প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের তিন লাখের বেশি মানুষ মাত্র ৩০০ মিটার সড়ক নিয়ে ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ ভোগ করছেন। সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার পর এক সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেখানে ইট সলিং করে দেয়। তবে কয়েক বছর পরে সেটিও উঁচুনীচু ও ইট ভেঙে বিভিন্ন স্থানে গর্তে পরিণত হয়ে গেছে। সত্ত্বেও সড়কটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ এখনো গ্রহণ করা হয়নি।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইপাস ধামরাই বাজার থেকে কালামপুর বাজার সড়কের আইঙ্গন এলাকায় ওই ৩০০ মিটার ইটের রাস্তা অবস্থিত। সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ধামরাই উপজেলা পরিষদ, থানা, পৌর বাজার, ধামরাই সরকারি কলেজ, আফাজ উদ্দিন কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য। ৮ বছর আগে ইট সলিং করে মেরামত করা এ সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উপজেলার সোমভাগ, কুল্লা, সুতিপাড়া, সানোড়া, কুশুরা, গাংগুটিয়া, বালিয়া, আমতা, চৌহাটসহ ১০টি ইউনিয়নের মানুষের।
এ সড়কের আইঙ্গন মোড় থেকে পশ্চিম আইঙ্গন পর্যন্ত ৩০০ মিটারের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার পর ২০১৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্পেটিংয়ের ওপর দিয়ে ইট সলিং করে রাস্তাটি মেরামত করেছিল। কিন্তু তারপর থেকে ধীরে ধীরে রাস্তার অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। ইটের রাস্তায় পানি জমে গিয়ে উঁচুনীচু হয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন কালামপুর বাজার থেকে ধামরাই পৌর বাজার সড়কটি আইঙ্গন হয়ে শত শত ইজিবাইক, প্রাইভেটকার, ট্রাকসহ গার্মেন্টসের শ্রমিকবাহী বাস যাতায়াত করে। এই কারণে আইঙ্গন ইটের রাস্তায় প্রবেশ করলেই যাত্রীদের ভোগান্তি শুরু হয়।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না করায় সলিং করা ইট ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ইজিবাইকচালক মোশারফ হোসেন বলেন, কালামপুর বাজার থেকে ধামরাই বাজার পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের মধ্যে আইঙ্গন এলাকায় ৩০০ মিটার ইট সলিং রাস্তা রয়েছে, এবং ৮ বছর ধরে রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। এই ইটের রাস্তায় আসলেই যাত্রীরা অভিযোগ করতে শুরু করেন।
সানোড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, আইঙ্গনের রাস্তা হয়ে প্রায়ই উপজেলা পরিষদ ও থানায় যাতায়াত করতে হয়। ইটের রাস্তায় আসলেই তারা ঝাঁকুনিতে পেটব্যথা অনুভব করেন। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৩০০ মিটার এই ইটের সলিং তুলে কার্পেটিং করলেই লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে।
আফাজ উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, তাঁর কলেজের শিক্ষার্থীরা রিকশা-অটোরিকশা ও ইজিবাইকযোগে প্রতিদিন আইঙ্গন ইটের রাস্তার ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন। রাস্তাটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। তাই দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং করা উচিত।
ধামরাই পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইঙ্গন রাস্তাটি পৌরসভার মধ্যে পড়ে, তবে তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। তাই পৌরসভার পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও সংস্কার করতে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলমের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নয়ারহাট সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরে আলম সিদ্দিক জানান, ধামরাইয়ের আইঙ্গন ৩০০ মিটার ইটের রাস্তা শিগগিরই টেন্ডারের মাধ্যমে কার্পেটিং করা হবে। এতে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলেও আশা করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন