ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভ্যান চালিয়ে জীবিকা, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার আলো দেখাচ্ছেন সেলিম


ভ্যান চালিয়ে জীবিকা, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার আলো দেখাচ্ছেন সেলিম

শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে ভ্যানচালক বাবা শহর থেকে গ্রামে ঘুরেছেন। কিন্তু কোনো স্কুল মেয়েটিকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। শেষে উপায় না পেয়ে, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজ গ্রামে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার আলো পাচ্ছে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন। ভ্যানচালক সেলিম মিয়ার এমন উদাহরণ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সরেজমিনে মাদারীপুরের রাজৈরের প্রত্যন্ত এলাকা শাখারপাড়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মত গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে দলবেঁধে বাচ্চারা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করছে। তাদের মধ্যে কেউ ১২ বছর বয়সী, আবার কেউ ১৫ বছর।

২০১৮ সালে ভ্যানচালক সেলিম মিয়া প্রতিষ্ঠা করেন এই প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি। দুই বছর পরে তিনি নিজ অর্থায়নে ২০ শতাংশ জমি কিনে টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। শুরুতে তেমন শিক্ষার্থী ছিল না, কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ে দু'শর বেশি প্রতিবন্ধী শিশু লেখাপড়া করছে। এখানে ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নকশিকাঁথা, মোমবাতি ও এলইডি বাল্ব তৈরি এবং সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

জানা গেছে, সেলিম মিয়ার গড়া বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ভর্তির পর অভিভাবকেরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে খুশি হয়েছেন। কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে আসার পর তাদের সন্তানের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে তারা কারও সঙ্গে মিশত না, কিন্তু এখন খেলাধুলা করে এবং কথা বলে। বাসায় একা থাকতে ভয় পেত, সেই ভয়টিও চলে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সেলিম মিয়া বলেন, ইচ্ছেশক্তি এবং মনোবল থাকার কারণেই তিনি এই বিদ্যালয়টি তৈরি করতে পেরেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পান না। তাদের পরিবার রয়েছে এবং সংসার রয়েছে। সরকারের যদি একটু নজর দিত, তবে বিদ্যালয়টি আরও সফল হতে পারবে।

সহকারী শিক্ষক তাপসী আক্তার বলেন, আমি ৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে কাজ করছি। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু মোড় ফিরিয়ে তাকাত, তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তার বলেন, আমাদের বাচ্চাদের বিনা বেতনে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচও প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া ہوছে। কিন্তু এখন এটি চালাতে পারছে না। সরকারের দ্বারা যদি কোনো বরাদ্দ বা জাতীয়করণ করা না হয়, তবে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

২০২০ সালের জানুয়ারিতে এই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে আবেদন করা হলেও, তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এটি এমপিওভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে যা বললেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে যা বললেন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জনের মাঝে নির্ধারিত বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে পা দিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হল তাকে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতেই থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করলেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে তাকে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের উত্তর দেন স্পিকার।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। ব্যক্তিগত চিকিৎসা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরে এসেছেন তিনি।

স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করলো, কী করলো, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারবো।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই হলো সংবিধানের পজিশন।’

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। তিনি পদত্যাগ করলে সেই অনুযায়ী তারপর যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা থাকে, সেই জায়গাতে... এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।’

নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসার কথা ছিল ২৬ তারিখে। আমার ব্যক্তিগত কাজ, আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যই আমি এসেছি।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপর বর্তাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এটা একটা ট্র্যাডিশন। দেশের সংবিধানে লেখা আছে, যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন স্পিকার অ্যাক্টিং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়।’

চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে, এরই মধ্যে অনেকটা আকস্মিকভাবে করেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়ায়— পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি। তার মধ্যে স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করে।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।

দেশে এর আগে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৮ দিন এ দায়িত্বে ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া বেগম (৪৪) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

তিনি রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মৃত্যুবরণ করেছেন।

আলেয়া বেগম ছিলেন মিজানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাগমারা গ্রামের খোরশেদ আলীর কন্যা। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনি কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২২ জুলাই) রাজবাড়ী জেলার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা তার ডেঙ্গুসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোরে তার মৃত্যু ঘটে। পরে পরীক্ষার রিপোর্টে তার ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আলেয়া বেগমের ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তিনি মারা যান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলের জালে মিলল সৌন্দর্যময় সোলজারফিশ, এলাকায় চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


জেলের জালে মিলল সৌন্দর্যময় সোলজারফিশ, এলাকায় চাঞ্চল্য

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে একটি সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়েছে, যার নাম সোলজারফিশ (Soldierfish)। মাছটি আলাদা আকর্ষণীয় লালচে বর্ণ ও ভিন্নধর্মী গঠনের কারণে আলীপুর মৎস্য বন্দরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস জানিয়েছেন, এটি তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মাছটি বন্দরে নিয়ে আসার পর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে। মাঝি ইদ্রিস জানান, মাছটি জালে উঠে আসায় তীরে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, "দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।"

মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম জানান, মাছটির সৌন্দর্য এতটাই প্রচুর যে, তাই বরফে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তিনি বলেন, "আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি।"

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত 'সুস্থ সাগর' প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, সোলজারফিশের বৈজ্ঞানিক নাম Myripristis murdjan। এটি Holocentridae পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, সাধারণত ৫ থেকে ২০০ মিটার গভীরতায় প্রবালপ্রাচীর, পাথুরে তলদেশ ও গুহাময় এলাকায় এ মাছ বসবাস করে। দিনে আশ্রয়ে থাকলেও রাতের বেলায় খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। ছোট মাছ, চিংড়ি, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী এ মাছের প্রধান খাদ্য। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের উপকূলে এটি খুব ঘন ঘন ধরা না পড়লেও বৈশ্বিকভাবে এ মাছ বিরল নয়। কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানিয়েছেন, সোলজারফিশ মূলত গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে পরিবেশে বসবাসকারী একটি সামুদ্রিক প্রজাতি। তিনি বলেন, "আমাদের উপকূলীয় জেলেদের জালে এটি খুব কম ধরা পড়ে। তাই স্থানীয়ভাবে এটি মানুষের কাছে অপরিচিত। এ ধরনের মাছ ধরা পড়া বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। জেলেদের এমন ভিন্নধর্মী বা অচেনা প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত, যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যায়।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বিএসএফের দুই ব্যাটেলিয়নে সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ২ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বিএসএফের দুই ব্যাটেলিয়নে সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ২ সদস্য

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দুই ব্যাটেলিয়নের সদস্যদের মধ্যে গণ্ডগোলের কারণে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বাহিনীর দুই সদস্য। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন একই ব্যাটেলিয়নের আরও একজন সদস্য।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ জেলার বৈষ্ণবনগর বিএসএফ ক্যাম্পে ঘটে। এদিন ক্যাম্পের ১১৯ নম্বর ও ৭১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কিছু সদস্যের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়, এর পরেই গুলি চলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বিএসএফের ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর রাজশাহী সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ জেলার বৈষ্ণবনগরে অবস্থিত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সেখানেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দুই ব্যাটেলিয়নের কয়েকজন বিএসএফ সদস্য। এরপর ১১৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সদস্য শিবম মিশ্র সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। তিনি ছত্তিশগড় রাজ্যের বাসিন্দা। তার গুলিতেই মৃত্যু হয় ৭১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের দুই বিএসএফ সদস্যের। গুরুতর আহত হন একই ব্যাটেলিয়নের আরও একজন সদস্য।

নিহত দুজনের নাম অজয় কুমার সিং (বয়স ৫১) ও আম্বদর সুরেশ দরগু (৩৭) বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অন্যজনের নাম বিকাশ ব্রম্ম (৪৪)। বর্তমানে তিনি মালদাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। নিহত দুই বিএসএফ সদস্যের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে বিএসএফ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে, বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জওয়ানরা বিশ্রাম নেয়ার সময় আচমকা সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে অভিযুক্ত শিবম। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ছিল এবং সেই ঘটনায় বিএসএফের নিজস্ব আইনে তার শাস্তিও হয়েছিল। দিন কয়েক আগে সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়। সম্প্রতি তাকে বাড়ি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবুও আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃতি ঘটেছে।

অবশ্য, ঠিক কী কারণে ওই বিএসএফ সদস্য গুলি চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিবাদ, মানসিক অবসাদ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ, বিএসএফের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

বিএসএফের মালদাহ সেক্টরের ডিআইজি সুরেন্দ্র কুমার ঝা জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশও।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%