ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু

দীর্ঘ ৩৫ বছরের পর আবারও জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, দুপুর ২টা থেকে সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন-ভাতাসহ কী কী সুবিধা পান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন-ভাতাসহ কী কী সুবিধা পান

রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তার নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। বর্তমানে অনেকের কৌতূহল দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান?

সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবুও রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরেও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান।

দুটি নিয়োগে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনত্বের অধিকারী।

সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এর প্রথমটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।

সংসদ নির্বাচনে কোনো দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। কিন্তু যদি কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তখন কে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে বাধ্য নন। সংবিধান তাঁকে এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ক্ষমতা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন। রাষ্ট্রপতি যদি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পেশ করতে চান তাহলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন।

এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না এবং যদি দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কোনো আদালত কোনো প্রশ্নের তদন্ত করতে পারেন না।

ক্ষমা করার বিশেষ ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন। যদিও সংসদীয় ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির অন্যান্য দায়িত্বের মতো এ ক্ষমতার প্রয়োগ সরকারপ্রধানের পরামর্শ অনুসারেই নির্ভর করে।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সাংবিধানিক দায়মুক্তি। অর্থাৎ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না। একইভাবে রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার কিংবা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে কোনো পরোয়ানা জারি করা হয় না।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রপতিকে পদ থেকে সরানোর উপায় নেই। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে অভিশংসন করা যায়। আবার শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে তাঁকে অপসারণের বিধানও রয়েছে।

সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে সংসদের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংসদে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকে। অভিযোগ বিবেচনা শেষে সংসদের মোট সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।

শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও প্রায় একইভাবে সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। তারপর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য নজির হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা নেই।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উত্তরাধিকারের দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরপর এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। যদি কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন, তাহলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে। বর্তমানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে। পরে সেই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়সের সীমা ৩৫ বছর হতে হয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়, কিন্তু রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যদি কেউ আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকে, তাহলে তিনি আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য নন।

আজকের ভোটে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। এজন্য তিনি ভোটের সময় সংসদের সভাকক্ষে থাকতে এবং ভোট দিতে পারবেন না। অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে পারবেন।

যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন

বর্তমান সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। বরং জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাঁকে নির্বাচিত করেন। একজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং আরেকজন তা সমর্থন করেন।

একজন প্রার্থী থাকলেই তার মনোনয়ন বৈধ হলে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে, সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হয়।

একাধিক প্রার্থী থাকায়, ৩৫ বছর পর আজ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হলেন নির্বাচনী কর্তা।

রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এটি আয়করমুক্ত। ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে রাষ্ট্রপতির পদটির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধাগুলি বেশ বিস্তৃত। রাষ্ট্রপতি কী সুযোগ-সুবিধা পান, তা বলা আছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্টে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। পূর্বে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বেতন হচ্ছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলে অর্থ পেতে পারেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকলে তিনি কোনো সরকারি সুবিধা পান না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি অবসর কিংবা পদত্যাগের পরও কিছু সরকারি সুবিধা পান।

রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতা রয়েছে এবং এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।

রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন নির্ধারিত আছে। এর সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রপতির সরকারি যাতায়াতের জন্য গাড়ি এবং প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধাও সরকার দিতে থাকে।

রাষ্ট্রপতি যখন সরকারি কাজে বিদেশ সফরে বের হন, তখন তিনি সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পান।

স্বেচ্ছাধীন তহবিল বছরের পর বছর দুই কোটি টাকা।

রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিল। বছরে এ তহবিলের পরিমাণ দুই কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই অর্থ ব্যয় করা যেতে পারে।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। রাষ্ট্রপতি এবং তার পরিবার দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই খরচ সরকার বহন করে।

রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এর পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।

অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির বেতন ছাড়াও বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন, বিমানভ্রমণের বিমাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য বিস্তৃত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু সরকারপ্রধান নন

বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি, কিন্তু সরকারের প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভা।

তাহলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর আনুষ্ঠানিক মর্যাদা ও কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা দুটি ভিন্নভাবে দেখা জরুরি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বাধ্যবাধকতাও তৈরি করেছে।

যার ফলে জাতীয় নির্বাচন বা বড় রাজনৈতিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির পদটি নতুন করে আলোচনা আসে। বিশেষ করে যখন সংসদে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তখন সরকার গঠন করতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সংসদে যদি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তখন রাষ্ট্রপতির সেই বিবেচনামূলক পরিসর অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে।

সুতরাং রাষ্ট্রপতির পদটি একদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার সাংবিধানিক পদ, অপরদিকে সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও এখনো পর্যন্ত তা হয়নি।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ে ৩০০ মিটার সড়ক নিয়ে ৮ বছর ধরে ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


ধামরাইয়ে ৩০০ মিটার সড়ক নিয়ে ৮ বছর ধরে ভোগান্তি

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের তিন লাখের বেশি মানুষ মাত্র ৩০০ মিটার সড়ক নিয়ে ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ ভোগ করছেন। সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার পর এক সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেখানে ইট সলিং করে দেয়। তবে কয়েক বছর পরে সেটিও উঁচুনীচু ও ইট ভেঙে বিভিন্ন স্থানে গর্তে পরিণত হয়ে গেছে। সত্ত্বেও সড়কটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ এখনো গ্রহণ করা হয়নি।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইপাস ধামরাই বাজার থেকে কালামপুর বাজার সড়কের আইঙ্গন এলাকায় ওই ৩০০ মিটার ইটের রাস্তা অবস্থিত। সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ধামরাই উপজেলা পরিষদ, থানা, পৌর বাজার, ধামরাই সরকারি কলেজ, আফাজ উদ্দিন কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য। ৮ বছর আগে ইট সলিং করে মেরামত করা এ সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার সোমভাগ, কুল্লা, সুতিপাড়া, সানোড়া, কুশুরা, গাংগুটিয়া, বালিয়া, আমতা, চৌহাটসহ ১০টি ইউনিয়নের মানুষের।

এ সড়কের আইঙ্গন মোড় থেকে পশ্চিম আইঙ্গন পর্যন্ত ৩০০ মিটারের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার পর ২০১৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্পেটিংয়ের ওপর দিয়ে ইট সলিং করে রাস্তাটি মেরামত করেছিল। কিন্তু তারপর থেকে ধীরে ধীরে রাস্তার অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। ইটের রাস্তায় পানি জমে গিয়ে উঁচুনীচু হয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন কালামপুর বাজার থেকে ধামরাই পৌর বাজার সড়কটি আইঙ্গন হয়ে শত শত ইজিবাইক, প্রাইভেটকার, ট্রাকসহ গার্মেন্টসের শ্রমিকবাহী বাস যাতায়াত করে। এই কারণে আইঙ্গন ইটের রাস্তায় প্রবেশ করলেই যাত্রীদের ভোগান্তি শুরু হয়।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না করায় সলিং করা ইট ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ইজিবাইকচালক মোশারফ হোসেন বলেন, কালামপুর বাজার থেকে ধামরাই বাজার পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের মধ্যে আইঙ্গন এলাকায় ৩০০ মিটার ইট সলিং রাস্তা রয়েছে, এবং ৮ বছর ধরে রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। এই ইটের রাস্তায় আসলেই যাত্রীরা অভিযোগ করতে শুরু করেন।

সানোড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, আইঙ্গনের রাস্তা হয়ে প্রায়ই উপজেলা পরিষদ ও থানায় যাতায়াত করতে হয়। ইটের রাস্তায় আসলেই তারা ঝাঁকুনিতে পেটব্যথা অনুভব করেন। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৩০০ মিটার এই ইটের সলিং তুলে কার্পেটিং করলেই লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে।

আফাজ উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, তাঁর কলেজের শিক্ষার্থীরা রিকশা-অটোরিকশা ও ইজিবাইকযোগে প্রতিদিন আইঙ্গন ইটের রাস্তার ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। রাস্তাটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। তাই দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং করা উচিত।

ধামরাই পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইঙ্গন রাস্তাটি পৌরসভার মধ্যে পড়ে, তবে তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। তাই পৌরসভার পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও সংস্কার করতে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলমের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নয়ারহাট সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরে আলম সিদ্দিক জানান, ধামরাইয়ের আইঙ্গন ৩০০ মিটার ইটের রাস্তা শিগগিরই টেন্ডারের মাধ্যমে কার্পেটিং করা হবে। এতে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলেও আশা করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন রাষ্ট্রপতিকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছে যে দুই দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


নতুন রাষ্ট্রপতিকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছে যে দুই দেশ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সিএসির ফলাফল ঘোষণার পরপরই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জা‌নি‌য়ে‌ছে ঢাকার ব্রিটিশ হাইক‌মিশন এবং চীনা দূতাবাস।

চীনা দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মহামান্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় চীন। নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎমুখী চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় যৌথভাবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং। এভাবে দুদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন এবং উভয় দেশের জনগণ আরও বেশি সুফল লাভ করবে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ হাইক‌মিশন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে যুক্তরাজ্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে এ ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।

এ সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। মুদ্রিত মোট ব্যালট পেপারের সংখ্যা ছিল ৩৪৯টি। এর মধ্যে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার ছিল ৩৪৩টি। ৬টি অব্যবহৃত ছিল। ৩৪৩টি বৈধ ব্যালট পেপারের মধ্যে কিছু ভুলত্রুটি হওয়ায় বিধি অনুযায়ী আমরা ৪টি ব্যালট পেপার রিপ্লেস করেছি।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বৈধ ব্যালট পেপারের মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি কায়সার কামাল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েছেন। ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবনে মির্জা ফখরুলকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে অনুষ্ঠিত সংসদ কক্ষে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে থাকা নতুন রাষ্ট্রপতির সাথে করমর্দন করেন এবং একটি লাল গোলাপের স্টিক দিয়ে অভিনন্দন জানান।

এ সময় সংসদ কক্ষের সকল সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। মির্জা ফখরুল তাদের উদ্দেশ্যে হাত তুলে সালাম ও অভিবাদন জানান।

বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও উপ-নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা টেজারি বেঞ্চের দিকে আসলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমে ডা. শফিকুর রহমানের সাথে কোলাকুলি করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ আসন থেকে উঠে এসে নতুন রাষ্ট্রপতির সাথে কোলাকুলি করেন। এসময় তিনি সরকারি এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গেও কোলাকুলি হয়।

নতুন রাষ্ট্রপতি এ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে করমর্দন করেন এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সালাম জানান। এসময় সংসদ কক্ষে আনন্দঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুপুর ২টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর পরপরই বিকাল ৫টা ২ মিনিটে ভোট গণনা শুরু হয়।

ভোট গণনার সময়ে দুই প্রার্থীর এজেন্ট সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ হুইপ মিয়া নুরুউদ্দিন অপু ও রকিবুল ইসলাম বকুল উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%