মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৯ পি.এম
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনার একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে সূর্যের আলো ব্যবহার করে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে অব্যবহৃত পাহাড়ের জমিতে ৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।
রাঙ্গামাটি কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বর্তমানে দু’টি প্রকল্পের কাজ চলছে। দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে একটি পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।
মাহমুদ হাসান আরও জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ২২ একর জমির ১৯ একর জমিতে ২০১৯ সালে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, যার ব্যয় ছিল প্রায় ১শ’ ১১ কোটি টাকা।
এখন এই অব্যবহৃত জমিতে সারি সারি সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি শুধু পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করছে না, বরং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির নতুন উৎসও তৈরি করছে। সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার ফলে এটি দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে।
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রকল্পটি অত্যন্ত লাভজনক। জনবল এবং খরচ কম হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শুধু পরিস্কার রাখতে হয়। আবহাওয়া খারাপ হলে উৎপাদন কিছুটা কমলেও উৎপাদন বন্ধ হয় না। পাহাড়ের পরিত্যক্ত এলাকায় এই প্রকল্পগুলোর প্রসার ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
মাহমুদ হাসান আরও জানান, কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমান কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট এবং নতুন ৭ দশমিক মেগাওয়াট প্রকল্পের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আমাদের ব্রিকফিল্ডে একটি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এর টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন প্রকল্পের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
তিনি জানান, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে তেল, গ্যাস, কয়লার প্রয়োজন হয় না। এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি করছে। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি কোনো জ্বালানি পোড়াতে হয় না, ফলে আমদানি নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুতের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।
কাপ্তাইয়ের এই সফল সম্ভাবনাকে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সোলার এবং সোলার পার্ক স্থাপনে আরও বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য অনাবাদি এবং উপযুক্ত জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ানো গেলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এমন উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বৃদ্ধি পায়।
দেশের এক দশমাংশ অঞ্চলজুড়ে তিন পার্বত্য জেলার অবস্থান রয়েছে। এই অঞ্চলের পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত সুবিশাল পাহাড়ি অঞ্চলকে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এনে কাজে লাগানো গেলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বিশাল একটি যোগান দেওয়া সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে পাহাড়ের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করছে আফগানিস্তান। পঞ্চম দিনে হার এড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্যাট করতে নেমে তারা আরও বিপদে পড়েছে। বলের আঘাতে আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন হাশমতউল্লাহ শহীদি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চম দিনের খেলার তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওই ওভারের চতুর্থ বলে সেদিকুল্লাহ আতাল একটি সিঙ্গেল নেন। দৌড়ে রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো এসে লাগে হাশমতউল্লাহর পায়ের প্যাডে।
এরপর হাশমতউল্লাহ খোঁড়াতে শুরু করেন, যিনি ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাঠে ফিজিও তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও তিনি ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি। ফিজিওর সহায়তায় তাকে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হিসেবে মাঠ ছাড়তে হয়।
ক্রিজে নতুন ব্যাটার হিসেবে যোগ দিয়েছেন ইকরাম আলীখিল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আফগানিস্তান ৬৯ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৭ উইকেট।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে নির্মিত হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য ‘প্লাস্টিক দানব’।
এই ভাস্কর্যটি সমুদ্র দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ৫ টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, জানান আয়োজকরা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৭টায় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী ৪ মাস ধরে চলবে। প্রদর্শনী চলাকালীন সময়ে পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের কাছে সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল আচরণ উৎসাহিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি সৈকতে একটি বিশেষ থিয়েটার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বশীল পর্যটন বিষয়ক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য দর্শনার্থীদের দু’টি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল সঙ্গে আনতে হবে। এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘সমুদ্র আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মানুষের সামনে দূষণের ভয়াবহতা দৃশ্যমান করে তুলবে এবং নিজেদের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে। কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করি, কিন্তু সেই সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে আমাদের নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যাই। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই দানব আসলে আমাদের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই, মানুষ এই ভাস্কর্য দেখে শুধু ছবি তুলে চলে যাবে না; বরং নিজের ব্যবহৃত প্লাস্টিক কোথায় ফেলছে, সেটি সমুদ্রের জন্য কী ক্ষতি তৈরি করছে- সে প্রশ্নটিও নিজের কাছে করবে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা জানান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সারা বছর প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোরের মাধ্যমে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে এবং এর বিনিময়ে মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গ্রহণের সুযোগ দেয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আবর্জনা হিসেবে ফেলে না রেখে সংগ্রহ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্যটি সেই কার্যক্রমে সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এটি দর্শনার্থীদের কাছে প্লাস্টিক দূষণের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে কাজ করবে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা ও দায়িত্বশীল পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
৪ মাসব্যাপী এই প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন কার্যক্রমের মাধ্যমে কক্সবাজারে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাভারের মির্জানগরে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ইলেকট্রিশিয়ান রবিউল ইসলাম (৪৫) আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে প্রতিষ্ঠানটির দুই তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের পিসি টেবিলের পাশে প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের কক্ষে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আল আমিন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ধামরাই ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কক্ষে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, অ্যালকোহল, অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং সালফিউরিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ছিল, যা ওষুধ পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগকে আগুন লাগার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় আনুমানিক তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় আনুমানিক এক কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন, জাটকা নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান জোরদার করা, নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, গবেষণা বৃদ্ধি এবং সরকারিভাবে জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা, নাব্যতা বজায় রাখা, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, মোহনা ও উপকূলীয় পরিবেশের সুরক্ষা, বৈজ্ঞানিকভাবে মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষজ্ঞরা অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের জীবিকা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের উৎপাদনে উত্থান-পতন ঘটতে পারে। তবে এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নতুন প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে আইনের প্রয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকল্পটি শুরু হবে। একইসাথে সরকার এবার ভিজিএফ কার্ড বা জেলেদের জন্য বরাদ্দের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।
ইলিশ গবেষকরা বলেছেন, ভারতের গুজরাটের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণে আরও গবেষণা এবং বাংলাদেশ-গুজরাটের নদী ও মোহনা পরিবেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন ও চলাচলের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, সরকার ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’ মেয়াদ শেষ হলেও নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, যা খুব শিগগিরই অনুমোদিত হবে। ‘মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দেওয়া এবং ভিজিএফ এর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভিজিএফ সুবিধা প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৬ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার করা হয়েছে।
চলতি বছরও ইলিশ আহরণ কমের দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ইকোসিস্টেম এবং ন্যাচারাল সাকসেশনের কারণে ইলিশের উৎপাদন এবারও নিচের দিকে। তবে সরকারি নানা উদ্যোগের কারণে আগামী বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবে।
তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ রানা বলেছেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জাটকা আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা, ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার, নদীর নাব্য হ্রাস, পানি দূষণ, পানি প্রবাহের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ ধরার চাপ সব মিলিয়ে ইলিশসম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরাতে তিনি জানান, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫.২৯ লাখ টন, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে প্রায় ৫ লাখ টন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম। কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ার পর সর্বশেষ হিসাবে তা কমে যাওয়ায় ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সরকারি নথিতে শিল্প ট্রলারের জন্য ৪০ মিটার গভীরতার বাইরে মাছ ধরার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নির্ধারিত গভীরতা অঞ্চলের ভেতরে ট্রলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল বা অনুপযুক্ত জাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ ধরা পড়তে পারে। এতে ইলিশের ছোট বয়সের মাছসহ অন্যান্য মাছও প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই আহরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ড. মাসুদ রানা মনে করেন, মা ইলিশ রক্ষায় কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। একটি প্রজননক্ষম মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক ইলিশ জন্ম নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় টহল, নৌযান পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। নদীতে পানি দূষণ, বর্জ্য ফেলা, নাব্য হ্রাস এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তার মতে, কোথায় ইলিশ বেশি ডিম ছাড়ছে, কোন সময় বেশি আসে এবং কোন পরিবেশগত পরিবর্তন তার প্রজননে প্রভাব ফেলছে এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা উচিত।
স্যাটেলাইট ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের বিচরণ, প্রজনন ও নার্সারি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, নদীর প্রবাহ, ক্লোরোফিল ও অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ইলিশের গতিবিধি ও সম্ভাব্য সমাগমের পূর্বাভাস দেয়া, নদী ও মোহনায় ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি) সেন্সরের মাধ্যমে পানির গুণাগুণ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ ও হাইড্রোএকাউট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের উপস্থিতি ও মজুত নির্ণয় এবং ড্রোন ও এআই-ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
এছাড়া, জিপিএস-ভিত্তিক নৌযান পর্যবেক্ষণ, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় স্মার্ট ফিশিং গিয়ার, ডিজিটাল ক্যাচ ডেটাবেজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা চালু করা হলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এসব প্রযুক্তিকে সমন্বিত করে একটি ‘স্মার্ট হিলসা ম্যানেজমেন্ট’ গড়ে তুলতে পারলে ইলিশের প্রাকৃতিক মজুত সংরক্ষণ, অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা নদীর মোহনা ও ভরুচ অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে, যা বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। গুজরাটে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অতিবৃষ্টির ফলে নর্মদা নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধি, মোহনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিবর্তন, ইলিশের চলাচল অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মৌসুমি মাছের প্রাপ্যতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গুজরাটের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদ্মা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদী অববাহিকার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এবং মোহনার পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন ড. মাসুদ রানা।
বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, দেশে ইলিশের উৎপাদন দুই বছর ধরে কমছে। ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন ইলিশ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে উত্থান শুরু হয়। এরপর প্রতি অর্থবছরে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ হাজার টন করে বাড়ে। গত দু’বছর ধরে উৎপাদন কমের দিকে। দেশে টেকসই উৎপাদন প্রতিবছর সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করলে সেটি টেকসই উৎপাদনের সীমার মধ্যে থাকবে।
তার মতে, ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা এবং নির্বিচার জাটকা নিধন। মা ইলিশ রক্ষার জন্য অক্টোবরে যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি এখনো ঠিক আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময়টা কিছুটা পিছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা গবেষণা করে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, অতীতে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছিল কয়েকটি উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে। এর মধ্যে ছিল ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষা, ৮ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ রাখা, মার্চ ও এপ্রিলে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, সাড়ে ৬ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ করা এবং বন্ধের সময়ে জেলেদের চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া। এছাড়া পাঁচটি অভয়াশ্রম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। অভয়াশ্রমগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ এখন জরুরি।
অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ইলিশ ডিম ছাড়ার পর মার্চ-এপ্রিলে জাটকা ঝাঁকে ঝাঁকে সাগরের দিকে যেতে থাকে। এ সময় নদ-নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এবং উপকূলীয় সাগরে আর্টিসানাল ট্রলারের (যেগুলো ৪০ মিটারের কম গভীরতায় মাছ ধরে) মাধ্যমে ব্যাপক হারে জাটকা নিধন করা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। জাটকা নিধনে ‘জিরো টলারেন্স’ এর পরামর্শ দেন সরকারকে। পাশাপাশি দখলদূষণের ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট এবং নাব্যতা সংকটের কারণেও ইলিশ ঠিকমতো বড় হচ্ছে না।
মৎস্যবিজ্ঞানীদের বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় উপকূলের জেলেদের মুখ থেকেও। বিষখালী নদীতে ইলিশ মাছ ধরা কয়েকজন জেলের নাম হলো মো. লিটন হোসেন, মো. কাইয়ুম এবং নিরু খান।
তাদের বক্তব্য, ইলিশের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরই ছাঁকনির মতো সূক্ষ্ম জাল দিয়ে সেগুলো ধরে ফেলা হয়। জাটকানিধনের প্রথম ধাপে একেবারে ছোট বাচ্চা, যা স্থানীয়ভাবে ‘চাপিলা মাছ’ নামে বাজারে বিক্রি হয়, পরে ধাপে তুলনামূলক বড় ফাঁসের কারেন্ট জালে নির্বিচারে ধরা হয়। শেষের ধাপে বড় ট্রলিং ট্রলার এবং কাঠের রূপান্তরিত ট্রলিং ট্রলারে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা হয়। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ছাড়াও নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে জেলেরা ছোট ইলিশ ধরে আনছেন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদকণা (জুপ্ল্যাংকটন) ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণা (ফাইটোপ্ল্যাংটন) রয়েছে। এসব প্ল্যাংকটনের পরিমাণ মেঘনা নদীতে ৬৮ শতাংশ কমেছে। এর বড় কারণ নদীদূষণ। ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম এক গবেষণা করে দেখিয়েছেন, পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্ল্যাংকটন আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে, যার প্রভাব পড়ছে ইলিশের আকৃতিতেও।
উল্লেখ্য, ইলিশ শুধু জাতীয় অর্থনীতির জন্য নয়, উপকূলীয় জেলে, মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠী এবং উপকূলের সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে নিয়োজিত, আর পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা কার্যক্রমে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।
ইলিশে উচ্চমাত্রায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে এবং ইলিশ আহরণে প্রথম স্থান দখল করে আছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ মাছকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ