ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকায় আতিফ আসলাম, ভক্তদের জন্য দিলেন বিশেষ ঘোষণা


ঢাকায় আতিফ আসলাম, ভক্তদের জন্য দিলেন বিশেষ ঘোষণা

দীর্ঘদিন পর, নিজস্ব পছন্দের গান নিয়ে নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের অতি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। ঢাকায় এসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী ৩১ জুলাই তার নতুন অ্যালবাম ‘সুবাহ আয়ে না’ প্রকাশ পাবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে প্রতি বছর একটি করে নতুন অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানী ঢাকার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা বিমানবন্দর হোটেলে বিকেল সাড়ে ৪টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আতিফ আসলাম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি চলচ্চিত্রের গান, মঞ্চে পরিবেশন এবং রেকর্ডিং নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে নিজের লেখা ও সুর করা গান প্রকাশের জন্য সময় পাননি। তবে এই সময়ের মধ্যে তিনি নিয়মিত নতুন গান লিখেছেন এবং সুর তৈরি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি মূলত চলচ্চিত্রের জন্য গান গেয়েছি। কিন্তু অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, আমার পছন্দের গানগুলো প্রকাশ করা আমার উপর দায়িত্ব। তাই এবার সে কাজটি করছি। আল্লাহ চাইলে এবার থেকে প্রতি বছর একটি করে অ্যালবাম প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

আতিফ জানিয়েছেন, সুবাহ আয়ে না অ্যালবামটিতে মোট আটটি গান থাকবে। প্রায় আট বছরের পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এই অ্যালবাম তৈরি হয়েছে। এতে রাজ, শিরাজ উপ্পল, আহসান পারভেজ মেহেদীসহ আরও কয়েকজন সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক কাজ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ঢাকার কনসার্টে নতুন অ্যালবামের কোনো গান পরিবেশন করবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, অ্যালবাম প্রকাশের আগে নতুন কোনো গান গাইবেন না। তবে অ্যালবাম প্রকাশের পর আবার বাংলাদেশে এসে নতুন গান শোনানোর আশা প্রকাশ করেন।

আসন্ন কনসার্ট সম্পর্কে আতিফ বলেন, তার প্রথম প্রার্থনা যেন তখন বৃষ্টি না হয়। তবুও, যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে দর্শকদের সঙ্গে সেই পরিবেশ আরো উপভোগ্য হয়ে উঠবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আগেরবারের তুলনায় এবারের কনসার্টে ভিন্ন ধরনের আয়োজন থাকবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশের খাবারের জন্য তার প্রশংসাও কুড়ান। তিনি বলেন, খিচুড়ি, মালাই চা ও বিরিয়ানি তার মধ্যে অনেক প্রিয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেলেও তিনি বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করতে ভুলেন না। কেউ ভালো খাবারের পরামর্শ চাইলে বাংলাদেশে এসে খাবার খাওয়ার পরামর্শও দেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বাংলাদেশের সংগীত সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লার প্রশংসা করেন আতিফ। তিনি জানালেন, একটি সংগীত প্রতিযোগিতায় রুনা লায়লার সঙ্গে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে কিংবদন্তি উল্লেখ করে বলেছেন, তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ।

বাংলাদেশের দর্শকদের প্রতি বিশেষ ভালোবাসার কথা জানান এই শিল্পী। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে কনসার্ট করলে বাংলাদেশে দর্শকদের মতো উচ্ছ্বাস কমই দেখা যায়। বিশেষ করে তার জনপ্রিয় গান ‘আদাত’ যখন হাজারো দর্শক একসাথে গেয়ে ওঠেন, সেই মুহূর্তটি সবসময় তার স্মরণীয় হয়ে থাকে।

আতিফ আসলাম বাংলা ভাষায় গান গাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান। তবে, ভাষার উচ্চারণ পুরোপুরি আয়ত্ত না করে বাংলা গান গাইতে চান না বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, তিনি বাংলা ভাষার প্রতি কোনোভাবেই অসম্মান করতে চান না।

তিনি আরও জানান, এর আগে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রের জন্য ‘মিঠে আলো’ শিরোনামের গান গেয়েছিলেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র ও সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে নতুন কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তার।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

নিজের সংগীতজীবনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আতিফ বলেন, বিশেষত মন খারাপের সময়গুলোতে তিনি সবচেয়ে বেশি গান লেখেন। তার মতে, সেই সময়েই সৃষ্টিশীলতা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে। আর নতুন অ্যালবাম সুবাহ আয়ে না নিয়েই তিনি সবচেয়ে বেশি গর্বিত। কারণ, এই অ্যালবামটির প্রতিটি গান তার হৃদয় ও আত্মা থেকে তৈরি।

সবশেষে, বাংলাদেশের শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার সবচেয়ে বড় শ্রোতাগোষ্ঠী একটি বাংলাদেশে। তাই এ দেশের মানুষের প্রতি তিনি সবসময় বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

উল্লেখ্য, বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকায় পৌঁছান আতিফ আসলাম। আগামী ২৪ জুলাই রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ে বিকেল ৫টায় তার সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজন ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাসচিব অপসারণের পর মোদির বার্তা, গতি বদলাচ্ছে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৮ পি.এম


শিক্ষাসচিব অপসারণের পর মোদির বার্তা, গতি বদলাচ্ছে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন?

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান এ আন্দোলন এরই মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বেশ কিছু রাজনৈতিক দলও তাদের এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। তবে, মাঝপথে এসে আন্দোলনের মধ্যে একটি নতুন মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গভীর রাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রাতেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বিনীত জোশীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় মোদি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের বিধান এবং কঠোর শাস্তির প্রস্তাবসহ একটি খসড়া বিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া পোস্টে মোদি লিখেছেন, আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই উল্লেখ করে ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, আমি জানি, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় একাধিক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হতে না দেওয়া। তাই অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে এবং সম্প্রতি ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে।

মোদি আরও বলেন, আমরা এখানেই থেমে থাকছি না। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। তারা রাতভর কাজ করে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। এতে দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আগামীকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত যুক্ত করে বিলটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং সংসদের চলতি অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এটি দ্রুত পাস করানোর চেষ্টা করা হবে।

মোদির এমন প্রতিশ্রুতির পরে ২৭ দিনের মাথায় হাসপাতালের খাটে বসেই অনশন প্রত্যাহার করেছেন ওয়াংচুক। ওই সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো। হাসপাতালের ভেতর গিয়ে ওয়াংচুকের অনশন ভাঙান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহ। অনশন প্রত্যাহারের পর ওয়াংচুককে উত্তরীয় পড়িয়ে সম্মান জানান হাসপাতালের উপস্থিত বেশ কয়েকজন।

সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পোস্টে সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতে এবং দ্রুত তার পুরোনো স্বাস্থ্য ও ওজন ফিরে পেতে সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

সকলের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলা বিনীত জোশীকে সরিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নরেশ গাঙ্গোয়ার। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনও আছেন বহাল তবিয়তে। আর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্যতম দাবি তাকে অপসারণ করতে হবে। তাই দাবি সম্পূর্ণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে এখনও অটল আছে সিজেপি।

এমনকি আন্দোলনকারীদেরকে আলোচনায় বসানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে মোদি সরকার। সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভেঙে যাওয়ার পর সেই আলোচনার পথ এখন অনেকটা সহজ হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে মোদির সকল প্রতিশ্রুতিকে ভণ্ডামি বলে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ও পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করে তার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি তুলেছে কংগ্রেস ও বিরোধী অন্য কয়েকটি দল। গত মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর রাহুল গান্ধী এমনকি দাবি করেছেন, পুলিশ সদস্যরা তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে তার কানে কানে সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তরুণদের শিক্ষা সংস্কারের আন্দোলনে ঢুকে রাহুল গান্ধীর এমন ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়ে দিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদাতা সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের জবাবে রাহুল গান্ধীর আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এই পরিবেশ আন্দোলনকর্মী।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করে গীতাঞ্জলি বলেন, ২১ জুলাইয়ের এই আন্দোলন ছিল কেবল ‘অসৎ ও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা। রাজনীতিকরণ না করে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে সরাসরি দাঁড়ানো উচিত ছিল কংগ্রেস নেতাদের।’

গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক ও তার সুনামকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সাধারণ জনগণ ও তরুণ সমাজকে আর বোকা বানানো যাবে না।

সব মিলিয়ে ভারতে চলমান আন্দোলনে দ্বিধাবিভক্তির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে মাঝপথে এসে। ধারণা করা হচ্ছে, আন্দোলন নেতা ওয়াংচুক কিছুটা শিথিল করেছেন নিজের অবস্থান। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় তাকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এতে অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সিজেপি এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। সম্পূর্ণ দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের এ প্লাটফর্ম। আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও দেশের জনগণের সমর্থনও চেয়েছে তারা। ফলে, কেন্দ্রের আলোচনার আহ্বান ও সংসদে আলোচনা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা এলেও এখনও মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসেনি আন্দোলন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্যান চালিয়ে জীবিকা, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার আলো দেখাচ্ছেন সেলিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪১ পি.এম


ভ্যান চালিয়ে জীবিকা, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার আলো দেখাচ্ছেন সেলিম

শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে ভ্যানচালক বাবা শহর থেকে গ্রামে ঘুরেছেন। কিন্তু কোনো স্কুল মেয়েটিকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। শেষে উপায় না পেয়ে, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজ গ্রামে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার আলো পাচ্ছে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন। ভ্যানচালক সেলিম মিয়ার এমন উদাহরণ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সরেজমিনে মাদারীপুরের রাজৈরের প্রত্যন্ত এলাকা শাখারপাড়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মত গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে দলবেঁধে বাচ্চারা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করছে। তাদের মধ্যে কেউ ১২ বছর বয়সী, আবার কেউ ১৫ বছর।

২০১৮ সালে ভ্যানচালক সেলিম মিয়া প্রতিষ্ঠা করেন এই প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি। দুই বছর পরে তিনি নিজ অর্থায়নে ২০ শতাংশ জমি কিনে টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। শুরুতে তেমন শিক্ষার্থী ছিল না, কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ে দু'শর বেশি প্রতিবন্ধী শিশু লেখাপড়া করছে। এখানে ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নকশিকাঁথা, মোমবাতি ও এলইডি বাল্ব তৈরি এবং সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, সেলিম মিয়ার গড়া বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ভর্তির পর অভিভাবকেরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে খুশি হয়েছেন। কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে আসার পর তাদের সন্তানের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে তারা কারও সঙ্গে মিশত না, কিন্তু এখন খেলাধুলা করে এবং কথা বলে। বাসায় একা থাকতে ভয় পেত, সেই ভয়টিও চলে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সেলিম মিয়া বলেন, ইচ্ছেশক্তি এবং মনোবল থাকার কারণেই তিনি এই বিদ্যালয়টি তৈরি করতে পেরেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পান না। তাদের পরিবার রয়েছে এবং সংসার রয়েছে। সরকারের যদি একটু নজর দিত, তবে বিদ্যালয়টি আরও সফল হতে পারবে।

সহকারী শিক্ষক তাপসী আক্তার বলেন, আমি ৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে কাজ করছি। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু মোড় ফিরিয়ে তাকাত, তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তার বলেন, আমাদের বাচ্চাদের বিনা বেতনে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচও প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া ہوছে। কিন্তু এখন এটি চালাতে পারছে না। সরকারের দ্বারা যদি কোনো বরাদ্দ বা জাতীয়করণ করা না হয়, তবে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে এই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে আবেদন করা হলেও, তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এটি এমপিওভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে যা বললেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে যা বললেন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জনের মাঝে নির্ধারিত বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে পা দিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হল তাকে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতেই থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করলেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে তাকে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের উত্তর দেন স্পিকার।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। ব্যক্তিগত চিকিৎসা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরে এসেছেন তিনি।

স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করলো, কী করলো, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারবো।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই হলো সংবিধানের পজিশন।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। তিনি পদত্যাগ করলে সেই অনুযায়ী তারপর যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা থাকে, সেই জায়গাতে... এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।’

নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসার কথা ছিল ২৬ তারিখে। আমার ব্যক্তিগত কাজ, আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যই আমি এসেছি।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপর বর্তাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এটা একটা ট্র্যাডিশন। দেশের সংবিধানে লেখা আছে, যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন স্পিকার অ্যাক্টিং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়।’

চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে, এরই মধ্যে অনেকটা আকস্মিকভাবে করেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়ায়— পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি। তার মধ্যে স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।

দেশে এর আগে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৮ দিন এ দায়িত্বে ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া বেগম (৪৪) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

তিনি রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মৃত্যুবরণ করেছেন।

আলেয়া বেগম ছিলেন মিজানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাগমারা গ্রামের খোরশেদ আলীর কন্যা। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনি কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২২ জুলাই) রাজবাড়ী জেলার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা তার ডেঙ্গুসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোরে তার মৃত্যু ঘটে। পরে পরীক্ষার রিপোর্টে তার ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আলেয়া বেগমের ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তিনি মারা যান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%