প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জুমার সুন্নত নামাজের কত রাকাত হওয়া উচিত, এ বিষয়ে হাদিস ও সাহাবিদের আমল কী নির্দেশ করে? জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে। এ দিন দুই রাকাত ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জুমার আগে ও পরে কত রাকাত সুন্নত পড়তে হবে, এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমলের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক।
প্রতিদিন ১২ রাকাত সুন্নত নামাজের ফজিলত সম্পর্কে জানা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত সুন্নত নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। হজরত উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।" সহিহ মুসলিমের ৭২৮ নম্বর হাদিসে উল্লেখিত ১২ রাকাত সুন্নত হলো জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের ফরজের পরে দুই রাকাত, ইশার ফরজের পরে দুই রাকাত এবং ফজরের ফরজের আগে দুই রাকাত।
জুমার নামাজে জোহরের চার রাকাত ফরজের পরিবর্তে দুই রাকাত ফরজ আদায় করা হয়। হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, জুমার ফরজের আগে চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা এবং ফরজের পরে চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করা হয়। এ ছাড়া জুমার ফরজের পরে ছয় রাকাত নামাজ আদায়ের প্রচলনও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে চার রাকাতের পর আরও দুই রাকাত নফল বা অতিরিক্ত সুন্নত হিসেবে পড়া হয়। জুমার পর দুই বা চার রাকাত নামাজ আদায়ের বিষয়ে হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে ফিকহি মতপার্থক্যও বিদ্যমান।
জুমার আগে চার রাকাত নামাজের দলিল
সাহাবায়ে কেরামের আমলেও জুমার আগে চার রাকাত নামাজ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বায় উল্লেখ করা হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) জুমার আগে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন। তাবেয়ি হজরত ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) থেকেও জানা যায়, সাহাবায়ে কেরাম জুমার আগে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন। এসব বর্ণনা জুমার পূর্ববর্তী সুন্নত নামাজের বিষয়ে আলেমদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে সুন্নত নামাজের গুরুত্ব
সুন্নত নামাজের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
مَنْ صَلَّى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ অর্থ: যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ রাকাত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২৮)
এ হাদিস থেকে নিয়মিত সুন্নত নামাজ আদায়ের গুরুত্ব ও ফজিলত স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ইবাদত ও নেকি অর্জনের বিশেষ সুযোগ। তাই জুমার ফরজ নামাজের পাশাপাশি সুন্নত নামাজও গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করা উচিত। একই সঙ্গে নামাজের রাকাতসংখ্যা ও বিধান সম্পর্কে মতপার্থক্য থাকলে নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যা অনুসরণ করা এবং অন্যের আমল নিয়ে অযথা বিতর্ক এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন