প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শীতকাল পুরোপুরি আসার আগেই ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে, চামড়া উঠছে বা ঠোঁটের কোণে ফাটল দেখা দিচ্ছে? অনেকের ধারণা, ঠোঁট ফাটার সমস্যা শীতকালেই হয়। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, শরীরে পানির অভাব, ঠোঁটের উপর বারবার জিভ দিয়ে ভেজানো এবং কিছু প্রসাধনীর ব্যবহারও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।
ঠোঁটের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় খুবই পাতলা এবং এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি প্রায় নেই। তাই ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারায়। শীত আসার আগেই ঠোঁটের সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কেন শীতের আগেই ঠোঁট ফাটছে?
১. আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসের আর্দ্রতা কমে গেলে, শুষ্ক বাতাস এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনে ঠোঁটের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে।
২. বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে ভেজান। কিন্তু লালার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সময় ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে ফাটার সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করা: শরীরে পানির অভাব হলে মুখ ও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র ঠোঁট ফাটলেই শরীরে পানির অভাব রয়েছে, এমনটি বলা যায় না।
৪. প্রসাধনী ও টুথপেস্টের প্রতিক্রিয়া: কিছু লিপস্টিক, লিপবাম, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী বা টুথপেস্টের উপাদান ঠোঁটে জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
৫. পুষ্টির অভাব: কিছু ক্ষেত্রে আয়রন, ভিটামিন বি১২ বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাবের সঙ্গে ঠোঁটের সমস্যা, বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে ফাটার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে শুধুমাত্র এই লক্ষণ দেখে পুষ্টির অভাব নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
৬. ঠোঁটের প্রদাহ বা অন্য সমস্যা: দীর্ঘদিন ধরে ঠোঁট ফাটা, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা ঠোঁটের কোণে ক্ষত হওয়ার পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণও দায়ী হতে পারে।
ঠোঁট ফাটা কমাতে কী করবেন?
লিপবাম ব্যবহার করুন: সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি বা সাধারণ লিপবাম ব্যবহার করা উচিত। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং ঘুমানোর আগে এটি লাগানো যেতে পারে।
ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলা থেকে বিরত থাকুন। এতে ক্ষত ও জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: তৃষ্ণা ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন। দীর্ঘ সময় পানি না খেয়ে থাকবেন না।
রোদ থেকেও সুরক্ষা নিন: বাইরে গেলে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগান।
ঠোঁটে জ্বালা তৈরি করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি বা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে ঠোঁটে জ্বালা বাড়তে পারে। যে পণ্য ব্যবহারে অস্বস্তি হয়, সেটি বন্ধ করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ঠোঁটের সমস্যা না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঠোঁটে অতিরিক্ত ফোলা, পুঁজ, তীব্র ব্যথা, বারবার রক্তপাত বা ঠোঁটের কোণে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত হলে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক অ্যালার্জি, সংক্রমণ বা পুষ্টির অভাবের বিষয়টি মূল্যায়ন করতে পারেন।
শীত আসার আগেই যত্ন নিন
ঠোঁট ফাটা একটি ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও অবহেলা করলে তা ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও ক্ষতের কারণ হতে পারে। তাই শীতের আগমনের অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁট আর্দ্র রাখুন, ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন এবং উপযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন