১০:০২ পি.এম
রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার দর্শনপাড়াতে কৃষি প্রতিবেশবিদ্য, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক একটি স্কুল ক্যাম্পেইনে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করা হয় বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে, দর্শনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে, উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক কর্তৃক। অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মনজুর রহমান। তিনি বলেন, নিজেদের নিরাপদ রাখতে এবং বিষমুক্ত খাবার উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে হবে। অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে পশুপাখি, মাছ, উদ্ভিদ এবং কীটপতঙ্গের মৃত্যু হচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়তে এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং পশুপাখির খাবারের ফলমূলের গাছসহ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি এই ধরনের বাস্তবধর্মী ও সচেতনতা নিয়ে কর্মসূচিগুলি শিক্ষার্থীদের চিন্তা-চেতনার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে এই দেশের নেতৃত্ব দেবে, তাই তাদের মধ্যে কৃষি এবং পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা জরুরি। তিনি বারসিকের এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো: তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশের মধ্যে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে কৃষিপ্রতিবিদ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ছে। অতীতে কীটনাশক ছাড়া আবাদ করা হত, এবং সেখানেও ফলন পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কৃষির মানকে ক্ষুণ্ণ করছে। মানুষ ভাবে, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে আবাদ ভাল হয়, কিন্তু এটি স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করছে, ফলে জলবায়ু ও পরিবেশের ভারসাম্যও বিপর্যস্ত হচ্ছে। তাই রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় কৃষি পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যা মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশি জাতের বীজ সংরক্ষণ জরুরি। বিলনেপালপাড়া এলাকায় দেশে জাতের 'কমিউনিটি বীজ ব্যাংক' বিদ্যমান, যেখানে ১৯০ প্রকারের দেশীয় বীজ সংগ্রহ রয়েছে। কৃষকদের সহায়তার জন্য দেশীয় বীজ সংরক্ষণে বীজ লাইব্রেরি তৈরি করা হচ্ছে। আমরা একটি উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে চাই, যেখানে নিরাপদ খাদ্য, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ন্যায্যতা একসাথে নিশ্চিত হবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের এলাকায় পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মো: আক্কাস আলী, মোসা: নাজমা বেগম, মো: লুৎফুর রহমান, উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা মোসা: সুলতানা খাতুন, তুষার আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন