০২:৪১ পি.এম
শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে ভ্যানচালক বাবা শহর থেকে গ্রামে ঘুরেছেন। কিন্তু কোনো স্কুল মেয়েটিকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। শেষে উপায় না পেয়ে, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজ গ্রামে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার আলো পাচ্ছে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন। ভ্যানচালক সেলিম মিয়ার এমন উদাহরণ বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সরেজমিনে মাদারীপুরের রাজৈরের প্রত্যন্ত এলাকা শাখারপাড়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মত গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে দলবেঁধে বাচ্চারা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করছে। তাদের মধ্যে কেউ ১২ বছর বয়সী, আবার কেউ ১৫ বছর।
২০১৮ সালে ভ্যানচালক সেলিম মিয়া প্রতিষ্ঠা করেন এই প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি। দুই বছর পরে তিনি নিজ অর্থায়নে ২০ শতাংশ জমি কিনে টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। শুরুতে তেমন শিক্ষার্থী ছিল না, কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ে দু'শর বেশি প্রতিবন্ধী শিশু লেখাপড়া করছে। এখানে ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নকশিকাঁথা, মোমবাতি ও এলইডি বাল্ব তৈরি এবং সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জানা গেছে, সেলিম মিয়ার গড়া বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ভর্তির পর অভিভাবকেরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে খুশি হয়েছেন। কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে আসার পর তাদের সন্তানের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগে তারা কারও সঙ্গে মিশত না, কিন্তু এখন খেলাধুলা করে এবং কথা বলে। বাসায় একা থাকতে ভয় পেত, সেই ভয়টিও চলে গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সেলিম মিয়া বলেন, ইচ্ছেশক্তি এবং মনোবল থাকার কারণেই তিনি এই বিদ্যালয়টি তৈরি করতে পেরেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পান না। তাদের পরিবার রয়েছে এবং সংসার রয়েছে। সরকারের যদি একটু নজর দিত, তবে বিদ্যালয়টি আরও সফল হতে পারবে।
সহকারী শিক্ষক তাপসী আক্তার বলেন, আমি ৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে কাজ করছি। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু মোড় ফিরিয়ে তাকাত, তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তার বলেন, আমাদের বাচ্চাদের বিনা বেতনে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের খরচও প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া ہوছে। কিন্তু এখন এটি চালাতে পারছে না। সরকারের দ্বারা যদি কোনো বরাদ্দ বা জাতীয়করণ করা না হয়, তবে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
২০২০ সালের জানুয়ারিতে এই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে আবেদন করা হলেও, তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিদ্যালয়ের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়টির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এটি এমপিওভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন