০২:০৫ এম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। একই সঙ্গে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের দাবিসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত চার দফা দাবির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর করা, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানানো হয়।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। জাতিকে কথা দিয়েছি, লড়াই করে গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব। এর থেকে এক চুলও সরব না।”
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি দাবি করেন, বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থানের কথা বলা হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছিল। অথচ বর্তমান বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য ১০ টাকারও বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ১১ দল সরকার গঠন করতে পারলে এ দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্তে উত্তেজনা ও পুশইনের ঘটনায় জনগণ এবং বিজিবি একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান না নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রংপুরকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু ঘোষণা দিয়ে হবে না, এর জন্য মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন। আলুচাষিদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণে প্রতি বস্তায় ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় চাপ। এই ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
দ্রব্যমূল্য, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপে কষ্টে থাকলেও দুর্নীতিবাজরা সেই কষ্ট অনুভব করে না। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী হলেও দুর্নীতি করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”
দেশের সার্বভৌমত্য প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মানুষই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন