প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে নির্মিত হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য ‘প্লাস্টিক দানব’।
এই ভাস্কর্যটি সমুদ্র দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ৫ টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, জানান আয়োজকরা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৭টায় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনী আগামী ৪ মাস ধরে চলবে। প্রদর্শনী চলাকালীন সময়ে পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের কাছে সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল আচরণ উৎসাহিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি সৈকতে একটি বিশেষ থিয়েটার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বশীল পর্যটন বিষয়ক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য দর্শনার্থীদের দু’টি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল সঙ্গে আনতে হবে। এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘সমুদ্র আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মানুষের সামনে দূষণের ভয়াবহতা দৃশ্যমান করে তুলবে এবং নিজেদের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে। কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করি, কিন্তু সেই সমুদ্রকে দূষিত করার পেছনে আমাদের নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যাই। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই দানব আসলে আমাদের অসচেতনতারই প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই, মানুষ এই ভাস্কর্য দেখে শুধু ছবি তুলে চলে যাবে না; বরং নিজের ব্যবহৃত প্লাস্টিক কোথায় ফেলছে, সেটি সমুদ্রের জন্য কী ক্ষতি তৈরি করছে- সে প্রশ্নটিও নিজের কাছে করবে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা জানান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সারা বছর প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোরের মাধ্যমে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে এবং এর বিনিময়ে মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গ্রহণের সুযোগ দেয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আবর্জনা হিসেবে ফেলে না রেখে সংগ্রহ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্যটি সেই কার্যক্রমে সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এটি দর্শনার্থীদের কাছে প্লাস্টিক দূষণের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে কাজ করবে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা ও দায়িত্বশীল পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
৪ মাসব্যাপী এই প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন কার্যক্রমের মাধ্যমে কক্সবাজারে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন