগে সবাই ব্রিজ করে দিতে চেয়ে ভোট নিয়ে আর কোনো খোঁজ নেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। সাঁকো নষ্ট হলে কলা গাছের ভেলায় কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সবাইকে আসা-যাওয়া করতে হয়।"
ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সুমন জানান, "স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বেচ্ছাশ্রমে ও তাদের নিজস্ব অর্থায়নে মাঝে মাঝে মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয়রা। তবে রোগী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে।"
এদিকে এলজিইডির গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. বাবলু মিয়া জানান, "ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজন রাস্তার। ওই ব্রিজের সংযোগ সড়কের আইডি নম্বর না থাকায় ব্রিজ নির্মাণে সময় লাগছে। স্থানীয়দের যোগাযোগ সহজ করতে ব্রিজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ