০৪:৪৪ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল এমপি। আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে। বৈঠকে আলোচনা হয় অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, রোহিঙ্গা ইস্যু, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা, জনশক্তি রফতানি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে। এর ফলে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে। প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বর্তমান সরকার সু-শাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ (People-to-People links) দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার মনে করে এবং দুই দেশের এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও বিকশিত হবে।
বৈঠকে ইউরোপসহ বিভিন্ন রুটে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সম্প্রতি ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬’ পাস হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে বাংলাদেশের সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি বালি প্রসেসের রূপরেখা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন মানবপাচার বিরোধী আইনের প্রশংসা করেন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে কারিগরি ও সমন্বিত সহায়তার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, একটি সু-শৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের মসৃণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি।
এসময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৪-১৮ জুন ২০২৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নিয়মিত অভিবাসন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক মানবপাচার প্রতিরোধসহ দ্বি-পাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিষয়টি যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলকে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল, সহকারী মন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ক্যামেরন গ্রিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড. ডেমিয়ান অলিভার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মিনিস্টার-কাউন্সিলর (শিক্ষা ও গবেষণা) জর্জ থিভিওস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক স্টিভেন বিডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন