প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা এলাকার শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চরহোগলা জমিদার বাড়ি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। স্থানীয়ভাবে এই স্থাপনাটি চরহোগলা চৌধুরী বাড়ি বা কালামিয়া জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তি হারিয়ে যেতে পারে। প্রাচীন জমিদার বাড়িটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, চরহোগলা জমিদার বাড়ি একসময় ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিশাল চত্বর, মূল আবাসিক ভবন, প্রাচীন পারিবারিক কবরস্থান এবং সুবিশাল ঈদগাহ মাঠ এই স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। স্থাপত্যশৈলী ও নকশায় ব্রিটিশ-ঔপনিবেশিক রীতি এবং তৎকালীন মুসলিম জমিদারি সংস্কৃতির সংমিশ্রণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
তবে দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। দেয়ালে নোনা ধরে চুন-সুরকি খসে পড়ছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ভবনের অভ্যন্তরীণ অংশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চারপাশের জঙ্গল ও লতাপাতায় ঢেকে যাওয়ার কারণে স্থাপনাটির সৌন্দর্যও অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। সীমানা প্রাচীরের অভাব এবং স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশ বেদখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চরহোগলা জমিদার বাড়ি কেবল একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; বরং এটি মেহেন্দীগঞ্জ তথা বরিশাল অঞ্চলের জমিদারি প্রথা, সামাজিক পরিবর্তন ও স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে এই স্থাপনাটি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। নিকটবর্তী উলানিয়া জমিদার বাড়ি থাকায় দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে একটি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া, প্রাচীন স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক উপকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যও বাড়িটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ভবনটির অবস্থা যাচাই করে জরুরি সংস্কার ও সংরক্ষণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থাপনার মূল নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার, সীমানা নির্ধারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের ভাঙচুর ও বেদখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চরহোগলা চৌধুরী বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন