প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নতুন বিস্ফোরক মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যদিও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) রাত ১০টার সময়ে তাকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেট থেকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
রাসেল পাঠানের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, এটি আদালতের আদেশের সরাসরি অবমাননা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।
এর আগে ৬ জুলাই, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী একটি বেঞ্চ গঠন করে রিট পিটিশন নং ৮৫৮১ এর শুনানি শেষে আদেশ প্রদান করেন। আদালত বিবাদী পক্ষকে নির্দেশ দেয় যে, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া রাসেল পাঠানকে অন্য কোনোভাবে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।
আবেদনকারীর আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু এবং বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত এ রুল জারি করেছিল। রাসেল পাঠানের আইনজীবী সেকান্দার আলীর অভিযোগ, রবিবার বিকেলে তার জামিননামা কারাগারে পৌঁছেছিল। কিন্তু রাত ১০টার পর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে আবারও আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে নতুন একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১২ জুলাই রাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকার স্থানীয় মো. রাকিব বাদি হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের বাতিরকল মোড়ে বাদী ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের অফিসের দিকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
রাসেল পাঠানের পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, রাসেল পাঠান যখন আগের সব মামলা থেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই জেলগেট থেকে নতুন মামলায় গ্রেপতার করা হলো।
রাসেলের মা জোবেদা খাতুন বলেন, "হাইকোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে হয়রানি বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও পুলিশ ২০২৪ সালের পুরোনো ঘটনার নাটক সাজিয়ে নতুন মামলা দায়ের করল। এটি আমাদের পরিবারের প্রতি অবিচার এবং আদালতের আদেশের প্রতি চরম অবজ্ঞা।"
রাসেলের আইনজীবী আরও জানিয়েছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে বারবার হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। বিশেষ করে, যখন উচ্চ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন, তখন তা অমান্য করলে বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ময়মনসিংহের যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল পাঠান। তিনি নগরীর সানকিপাড়া শেষ মোড় এলাকার আব্দুর রাজ্জাক পাঠানের ছেলে।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেছেন, আগের সব মামলায় জামিনে থাকলেও নতুন মামলা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ছাড়া অন্য কেউ পাবলিক বিস্ফোরক আইনে মামলা করতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবশ্যই মামলা করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন