মোঃ আব্দুল মোছাব্বির মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
০২:১০ পি.এম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ পিস ইয়াবা ও ২০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই যুবককে আটক করেছে মধ্যনগর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাবুদ্দিন শাহীনের দিকনির্দেশনায় এসআই নবী হোসেন ও এএসআই নূরুল আমিনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ মধ্যনগর-ধর্মপাশা সড়কে চেক পোস্ট বসিয়ে দেহ তল্লাশি করে হৃদয় মিয়া (২৯) পিতা শান্ত মিয়া, আসিক মিয়া (২১) পিতা ফারুক মিয়া, নামে দুইজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা চামড়দানি ইউনিয়নের বিছড়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০ গ্রাম গাঁজা ও একটি মোটরবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ধারা ৩৬, (১০ক)(১৯ক) ৩৮/৪১ এবং মামলা নং ০৩ রজু করে আদালতের মাধ্যমে আসামীদ্বয়কে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
মধ্যনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক নির্মূলে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে দুই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে চকবাজারের উর্দু রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দবির আহমেদের (৫০) গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার চাটমোহর থানার অষ্ট মিনসা গ্রামে। বর্তমানে তিনি কামরাঙ্গীরচরের মাহাদিনগর এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
রতন নামের একজন ব্যক্তি দবিরকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, বিকেলে স্থানীয় মসজিদের সামনে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় অটোরিকশার চালক দবির গুরুতর আহত হন। পরে অন্য রিকশাচালক ও আমি আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দবিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। কিন্তু পরবর্তীতে দবিরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে তাকে পুনরায় ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রতন আরও বলেন, দবিরকে মৃত ঘোষণার পর অন্য অটোরিকশাচালক কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে। একইসাথে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলে গ্রামীণ পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘বৃহত্তর দিনাজপুরের (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্প ব্যয় বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (কৃষি, পানিসম্পদ ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান বিভাগ) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বাসস’কে জানান, গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নত করে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে গ্রামের সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও অকৃষি পণ্য পরিবহন ও বিপণন সহজ হবে, যাতায়াতের সময় এবং খরচ কমবে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে। এছাড়া নির্মাণ ও পরিচালনা উভয় স্তরেই ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পটিকে ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এলজিইডির আওতাধীন গ্রামীণ রাস্তা, ইউনিয়নের রাস্তা এবং উপজেলার রাস্তাগুলো আরও উন্নত ও প্রশস্ত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি উপজেলার ২১.৭৫ কিলোমিটার রাস্তা, ইউনিয়নের ১৭১.৫৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৮৪২.৫২ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা সব ঋতুতে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। পাশাপাশি ৪১০ মিটার দীর্ঘ মোট ১৬টি সেতু নির্মাণ করা হবে।
সড়ক সুরক্ষা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রকল্পটিতে ১০.৭ লাখ ঘনমিটারের বেশি মাটি কাটার কাজ, ৩ হাজার ৬৫০টি ট্র্যাফিক সাইন, ৭ হাজার ৩০০টি গাইড পোস্ট স্থাপন, ১৪ হাজার ৯০০ মিটার প্যালিসেডিং এবং ১২৯ হাজার ৬৫০ বর্গমিটার রোড মার্কিং কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের আরেক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, এই অঞ্চলের একটি বড় জনগোষ্ঠী কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা নেই। এর ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্যের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য একনেক এই প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সবকটি উপজেলা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত থাকবে।
কমিশন জানিয়েছে, উন্নত সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক কৃষকদের এবং ব্যবসায়ীদের স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিবহনে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুরের বিখ্যাত লিচু ও সুগন্ধি চাল, ঠাকুরগাঁওয়ের আম এবং পঞ্চগড়ের চা। পাশাপাশি এটি অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থানের সূতিকাগার এই তিন জেলায় পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটাবে।
প্রকল্পটি গ্রামীণ জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদান রাখবে।
২০২৫ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মির্জা ইন্টারন্যাশনাল’-এর পরিচালিত এক সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রকল্পটি কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পটির জনসেবামূলক বৈশিষ্ট্যের কারণে সরাসরি কোনো আর্থিক মুনাফা বা রিটার্ন আশা না করা হলেও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এটি টেকসই ও কার্যকর হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর নিট বর্তমান মূল্য (এনপিভি) ৬৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ আয়ের হার (আইআরআর) ১৭.১২ শতাংশ এবং সুবিধা-ব্যয় অনুপাত (বিসিআর) ১.৩২:১।
পরিকল্পনা কমিশন উল্লেখ করেছে, প্রকল্পটি গ্রামীণ সব রাস্তা পর্যায়ক্রমে পাকা করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যোগাযোগ (লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি) নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সুসংগত। এটি দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জাতীয় লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন করে। এছাড়া, এই উদ্যোগ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বেশ কয়েকটি লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই কৃষির প্রসার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ।
প্রকল্পটি ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের গত ২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় তাদের পর্যবেক্ষণগুলো যুক্ত করার শর্তে প্রস্তাবটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশন পর্যবেক্ষণ করেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুরের গ্রামীণ পরিবহন অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সহজতর হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে হামলার ঘটনায় ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ৪০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- টঙ্গী পূর্ব থানার শালিকচূড়া গ্রামের আজিজুল ইসলাম (৪৩), মাছিমপুর এলাকার জসিম উদ্দিন (৩২), পূবাইলের জীবন কুমার দাস (৩৫), বড় দেওড়ার খলিলুর রহমান (৫০) এবং সাতাইশ এলাকার নিয়ামুল হাসান নাহিদ (১৮)।
এই মামলায় অন্যান্য আসামির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছেন- মো. আলাউদ্দিন সিপাই (৩৫), পঙ্কজ, নাজমুল, নামিম বাবু, নিয়ামুল হাসান নাহিদ, আশরাফুল ইসলাম, শ্রাবন বেপারী, তানজিম আহমেদ তামিম, সাইফুল ইসলাম সজিব, শিশির আহমেদ অনিক, জীবন কুমার লাল সহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ডিউটি করার সময় টঙ্গীর সাতাইশ বাগান বাড়ি রোডে মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেট সংলগ্ন হযরত শাহজালাল রোডের মাথায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে শুরু করে। গাছা থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ গাজীপুর মহানগর শাখার ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলে ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’-সহ নানা ধরণের স্লোগান প্রদান করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেহের সঙ্গে রুহের যেমন সম্পর্ক রয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ঠিক তেমনি সম্পর্ক রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের। এই মন্তব্যটি করেছেন কবি, নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের আয়োজন করা একটি বক্তৃতা ও গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আব্দুল হাই শিকদার বলেন, কবি নজরুলকে নিয়ে বহুদিন ধরে নানা গবেষণা চলেছে, তবে তাঁর জীবন নিয়ে অনেক অসঠিক তথ্য ও গল্প প্রচলিত আছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নজরুল কখনো রুটির দোকানে বেলনা দিয়ে রুটি বানাননি। বরং প্রকৃতপক্ষে তিনি একটি বেকারিতে পাউরুটি তৈরির কাজ করতেন।
তিনি আরও বলেন, কবি নজরুলের সম্মোহনী ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। গান, কবিতা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। দারোগা রফিজউল্লাহই এই প্রতিভাবান কবিকে ত্রিশালের মাটিতে নিয়ে এসেছিলেন। তাই তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রফিজউল্লাহ দারোগার নামে কোনও স্থাপনা বা অবকাঠামোর নামকরণ করা উচিত, এই মত প্রকাশ করেন তিনি।
নজরুলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দুধের সঙ্গে সাদার যেমন সম্পর্ক, দেহের সঙ্গে রুহের যেমন সম্পর্ক রয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কও রয়েছে। নজরুলের প্রতিটি শব্দ যেন অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে একেকটি যুদ্ধের ঘোষণা। স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে তাঁর মতো উচ্চারণ আর কোনো কবির লেখায় দেখা যায় না।
তিনি আরও বলেন, নজরুলের অবিসংবাদিত অবদানের কারণেই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি আমাদের আলোকবর্তিকা। একই সঙ্গে বহু বিষয়ে কাজ করার অসাধারণ সক্ষমতা ছিল তাঁর। নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত হলে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের জন্য ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মোট ৩৮টি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে।
গবেষণা প্রকল্পের মূল্যায়নকারী হিসেবে ছিলেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ