শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৭ পি.এম
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ থেকে শুক্রবার সকাল ৮ পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ১ হাজার ১৫৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিস্তারিত আসছে...
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলকভাবে কম, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগোচ্ছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার ছিলেন। মোট বেকার মানুষের মধ্যে প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের শিকার ছিলেন।
বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কোনো অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেই। অতীতে এত বড়সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় বেকার থাকলে সাধারণত বেকারত্বের হারও বেশি থাকত এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকত বা সেখান থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে থাকত।
ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা জেরেমি স্পিগেলের অভিজ্ঞতা এই দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের চাকরি হারানোর পর তিনি নতুন কাজের সন্ধান শুরু করেন। দুই দশকের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় দুই বছর ধরে চাকরি খুঁজছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না পাওয়ার কারণে এখন তিনি নিজেকেও প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন।
স্পিগেল জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার মনে হয়েছে, হয়তো সমস্যাটি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। তার পরিবারের একজন সদস্য পর্যন্ত প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করেছেন সেখানে কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না। চাকরি খোঁজার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি কখনো কখনো সামাজিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলেন।
দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের কারণ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে দায়ী করছেন, কেউ বয়সভিত্তিক বৈষম্যের কথা বলছেন। আবার কেউ এমন চাকরির বিজ্ঞাপনের বিষয়টি সামনে আনছেন, যেগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে নিয়োগের উদ্যোগ নেই। তবে এসব বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ওফার শ্যারোন দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তার মতে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক কারণ খুঁজে পান না, তখন তারা নিজেদের মধ্যেই সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করেন। এতে আত্মদোষারোপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খোঁজার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।
ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা জন ম্যাককার্টিও দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০২২ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি হারানোর পর তিনি ১৮ মাস ধরে নতুন কাজ খুঁজেছেন। পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে কারিগরি কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে একটি খুচরা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।
ম্যাককার্টি জানান, কয়েকটি চাকরির ক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিক ফোন ও কারিগরি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ভিডিও সাক্ষাৎকারের পর তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একের পর এক প্রত্যাখ্যানের পর তার মনে হয়েছে, বয়স হয়তো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, বয়সকে কারণ হিসেবে ভাবাটা বাস্তবতা নাকি দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার একটি উপায়।
ওফার শ্যারোন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য আশা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি চাকরিসন্ধান একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু সমস্যার কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সেই আশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে দীর্ঘ সময় চাকরি খোঁজার পর কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত কাজে ফিরতে পারছেন। কিন্তু নতুন চাকরি পেলেও অনেকের ক্ষেত্রে আগের কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরি গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ কাজ খোঁজা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন।
কিম্বারলি ম্যাকক্লেইন ২০২৪ সালে একটি ছোট অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পর দ্রুত নতুন কাজ পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো চাকরির প্রস্তাব না পাওয়ায় তিনিও নিজের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ-নিষেধ তালিকায় তিনি আছেন কি না, সেটিও ভাবতে শুরু করেছিলেন।
চাকরি খোঁজা শুরুর প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি একটি কল সেন্টারে পূর্ণকালীন গ্রাহকসেবা পেশায় চাকরি পেয়েছেন ম্যাকক্লেইন। তবে নতুন চাকরিতে তার আয় আগের চাকরির প্রায় অর্ধেক। তারপরও দীর্ঘ সময়ের প্রত্যাখ্যানের পর একটি চাকরির প্রস্তাব পাওয়াকে তিনি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এখন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, জুলাইয়ে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা আগের মাসের ১৯ লাখ থেকে কিছুটা কমে ১৮ লাখে দাঁড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য।
আগামী দিনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগে আরও আত্মবিশ্বাসী হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আবার অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হলে বর্তমান চাকরির বাজার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা অনেক মানুষকে পেশা পরিবর্তন, কম বেতনের কাজ গ্রহণ অথবা চাকরির সন্ধান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সোমেশ্বরী ব্রিজের নিচ দিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ সময় ধরে পানি, কাদা ও মাটির কারণে বেহাল অবস্থায় ছিল। এর ফলে প্রতিদিন পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে দেন।
সোমেশ্বরী ব্রিজের নিচ দিয়ে যাওয়া এই সড়কটি দুর্গাপুরের সঙ্গে বিরিশিরি ও বাকলজোড়া ইউনিয়নের মানুষের এবং ডেউটুন ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই সড়কটি ব্যবহার করে দুই ইউনিয়নসহ উপজেলার অসংখ্য মানুষ সরাসরি নেত্রকোনা জেলা শহরে যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের নিচে সড়কের ওঠা-নামার সংযোগস্থলে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকার কারণে সেখানে কাদা ও মাটির স্তর তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। এর ফলে পথচারী এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনগুলোও ঝুঁকি নিয়ে ওই অংশ পার হতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
তবে সড়কটির ওই অংশে স্থায়ীভাবে সরাসরি সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। সংযোগস্থলের পাশেই একটি বড় খেলার মাঠ অবস্থিত। ওই মাঠটি পিসিনল স্কুল কর্তৃপক্ষের হওয়ায় ইচ্ছামতো সড়ক সম্প্রসারণ বা সরাসরি সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় ছিল।
এদিকে জনসাধারণের দুর্ভোগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ডেপুটি স্পিকার মহোদয়ের নির্দেশনায় আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টারের নেতৃত্বে সড়কটির বেহাল অংশে সুরকি ও মাটি ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে আপাতত সড়কটি চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে এসেছে।
ডেপুটি স্পিকার সড়কটির শুধু সাময়িক সংস্কারেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তিনি পিসিনল স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিভাবে খেলার মাঠের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা যায়, সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, স্থায়ীভাবে সড়কটির সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হলে দুর্গাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি বিরিশিরি ও বাকলজোড়া ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্বস্তি আসবে। একই সঙ্গে নেত্রকোনা জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে দেওয়ার জন্য স্থানীয়রা ডেপুটি স্পিকার মহোদয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয় দিয়ে কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ৬ শিক্ষককে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যে, পৃথক মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে এসব ফোন করা হয়েছে। ফলে শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা চেয়ে পাঁচ শিক্ষকের পক্ষে বোয়ালমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের শিক্ষক পরেশ কুমার পাল।
জিডির অভিযোগে পরেশ কুমার পাল উল্লেখ করেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে অবস্থানকালে তার মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি ‘সর্বহারা পার্টির’ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ‘সিরাজ সিকদারের ছোট ভাই মহিউদ্দিন সিকদারের সঙ্গে কথা বলেন’ বলেও দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনদাতা প্রথমে এক লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৫ হাজার ৫০০ টাকা ‘টোকেন মানি’ হিসেবে দাবি করেন। চাঁদার অর্থ দ্রুত পাঠানোর জন্য চাপ দিয়ে বলা হয়, ‘চা-পানের দোকানিরাও টোকেন মানি দিয়ে সহায়তা করে। আমাদের সহকর্মীদের জেল থেকে মুক্ত করতে টাকা প্রয়োজন।’ টাকা না দিলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।
পরেশ কুমার পাল জানান, সম্প্রতি রংপুরে পরিবারসহ এক শিক্ষক হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের ফোন ও হুমকি পেয়েছেন কলেজের শিক্ষক নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার সাহা ও দেবাশীষ রায়। তাদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দেবাশীষ রায় বলেন, তাকে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে ফোনদাতা তার ছেলের পায়ে গুলি লাগলে যেভাবে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা করবেন সেভাবে পরিচিত জনদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পাঠাতে বলেন। একই সঙ্গে ‘চরমপন্থা নিতে বাধ্য করবেন না’ বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
নিলয় কুমার সাহার ভাষ্য, ফোনদাতারা তাদের ‘সহকর্মীদের’ কারাগার থেকে জামিনে ছাড়াতে অর্থের প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করেন। তাকেও পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কলেজটির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্করও একই ধরনের ফোন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দিন আগে তাকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কে তিনি ফোনদাতাদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।
একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষককে বেছে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুমকিদাতাদের কথিত সংগঠনের পরিচয় সত্য কিনা, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কিনা এবং কেন একই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু একাধিক শিক্ষককে লক্ষ্য করা হয়েছে- এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
অভিযোগকারী শিক্ষক পরেশ কুমার পাল বলেন, ‘হুমকির কারণে আমরা ও আমাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় হামলা বা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটতে পারে- এমন আশঙ্কা করছি।’
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসনেয়ারা বেগমকে একাধিকবার ফোন করেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, চরমপন্থি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো প্রতারক চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে হুমকিদাতাদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় শিক্ষকরা দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অবৈধভাবে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও দখলে রয়েছে। এ কারণে, হাইকোর্ট ওই শেয়ারগুলো ৩ মাসের জন্য অবরুদ্ধ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত। এটি ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ১৪ক ও ১৪খ ধারা লঙ্ঘনের সাথে সম্পর্কিত।
গত ৩০ আগস্ট, বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. লুৎফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট পিটিশনের শুনানি শেষে এ রুল ও আদেশ জারি করেন।
রুলে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪ক(৩) ধারা অনুযায়ী কেন উদ্বৃত্ত শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
'ইসলামিক ইকনোমিক রিসার্চ ব্যুরো' (আইইআরবি), ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার, এ রিট দায়ের করেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আবেদনকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো একক পরিবার বা গ্রুপ কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার রাখতে পারে না।
রিট পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
আইনে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করার স্পষ্ট বিধান রয়েছে, রিটকারী জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী আদেশের অংশ হিসেবে হাইকোর্ট ওই ২৪ প্রতিষ্ঠানের নামে ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ৩ মাসের জন্য ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ