প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয় দিয়ে কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ৬ শিক্ষককে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যে, পৃথক মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে এসব ফোন করা হয়েছে। ফলে শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা চেয়ে পাঁচ শিক্ষকের পক্ষে বোয়ালমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের শিক্ষক পরেশ কুমার পাল।
জিডির অভিযোগে পরেশ কুমার পাল উল্লেখ করেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে অবস্থানকালে তার মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তিনি ‘সর্বহারা পার্টির’ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ‘সিরাজ সিকদারের ছোট ভাই মহিউদ্দিন সিকদারের সঙ্গে কথা বলেন’ বলেও দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনদাতা প্রথমে এক লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৫ হাজার ৫০০ টাকা ‘টোকেন মানি’ হিসেবে দাবি করেন। চাঁদার অর্থ দ্রুত পাঠানোর জন্য চাপ দিয়ে বলা হয়, ‘চা-পানের দোকানিরাও টোকেন মানি দিয়ে সহায়তা করে। আমাদের সহকর্মীদের জেল থেকে মুক্ত করতে টাকা প্রয়োজন।’ টাকা না দিলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।
পরেশ কুমার পাল জানান, সম্প্রতি রংপুরে পরিবারসহ এক শিক্ষক হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের ফোন ও হুমকি পেয়েছেন কলেজের শিক্ষক নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার সাহা ও দেবাশীষ রায়। তাদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দেবাশীষ রায় বলেন, তাকে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে ফোনদাতা তার ছেলের পায়ে গুলি লাগলে যেভাবে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা করবেন সেভাবে পরিচিত জনদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে পাঠাতে বলেন। একই সঙ্গে ‘চরমপন্থা নিতে বাধ্য করবেন না’ বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
নিলয় কুমার সাহার ভাষ্য, ফোনদাতারা তাদের ‘সহকর্মীদের’ কারাগার থেকে জামিনে ছাড়াতে অর্থের প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করেন। তাকেও পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কলেজটির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন লস্করও একই ধরনের ফোন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই দিন আগে তাকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। আতঙ্কে তিনি ফোনদাতাদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।
একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষককে বেছে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুমকিদাতাদের কথিত সংগঠনের পরিচয় সত্য কিনা, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কিনা এবং কেন একই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু একাধিক শিক্ষককে লক্ষ্য করা হয়েছে- এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
অভিযোগকারী শিক্ষক পরেশ কুমার পাল বলেন, ‘হুমকির কারণে আমরা ও আমাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় হামলা বা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটতে পারে- এমন আশঙ্কা করছি।’
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসনেয়ারা বেগমকে একাধিকবার ফোন করেও কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, চরমপন্থি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো প্রতারক চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে হুমকিদাতাদের পরিচয় ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় শিক্ষকরা দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন