ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩


হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে তিনটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ফলে তিন যুবকের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন দুইজন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে, জলসুখা ইউনিয়নের নির্মাণাধীন আজমিরীগঞ্জ-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জলসুখা ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলেন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের চন্দনের ছেলে অন্তর (২৫), বানিয়াচং উপজেলার আমিরখানী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে তানভীর এবং একই গ্রামের নুরুল লস্করের ছেলে আবিদুল লস্কর (৩২)।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

অপরদিকে আহত ব্যক্তিরা হলেন, চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে সাহিদুল ইসলাম বাচ্চু (৩৫) এবং গোছাপাড়া গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে মিজান মিয়া (২৭)। তারা উভয়েই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্যুরো বাংলাদেশ’ এর কর্মী। প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার পর তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, দ্রুত গতিতে চলতে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল যখন জলসুখা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছায়, তখন তারা পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে যায়। এর ফলে ঘটনাস্থলে একজন প্রাণ হারান। পরে গুরুতর আহত চারজনকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা অপর দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

এমন ঘটনার বিষয়ে বর্ণনা দিতে গিয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অতিবৃষ্টির ফলে সবজির দাম বেড়েছে, শসার কেজি ২০০ টাকা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


অতিবৃষ্টির ফলে সবজির দাম বেড়েছে, শসার কেজি ২০০ টাকা!

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে জনজীবনের উপর ব্যপক প্রভাব পড়েছে। জলাবদ্ধতা এবং সরবরাহের অভাবের কারণে এক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ডিম ও মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মুরগির বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এবং আশপাশের কিছু বাজার পরিদর্শন করলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকা থেকে সবজি সময়মতো রাজধানীতে পৌঁছাতে পারেনি। ফলস্বরূপ, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে প্রায় সকল ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজিপ্রতি সবজির দামে ৪০-৬০ টাকার বেশি তারতম্য দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে, কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় দাম ১৮০ টাকারও ওপরে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, শসার দাম ২০০ টাকা, গাজরের দাম ১৬০ টাকা, পটলের দাম ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, পেঁপের দাম ৪০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা, এবং কাঁকরোলের দাম ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আনিস মিয়া জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক স্থান থেকে সবজি সঠিকভাবে আসছে না এবং আসা সবজির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কম। এ কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

অন্য এক বিক্রেতা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, রাস্তাঘাটে জমা পানি থাকার কারণে পরিবহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক গাড়ি সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আশা করা হচ্ছে দাম কমে আসবে।

সবজির বাড়তি দামে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। বাজারে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহ আগে যে শসার দাম ১০০ টাকার আশপাশে ছিল, এখন সেটি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় সকল সবজির একই অবস্থা বিরাজ করছে। বৃষ্টির অজুহাতে প্রতি বার দাম বৃদ্ধি পায়, কিন্তু দাম কমতে অনেক সময় লাগে।

গৃহিণী নাসরিন আক্তার জানান, বর্তমানে বাজারে এসে হিসাব করে সবজি কেনার প্রয়োজন হচ্ছে। আগে চার-পাঁচ প্রকারের সবজি কিনতাম, কিন্তু এখন দুই-তিন প্রকারের সবজি নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রতি কেজি সোনালি মুরগির দাম ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়, ব্রয়লারের দাম ১৮০ টাকা, এবং লেয়ার মুরগির দাম ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ও চাহিদা স্বাভাবিক থাকায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

অতিরিক্ত ডিমের বাজারেও আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। এছাড়া প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, খামার থেকেই ডিম উচ্চ দামে আসছে। এই কারণে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে, মাছের বাজারেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে মাছ পরিবহন ও সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় কয়েকটি প্রজাতির মাছের দাম বেড়ে গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উবারের ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ডেলিভারি হিরো অধিগ্রহণের জন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


উবারের ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ডেলিভারি হিরো অধিগ্রহণের জন্য

খাদ্য ডেলিভারির বৈশ্বিক বাজারে উবার একটি বড় এবং চমকপ্রদ ঘোষণা করেছে। জার্মানির ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরোকে তারা অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটি হলে চীনের বাইরে এই দশকের মধ্যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক স্থাপন সম্ভব হবে।

রাইড শেয়ারিং ব্যবসার পাশাপাশি খাদ্য ডেলিভারি খাতে নিজেদের প্রভাব আরো শক্তিশালী করতে চায় উবার। সেই লক্ষ্যে, তাদের পক্ষ থেকে এই প্রকাশ্য প্রস্তাব ডেলিভারি হিরোকে সঙ্কল্পিত হয়েছে।

উবার জানাচ্ছে, ডেলিভারি হিরোর প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৪১ দশমিক ৫০ ইউরো নগদ পরিশোধের প্রস্তাব তারা দিয়েছে। এই মূল্যটি কোম্পানিটির সাম্প্রতিক গড় শেয়ারদামের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যদি এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, তাহলে উবার ইটসের কার্যক্রম ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হবে। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সেবা বিশ্বের ৯৯টি দেশে পৌঁছে যাবে। তাদের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে এই যৌথ প্ল্যাটফর্মে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ফলে চীনের বাইরে এটি হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুড ডেলিভারি নেটওয়ার্ক।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, তবে এই অধিগ্রহণের জন্য পথ এখনো পুরোপুরি সুগম নয়। প্রস্তাব কার্যকর করার জন্য ডেলিভারি হিরোর অর্ধেকের বেশি শেয়ারহোল্ডারের সম্মতি প্রয়োজন হবে। একই সাথে, যেখানে উবার এবং ডেলিভারি হিরোর কার্যক্রম রয়েছে, সেসব দেশে প্রতিযোগিতা বানিজ্যিকভাবে কমে যাওয়ার উদ্বেগজনক নিদর্শন থাকায় বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি এই চুক্তিটি খতিয়ে দেখার দ্বার প্রস্তাবনা জাগ্রত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ডোরড্যাশসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ করে এসেছে। সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ার জন্যই উবার এই বৃহদাকার অধিগ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যদিও ঘোষণার পর, প্রথম দিকে ডেলিভারি হিরোর শেয়ারের দাম বাড়লেও, পরে লেনদেন চলাকালীন কিছুটা কমে আসে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতভর ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


রাতভর ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানে মার্কিন বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতভর এই হামলা হয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা (পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টা) থেকে এই বিমান হামলা শুরু হয়। এই হামলার লক্ষ্য হল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দেওয়া।

হামলা শেষে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী সর্বশেষ বড় আকারের হামলা 'সফলভাবে' সম্পন্ন করেছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, 'ফাইটার জেট, ড্রোন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মার্কিন বাহিনী নির্ভূল অস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত হেনেছে, যা ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার মতো কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।'

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালানো হলো।' পাশাপাশি বলা হয়েছে, 'সর্বাধিনায়কের (ট্রাম্পের) নির্দেশে সেন্টকম ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও হ্রাস করছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহিতে বাধ্য করছে।'

বিবৃতির শেষে বলা হয়, 'মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা সদস্য সক্রিয় রয়েছে এবং তারা সতর্ক, মারাত্মক ও প্রস্তুত।'

মার্কিন বিমান হামলার সর্বশেষ ঘটনায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক এবং বন্দর-ই-লেঙ্গেহ: এই দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলোতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা আগের রাতগুলোর তুলনায় অবকাঠামোর আরও ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

এছাড়া বন্দর-ই-খামির শহরের কাছের দুটি সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে। বন্দর আব্বাসের তাপেহ আল্লাহ আকবর মহল্লায় হামলা হয়েছে এবং শহরজুড়ে আরও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইরানশাহরের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে স্থাপনাটির ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে কিশ দ্বীপে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের গভর্নরের দফতরের বরাত দিয়ে ইরানের আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ সংস্থা জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় প্রদেশের পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ সেতুগুলি হলো: বন্দর আব্বাসকে খমেইর ও লরের সাথে সংযোগকারী গারিভেহ সেতু, লাতিদান গ্রামের কাছে একটি সেতু, কাহুরেস্তান-লর রুটের দুটি সেতু, বন্দর-ই-খামির, কেশার এবং বন্দর আব্বাসকে সংযোগকারী একটি আংশিকভাবে নির্মিত সেতু ও খমেইর জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু।

ফার্স জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করতে গভর্নরের দফতর জনগণকে এই পথগুলোতে এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তাক্ত ১৭ জুলাই: দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


রক্তাক্ত ১৭ জুলাই: দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ঘোষণা

রক্তাক্ত ১৭ জুলাই গোটা দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই দিনটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ করে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে সরকার ও তার পেটোয়া বাহিনী। একই সঙ্গে চলতে থাকে সরকারের হুমকি ও পুলিশি হামলা। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এদিন দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সহায়তা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই, রাজপথে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। আগের সব দাবি ও চাওয়াকে ছাপিয়ে ভাইয়ের মৃত্যুর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে ছাত্রসমাজ। নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আসতে শুরু করে। কোটা বনাম মেধার দাবিকে ছাপিয়ে ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথ তখন প্রকম্পিত। সকালের দিকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে। হামলার পাল্টা হামলার পর শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে। এদিকে আন্দোলন দমাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনে কয়েক দফা সিন্ডিকেট বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রাত ছয়টার মধ্যে হল ত্যাগের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৭ জুলাই, সরকারি ছুটি থাকলেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বিক্ষোভ, মিছিল, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ চলতে থাকে। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজার জন্য ঢাবির টিএসসিতে যাওয়ার সময় পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। শহীদ মিনারসহ আশপাশের এলাকা তখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব দায়ী বলে তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। এর পর কিছু সময়ের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। গ্রেফতার হন ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী। আন্দোলনকে অন্য খাতে নিতে একটি দল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মৌলিক মানবাধিকারের অধিকার।’ বাংলাদেশ সরকারের উচিত মানুষের এ অধিকার নিশ্চিত করা। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কোটাবিরোধীদের আন্দোলনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কারা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হবে বলে ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করা যাবে না। সারাদিন চলমান ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের পর ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ১৭ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করেন জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ। তিনি বলেন, ‘আজকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিতাড়ি করে হল রক্ষা করা হয়। শুরুটা হয়েছিল বেগম রকেয় এবং হাজী মুহাম্মদ মহসীন হলে এবং পরে ধীরে ধীরে সমস্ত হলেই ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বের করার পর ক্যাম্পাসটাকে খুবই হালকা মনে হয়েছিল, যেন মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম শহীদদের লাশ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে। কিন্তু সেই সুযোগ আমাদের দেয়া হয়নি। হাসপাতাল এবং মর্গে মর্গে ঘুরেছি। আমরা গায়েবানা জানাজার সিদ্ধান্ত নিই। গায়েবানা জানাজার যখন ঘোষণা দিই, তখন আমি ডান দিকে দেখছিলাম ক্যাম্পাসের দুপাশে ফোর্স জমায়েত করা হচ্ছে।’ রিফাত বলেন, ‘জানাজা শেষ করে আমরা যখন কফিন মিছিল নিয়ে টিএসসির মাঝ দিয়ে যাই, তখন একপাশ থেকে টিএসসির দিকে আক্রমণ করা হয় এবং অপর দিক থেকে ভিসি চত্বরের দিক থেকে আক্রমণ করা হয়। সেই মুহূর্তে একটা রাবার বুলেট আমার হাতে এসে পড়ে।’ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বলেন, ‘গায়েবানা জানাজা পড়ানোর জন্য আসার পথে নিউমার্কেট ও নিলক্ষেত মোড়ে আমাদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেখানে আমাদের তিন-চারজন ভাই মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছিল, পরে রাবার বুলেট এরপর সরাসরি গুলিতে চলে গিয়েছিল তখনকার সময়ের ফ্যাসিস্ট পুলিশ লীগ।’ ঢাবির গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘যখন রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদকে মেরে ফেলা হলো, এই দৃশ্য দেখার পরে আমাদের পক্ষে আসলেই আর থেমে থাকা সম্ভব হয়নি। ঘটনা সেদিন থেকে দ্রুত বদলাতে শুরু করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%