০৬:১৭ পি.এম
প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে কোনোভাবেই দলীয় রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাওয়া হেলমেট হলে অনুষ্ঠিত ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান-২০২৪ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও রাওয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
শামছুল ইসলাম আরও বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে জানাতে চাই, জুলাইকে অবহেলা করে এবং জুলাইকে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যেমন এসেছে, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুশাসন এবং মানুষকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই ধারণাটা নিয়েই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের কাজ করছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনার মূল ভিত্তি হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই চেতনাকে সামনে নিয়ে চলার তিনটি প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে বৈষম্যের অবসান করা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সংহতি ও পুনর্মিলন করা।
শামছুল ইসলাম আরও দাবি করেন, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের ঘটনাগুলোয় কিছুর ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
তিনি জানান, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের তিনটি শ্রেণিতে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
শামছুল ইসলাম বলেন, শহীদ ও আহত যোদ্ধা পরিবারের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার কাজ চলছে। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে একটি বোর্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে বলেন, মেজর সিনহা হত্যা ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে শিগগির দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
শামছুল ইসলাম বলেন, বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। পদোন্নতি এবং দায়িত্ব বণ্টনে মেধা ও যোগ্যতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো ব্যক্তি বা দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, বাহিনী সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবে।
উপদেষ্টা আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে অর্থনৈতিক, খাদ্য, সাইবার, তথ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জাতি পুনর্গঠনে ঐক্যের বিকল্প নেই। বিভক্ত হলে আধিপত্যবাদী শক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির সামনে মাথা নত করতে চায় না।
শামছুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সত্য ও ইতিহাস যেন অপব্যাখ্যা, বিভ্রান্তি বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত না হয়, সে বিষয়ে সবার সজাগ থাকতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছুক্ষেত্রে কেউ কেউ জুলাইকে নিজেদের রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন