বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৪ পি.এম
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা এলাকার শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চরহোগলা জমিদার বাড়ি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। স্থানীয়ভাবে এই স্থাপনাটি চরহোগলা চৌধুরী বাড়ি বা কালামিয়া জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তি হারিয়ে যেতে পারে। প্রাচীন জমিদার বাড়িটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, চরহোগলা জমিদার বাড়ি একসময় ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিশাল চত্বর, মূল আবাসিক ভবন, প্রাচীন পারিবারিক কবরস্থান এবং সুবিশাল ঈদগাহ মাঠ এই স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। স্থাপত্যশৈলী ও নকশায় ব্রিটিশ-ঔপনিবেশিক রীতি এবং তৎকালীন মুসলিম জমিদারি সংস্কৃতির সংমিশ্রণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
তবে দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। দেয়ালে নোনা ধরে চুন-সুরকি খসে পড়ছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ভবনের অভ্যন্তরীণ অংশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চারপাশের জঙ্গল ও লতাপাতায় ঢেকে যাওয়ার কারণে স্থাপনাটির সৌন্দর্যও অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। সীমানা প্রাচীরের অভাব এবং স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশ বেদখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চরহোগলা জমিদার বাড়ি কেবল একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; বরং এটি মেহেন্দীগঞ্জ তথা বরিশাল অঞ্চলের জমিদারি প্রথা, সামাজিক পরিবর্তন ও স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে এই স্থাপনাটি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। নিকটবর্তী উলানিয়া জমিদার বাড়ি থাকায় দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে একটি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া, প্রাচীন স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক উপকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যও বাড়িটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ভবনটির অবস্থা যাচাই করে জরুরি সংস্কার ও সংরক্ষণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থাপনার মূল নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার, সীমানা নির্ধারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের ভাঙচুর ও বেদখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চরহোগলা চৌধুরী বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ব্যবসায়ী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের গ্যাস সরবরাহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পর এই মন্তব্য করা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ছিল শিল্প-কারখানা যেন আবার সচল হয় এবং বাংলাদেশের অগ্রগতি যেন ধাবমান থাকে, সেটা নিশ্চিত করা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত সরকারের এক মাসের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসা ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ ২১ জন নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের একাংশের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে তিনি গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবতার নিরিখে ফিরিয়ে আনা সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি, অত্যন্ত স্বল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস বাস্তবতায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে, গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই বেড়েছে। গ্যাসের যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখেছি সামনের দিনে সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা বলেন, ‘এক মাস ধরে সরকারের যে বহুমুখী কল্যাণকর কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার সাফল্য নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।’
তিনি বলেন, ‘প্রথাগত শাসনপদ্ধতির ভেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন, তা দেশের গণ্ডি ফেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মূল্যস্ফীতিও ইতিবাচক ধারায় যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে এবং বিশ্বের অনেক দেশ, এমনকি আশপাশের দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দামও কম।’
সরকারের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি নিয়ে গবেষণার জন্য একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উত্তরের পাঁচটি জেলায় তিস্তার ভাঙন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, এবং জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলেও ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানিয়েছেন, গত সাত দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিহাট, নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তার ভাঙনে ৩৮৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভাঙন থেমে নেই, বরং এই পাঁচ জেলার ১১৩টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। আমরা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি।
তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে প্রতিদিনই বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের সিংগীজানী ও ভোরের পাখি এলাকায় সম্প্রতি হঠাৎ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে তিস্তা নদীতে স্রোতের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। অল্পসময়ের মধ্যে নদীর পাড়ের মাটি ধসে পড়তে থাকে এবং একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
ভাঙন এতটাই আকস্মিক ছিল যে, অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি। নদীপাড়ের বাসিন্দারা চোখের সামনে বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হতে দেখে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা তিস্তার ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। কেউ কয়েকবার বসতভিটা পরিবর্তন করেছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে নতুন করে ঘর তুলেছেন। কিন্তু এবার আকস্মিক ভাঙনে অনেকের সেই শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে চলে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, "হঠাৎ করে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। ঘরের অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি।"
আহাদ মিয়া নামে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য বলেন, "সারা জীবনের কষ্টে তৈরি করা ঘর চোখের সামনে নদীতে চলে গেছে। এখন কোথায় থাকব, কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব-কিছুই বুঝতে পারছি না।"
ভাঙনের কারণে শুধু বসতবাড়ি নয়, নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি, গাছপালা ও অন্যান্য স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও পরিবার তাদের বসতভিটা হারাতে পারে।
এদিকে, ভাঙনের খবর পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙন প্রবণ এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজাহাট উপজেলায় একই অবস্থা বিরাজ করছে, গত সাত দিনে এই দুই উপজেলায় ৮০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী পাড়ের মানুষ চোখের সামনে তাদের স্বপ্নে গড়া ঘরবাড়ি বিলীন হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছে। গবাদিপশু ও ছেলেমেয়ে নিয়ে তারা এখন কোথায় থাকবেন এই চিন্তায় দিশেহারা।
লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলাতেও তিস্তা ভাঙছে, এবং এই নদীর ভাঙন থামছে না। পানি কমা-বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, "আমরা কিছু জায়গায় ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলেছি, কিন্তু স্থায়ী ভাঙন রোধের জন্য বরাদ্দ না থাকায় কিছুই করা সম্ভব নয়।"
স্থানীয় খুলিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাদল বলেছেন, "আগ্রাসী তিস্তা কোনোভাবেই থামছে না, প্রতিদিনই ভাঙছে নদী।"
রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলায়ও একইভাবে ভাঙন চলছে। গত সাত দিনে এই তিন উপজেলার ৫৩টি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজ উদ্দিন। তিস্তাপাড়ের মানুষের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। তারা বলছেন, "আমরা চাই না কোন ত্রাণ চাই, আমরা চাই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ।"
সরেজমিনে দেখা যায়, নীলফামারীর ভাঙন কবলিত এলাকার শত শত পরিবার নদীর তীরে খোলা জায়গায় দিন কাটাচ্ছে। রান্না বা খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। কেউ কেউ উঁচু বাঁধ ও স্বজনের আঙিনায় অমানবিক দিন কাটাচ্ছেন; জরুরি ভিত্তিতে তাদের জন্য তাঁবু ও শুকনা খাবার প্রয়োজন।
চর খরিবাড়ির বাসিন্দা আব্দুল করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "এখন কোথায় যায়া ঠাঁই নিমু! ঘর তোলার শেষ সম্বলটুকুও কাড়ি নিল রাক্ষসী তিস্তা। দুই বছরে ছয়বার নদী ভাঙার পর এই জায়গাত কোনোমতে মাথা গুঁজে আছনু। সেটাও চলি গেছে নদীত। হামারঘরে দুঃখ দেখার মতো কেউ নাই। চোখের সামনত ঘর দুইটা নদীত চলি গেল, কিছুই করবার পানু না।"
তিস্তার এই আগ্রাসী রূপ নিয়ে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, "তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া কোনোভাবেই এই ভাঙন ঠেকানোর সম্ভব নয়। তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব ২০২৭ সালের শুরুতেই নিজস্ব অর্থায়নে হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চাই। অন্যথায় এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ কষ্ট কোনোভাবেই লাঘব হবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ এবং পাকিস্তানি একটি জাহাজের মধ্যে। এ বিষয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি হাইকমিশনের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে তলব করেছে।
নয়াদিল্লি এই ঘটনার জন্য অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার শব্দ ব্যবহার করেছে। একইসঙ্গে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিও প্রকাশ করেছে। খবর এনডিটিভির
বিবৃতিতে নয়াদিল্লি উল্লেখ করেছে যে, পাকিস্তানি নৌ-জাহাজের আচরণ ১৯৯১ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। উক্ত চুক্তিতে সামরিক মহড়া, কৌশলগত কার্যক্রম এবং সৈন্য চলাচলের বিষয়ে আগাম নোটিশ প্রদানের নিয়মাবলি নির্ধারিত রয়েছে।
এছাড়া, পাকিস্তানের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে জানানো হয়েছে যে, তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব সামরিক ইউনিটের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে প্রাসঙ্গিক চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
পাকিস্তানি কূটনীতিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি ভারতের বার্তাটি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেন।
সূত্রমতে, এই ঘটনা ঘটেছে ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। ভারতের সম্মুখসারির একটি যুদ্ধজাহাজ উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত নজরদারি অভিযানে ছিল, তখন পাকিস্তানের একটি জাহাজ খুব কাছাকাছি চলে আসে।
সূত্রগুলো জানায়, ওমানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতীয় জাহাজটিকে অত্যন্ত কাছ ঘেঁষে অতিক্রম করে, যা 'গার্জিং' বা বিপজ্জনকভাবে পাশ দিয়ে দ্রুত চলে যাওয়া হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানি জাহাজটি অপেশাদার ও অনিরাপদ কৌশলে ভারতের যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে যায়, যার ফলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখযোগ্য যে, এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০১১ সালের জুন মাসে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বাবর’ এবং ভারতের নৌবাহিনীর জাহাজ ‘গোদাবরী’-র মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পের অনুমোদন লাভ করেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেকের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে চলাচল করবে এই ইলেকট্রিক ট্রেন। ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের ২০৩১ সালে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
একনেক সভায় তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেট্রো রেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রো রেল লাইন-১ এবং মেট্রো রেল লাইন-৫ নর্দান রুট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তিনটি মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ