প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিন মাসের পরিবর্তে ছয় মাসে নেওয়ার কথা।
তিনি জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের প্রসঙ্গেও আলোচনা করেছেন। একইসাথে, তালিকাভুক্তকরণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং দ্রুত করার পাশাপাশি খরচ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বারোপ করেছেন। এছাড়া, তদারকিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ পুঁজিবাজার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
রাজধানীর নিকুঞ্জে বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) টাওয়ারে বক্তব্য রাখার সময়, বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলছিলেন। তিনি ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এর আয়োজনে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ ভাবে গত ৪ জুন বিএসইसीর দায়িত্ব নেওয়া মাসুদ খান প্রত্যেক প্রান্তিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে বলেছেন, “আমিও এই পেইনের মধ্যে দিয়ে এসেছি। এই পেইন আমি বুঝি। তাই তিন মাস পর রিপোর্টিং চাইব না। এটাকে ছয় মাসে নিয়ে যাব, পরে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সময়ে হবে।”
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত হয়ে শুধুমাত্র বছর শেষে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে তিন মাস পরপর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হয়।
তিনি আর্থিক প্রতিবেদন মূল্যায়নে কমিশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুলস ব্যবহারের বিষয়ে দুটি দিক তুলে ধরেছেন। এই ব্যবস্থার ফলে আইপিও (প্রাথমিক গণ প্রস্তাব) প্রক্রিয়ার আবেদন দ্রুত শেষ করা সহজ হবে বলেও তিনি মনে করেন।
এ সময় বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেছেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে যে যার কাজ করবে।
“রোড শো করার কাজটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার না। বাজার তদারকি করাও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ না। আমাদের কাজ হলো নীতিমালা তৈরি ও সহজতর করা, আমরা তা করব।”
তিনি স্টক এক্সচেঞ্জের স্টাফদের সন্ত্রাস প্রতিহতের জন্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ হলো সমস্যার সমাধান করা। আমি করপোরেট খাত থেকে এসেছি।
বর্তমান আইপিও প্রক্রিয়ার অকার্যকরিতার কথা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, “এটাতে আইপিও হতে পারেন না। আমরা তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া আরো সহজ করব।”
তিনি আরও বলেন, খরচ বেশি হওয়ার কারণে অনেকেই বাজারে তালিকাভুক্ত হতে আসছেন না। বাজেটের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পুঁজিবাজারের শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি সময় ‘টি প্লাস শূন্যতে’ নামিয়ে আনার কথা বললেও কিছু সমস্যা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বিএসইসি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন।
অনুষ্ঠানে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অতীতে রোডশো’র নামে বিএসইসি কর্মকর্তারা ‘জোর করে টাকা নিয়ে বিদেশে খরচ করছে’।
“রোড শো করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ না। এটি স্টক এক্সচেঞ্জেরও কাজ না।”
এছাড়া, তিনি সিসিবিএল প্রতিষ্ঠায় ৩০০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপকদের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন মডেল করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ উল্লেখ করেছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির এজিএম করার আগে ‘টাকা দিতে হয়’।
এই বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, “আগে যখন স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে এজিএম হতো তখন অনেকেই নানাভাবে কোম্পানিকে চাপে রাখতেন।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন