প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনার একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে সূর্যের আলো ব্যবহার করে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে অব্যবহৃত পাহাড়ের জমিতে ৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।
রাঙ্গামাটি কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বর্তমানে দু’টি প্রকল্পের কাজ চলছে। দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে একটি পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।
মাহমুদ হাসান আরও জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ২২ একর জমির ১৯ একর জমিতে ২০১৯ সালে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, যার ব্যয় ছিল প্রায় ১শ’ ১১ কোটি টাকা।
এখন এই অব্যবহৃত জমিতে সারি সারি সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি শুধু পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করছে না, বরং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির নতুন উৎসও তৈরি করছে। সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার ফলে এটি দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে।
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রকল্পটি অত্যন্ত লাভজনক। জনবল এবং খরচ কম হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শুধু পরিস্কার রাখতে হয়। আবহাওয়া খারাপ হলে উৎপাদন কিছুটা কমলেও উৎপাদন বন্ধ হয় না। পাহাড়ের পরিত্যক্ত এলাকায় এই প্রকল্পগুলোর প্রসার ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
মাহমুদ হাসান আরও জানান, কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমান কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট এবং নতুন ৭ দশমিক মেগাওয়াট প্রকল্পের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আমাদের ব্রিকফিল্ডে একটি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এর টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন প্রকল্পের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
তিনি জানান, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে তেল, গ্যাস, কয়লার প্রয়োজন হয় না। এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি করছে। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি কোনো জ্বালানি পোড়াতে হয় না, ফলে আমদানি নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুতের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।
কাপ্তাইয়ের এই সফল সম্ভাবনাকে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সোলার এবং সোলার পার্ক স্থাপনে আরও বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য অনাবাদি এবং উপযুক্ত জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ানো গেলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এমন উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ বৃদ্ধি পায়।
দেশের এক দশমাংশ অঞ্চলজুড়ে তিন পার্বত্য জেলার অবস্থান রয়েছে। এই অঞ্চলের পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত সুবিশাল পাহাড়ি অঞ্চলকে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এনে কাজে লাগানো গেলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বিশাল একটি যোগান দেওয়া সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে পাহাড়ের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন