ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্ত্রীকে হত্যার পর প্রেমিকার কাছে পাঠালেন মরদেহের ছবি!


স্ত্রীকে হত্যার পর প্রেমিকার কাছে পাঠালেন মরদেহের ছবি!

এখন যে মানুষটিকে আপনি দেখতে পাচ্ছেন, প্রথম দর্শনে তার শান্ত এবং ভদ্র প্রকৃতি আপনার নজরে আসবে। কিন্তু যদি আপনি জানেন যে, তার ভালোবাসা এতটাই গভীর যে, তিনি নিজের স্ত্রীকে হত্যা করার পর সেই মরদেহের ছবি ভারতে থাকা প্রেমিকার কাছে পাঠিয়েছেন, তাহলে আপনি অবাক হবেন। শুধু তাই নয়, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে, তিনি পুলিশকে সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প শুনিয়েছিলেন। তবে, তদন্ত যতদূর এগিয়েছে, ততই বেরিয়ে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মী অবিনাশ নার্নে প্রায় নয় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বেলভিউ শহরে অবিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে গত বছরে অক্টোবর মাসে স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ৩০ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী অবিনাশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছিলেন, তিনি কেনাকাটা করতে বাইরে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন যে তার স্ত্রী বাথরুমে আটকে আছেন। কিন্তু যখন পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁকে উদ্ধার করে, তখনই রাজিথার মরদেহ তারা পেয়ে যায়। পরবর্তীতে তদন্তে সিসিটিভি এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার সময় বাসায় কোনও অন্য ব্যক্তি প্রবেশ করেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিশ্চিত করে, রাজিথার মৃত্যু শ্বাসরোধের কারণেই ঘটেছে।

তদন্তে জানা যায়, অবিনাশ ভারতে অবস্থানরত এক নারীর সঙ্গে বহু বছর ধরে গোপন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। সেই সম্পর্ককে চালিয়ে যেতে, তিনি ২০২৫ সালের জুনে রাজিথাকে বিয়ে করেন। এমনকি তার প্রেমিকা সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যার দিন অবিনাশ তার প্রেমিকার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন এবং স্ত্রীকে খুন করার পর তিনি তার প্রেমিকার কাছে ছবি পাঠান।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এদিকে, তদন্তে রাজিথার মোবাইল ফোন থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উদ্ধার করা হয়। সেখানে রাজিথা অভিযোগ করেছিলেন যে, তার স্বামী তাকে অস্বাভাবিক তিতা পানীয় বানিয়ে খাওয়াচ্ছিলেন। এমনকি মৃত্যুর দিনও তিনি লিখেছিলেন, তাকে কাশির সিরাপের মতো স্মুদি খেতে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, যদি অবিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বর্তমানে ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের জামিন অযোগ্য শর্তে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ৪ জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ৪ জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও ১

বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ট্রলারডুবির ঘটনায় চার জেলের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার পরেও, একটি জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। মৃত্যুর খবর পাওয়া চার জেলেকে ট্রলারের ভেতরেই পাওয়া গেছে, আর অন্যান্য সাত জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে জীবিত অবস্থায়।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার সময়, কুতুবদিয়া উপকূল থেকে কিছু দূরে গভীর সাগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন জানান, ‘ট্রলারডুবির ঘটনার পর এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত চার জেলের মরদেহ ডুবে যাওয়া ট্রলারের ভেতর থেকেই পাওয়া গেছে।’

তিনি এইটাও উল্লেখ করেন যে, ট্রলারে মোট ১২ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। তাদের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে আর একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ফারুক হোসেন আরো জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে, ডুবে যাওয়া ট্রলারটি সোমবার রাত ৯টার দিকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়ায় আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ট্রলারের ভেতরে চার জেলের মরদেহ মেলে।’

এ সম্পর্কে কুতুবদিয়া মৎস্য ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম জানিয়েছেন, ‘বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালীর নুরুল আবছারের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার এফবি ফকিরা মসজিদ ছিল। ট্রলারটি ১২ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল এবং ভোরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ডুবে যায়।’

আবুল কালাম আরো বলেন, দুর্ঘটনার পর সাতজন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ জেলের সন্ধানে স্থানীয় জেলেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। বিকালে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছেন, ‘মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে এবং আর নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধার করতে স্থানীয় জেলেরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫মবার জেল গেট থেকে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


৫মবার জেল গেট থেকে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নতুন বিস্ফোরক মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যদিও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) রাত ১০টার সময়ে তাকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেট থেকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

রাসেল পাঠানের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, এটি আদালতের আদেশের সরাসরি অবমাননা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।

এর আগে ৬ জুলাই, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী একটি বেঞ্চ গঠন করে রিট পিটিশন নং ৮৫৮১ এর শুনানি শেষে আদেশ প্রদান করেন। আদালত বিবাদী পক্ষকে নির্দেশ দেয় যে, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া রাসেল পাঠানকে অন্য কোনোভাবে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।

আবেদনকারীর আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু এবং বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করেছিল। রাসেল পাঠানের আইনজীবী সেকান্দার আলীর অভিযোগ, রবিবার বিকেলে তার জামিননামা কারাগারে পৌঁছেছিল। কিন্তু রাত ১০টার পর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে আবারও আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে নতুন একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১২ জুলাই রাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকার স্থানীয় মো. রাকিব বাদি হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের বাতিরকল মোড়ে বাদী ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের অফিসের দিকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

রাসেল পাঠানের পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, রাসেল পাঠান যখন আগের সব মামলা থেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই জেলগেট থেকে নতুন মামলায় গ্রেপতার করা হলো।

রাসেলের মা জোবেদা খাতুন বলেন, "হাইকোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে হয়রানি বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও পুলিশ ২০২৪ সালের পুরোনো ঘটনার নাটক সাজিয়ে নতুন মামলা দায়ের করল। এটি আমাদের পরিবারের প্রতি অবিচার এবং আদালতের আদেশের প্রতি চরম অবজ্ঞা।"

রাসেলের আইনজীবী আরও জানিয়েছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে বারবার হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। বিশেষ করে, যখন উচ্চ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন, তখন তা অমান্য করলে বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ময়মনসিংহের যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠান। তিনি নগরীর সানকিপাড়া শেষ মোড় এলাকার আব্দুর রাজ্জাক পাঠানের ছেলে।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেছেন, আগের সব মামলায় জামিনে থাকলেও নতুন মামলা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ছাড়া অন্য কেউ পাবলিক বিস্ফোরক আইনে মামলা করতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবশ্যই মামলা করতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৪ পি.এম


কক্সবাজারে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কক্সবাজারে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সদর, রামু এবং উখিয়া উপজেলার বন্যার্ত ১ হাজার ৫০০ পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করেন।

এই সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ‘এলাকার সাধারণ মানুষ এবং আমাদের স্থানীয় নেতারা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, খাল খনন কর্মসূচি যদি সত্যিকার অর্থে পরিকল্পিতভাবে আরও কয়েক বছর ধরে অব্যাহত রাখা যায় এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে পরিণত হয়, তাহলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তা থেকে সাধারণ মানুষ অনেকটাই মুক্তি পাবে। ইতোমধ্যে টেকনাফ ও রামুর মানুষ আমাকে জানিয়েছেন, খুব বেশি খাল খনন না হলেও যতটুকু কাজ হয়েছে, তার সুফল তারা ইতোমধ্যেই পেতে শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, গত প্রায় ২০ বছরে দেশের নদী, খাল, বিল, নালা, জলাশয় ও নর্দমাগুলো যেভাবে অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জোরপূর্বক দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অপরিকল্পিত ভরাটের ফলে অনেক জলাশয় তার স্বাভাবিক অস্তিত্বই হারিয়ে ফেলেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে সৃষ্ট এই সংকট কয়েক মাসের উদ্যোগে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য অবশ্যই সময়, পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজন।

উপহার সামগ্রী বিতরণকালে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আনোয়ারও উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোহরাওয়ার্দী মর্গে ঘুষ বাণিজ্য: প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, প্রতিবেদকের বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


সোহরাওয়ার্দী মর্গে ঘুষ বাণিজ্য: প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, প্রতিবেদকের বক্তব্য

গত ৭ জুলাই সময়ে টেলিভিশনের ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘সোহরাওয়ার্দীর মর্গে অন্ধকার বাণিজ্য, ময়নাতদন্তে লাগে ঘুস’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, তার প্রতিবাদ পাঠিয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক ও টক্সিকোলজি বিভাগ। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবেদনটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য উত্থাপিত হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিবেদকের বক্তব্য নিচে উপস্থাপন করা হলো—

প্রতিবেদক সরেজমিনে ময়নাতদন্ত করতে আসা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তারা মর্গের সহকারী জীবন ওরফে জানু লাল এবং একজন বহিরাগত নারী সেলিনা কর্তৃক আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এটি শুধু শেষ কথা নয়, কারণ এই সহকারীরা ময়নাতদন্তে আসা স্বজনদের একটি তালিকা দেন। ওই তালিকায় সাবান, হুইল পাউডার, কর্পূর, হ্যান্ডগ্লাভসসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি সংগ্রহ করার জন্য তাদেরকে বলেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্বজনরা এসব পণ্য বাধ্য হয়ে কিনে দিলেও বাস্তবে তা ময়নাতদন্তের কাজে ব্যবহার করা হয়নি। বরং পণ্যগুলো পার্শ্ববর্তী দোকানে ফেরত দেয়া হয়। এসব হয়রানির বিষয়ে সুস্পষ্ট অভিযোগের সচিত্র প্রমাণ ও বক্তব্য সময় টেলিভিশনের কাছে ক্যামেরায় রেকর্ড করা আছে।

৩০ হাজার টাকা ঘুস প্রসঙ্গ

অনুসন্ধানকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. নাশাত জাবিন মর্গের সহকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক ৩০ হাজার টাকা ঘুস আদায় করেন বলে জানা গেছে। মর্গের একজন সাবেক সহকারী, পরিচয় গোপন রেখে, সময় টেলিভিশনের ক্যামেরায় এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেন। তার দাবি, ৩০ হাজার টাকা না দিলে মর্গে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয় না। উল্লেখ্য, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে জীবন ওরফে জানু লাল একমাত্র আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী। সেলিনা নামে অপর এক নারী সম্পূর্ণ বহিরাগত হয়ে মর্গে প্রবেশ করে যা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই তথ্য আরও নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে যে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাশাত জাবিন স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী না থাকায় টাকা আদায় করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ওই সহকারীর বক্তব্যও সময় টেলিভিশনের কাছে রেকর্ড রয়েছে।

অভিযুক্তকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি প্রসঙ্গ

প্রতিবাদলিপিতে সাক্ষাৎকার নেওয়া অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এই দাবিটি সঠিক নয়। ৩০ জুন অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদক সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে গিয়েছিলেন। সেখানে দেখা হলে, অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযুক্ত চিকিৎসক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবেদককে মেডিকেলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আঈনুল ইসলামের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি আনতে বলেন এবং স্থান বেড়িয়ে যান। প্রতিবেদক অধ্যক্ষের কাছে অনুমতি আনতে গিয়েছিলেন, তবে সেখানে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাশাত জাবিনকে অধ্যক্ষের কক্ষে আলাপরত অবস্থায় দেখেন। ওই সময় ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চাওয়া হলে, অধ্যক্ষ প্রতিবেদককে দুইদিন পর আসার কথা বলেন। এ সম্পর্কে অধ্যক্ষের সহকারীর বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর, ডা. নাশাত জাবিন অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হলে প্রতিবেদনকারী অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানানোর জন্য পুনরায় অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি বলেন, কিছুই জানাবেন না, বরং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করার কথা বলে স্থান ত্যাগ করেন।

প্রতিবাদলিপিতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উত্থাপিত দাবিগুলো সঠিক নয়। সময় টেলিভিশন যথাযথ সম্পাদকীয় নীতি অবলম্বন করে সংবাদটি প্রস্তুত করেছে। প্রতিবেদক হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীদের এবং মর্গের অনিয়ম সম্পর্কে সাবেক কর্মচারীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনও মতামত, বক্তব্য বা চিন্তার প্রকাশ নেই। সম্পূর্ণ ওই ক্ষেত্রে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। যেখানে সময় টেলিভিশনের সম্পাদকীয় নীতির কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%