প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সপ্তাহখানেক ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বাসা-বাড়িতে রান্নায় ভোগান্তির পাশাপাশি সিএনজিচালকরা বিপাকে পড়েছেন। গ্যাসের চাপ কম থাকার কারণে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
চালকরা জানান, ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষার পরেও গ্যাস নিতে পারছেন না। তারা বলছেন, যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে সংসার চালানো তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি পাম্প ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে লক্ষ্য করা যায়, রাজধানীর মগবাজারের সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সারি রয়েছে। পাম্প থেকে দূরে ইস্কাটন রোডের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে সিএনজির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এছাড়া, মগবাজার রেলগেট এলাকায় সিএনজি পাম্পে গাড়ির সারি মগবাজার মোড় পর্যন্ত চলে এসেছে।
চালকরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর গ্যাস পাচ্ছেন না তারা। দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় গ্যাস নিতে চলে যাচ্ছে, ফলে তাদের দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে। দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান না হলে সংসার চালিয়ে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে যাবে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
সিএনজিচালক মনিরুল বলেন, "আজকে ৩ ঘণ্টা হলো দাঁড়িয়ে আছি। এখনও গ্যাস নিতে পারলাম না। গতকাল প্রায় ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হয়েছে।" তিনি জানান, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস নিতেই চলে যাচ্ছে।
আরেক সিএনজিচালক রুবেল বলেন, "সপ্তাহখানেক ধরে গ্যাসের এই সমস্যা চলছে। আমরাও ভোগান্তিতে আছি। আয় কমে যাচ্ছে আমাদের। জমার টাকা দিয়ে বর্তমানে আর কিছু থাকে না।"
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে, জাতীয় গ্রিডে প্রতি দিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে, বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহক গ্যাস সংকটে পড়েছেন।
এদিকে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের এলএনজি ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌ. মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, "এফএসআরইউ কবে নাগাদ ঠিক হচ্ছে সেটি এখনও বলতে পারছি না। বিদেশি প্রকৌশলীরা এসেছেন, তারা কাজ করছেন। আগামীকাল নাগাদ প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।" তিনি জানান, এই মুহূর্তে ঠিকঠাক করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন