প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গত ৭ জুলাই সময়ে টেলিভিশনের ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘সোহরাওয়ার্দীর মর্গে অন্ধকার বাণিজ্য, ময়নাতদন্তে লাগে ঘুস’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, তার প্রতিবাদ পাঠিয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক ও টক্সিকোলজি বিভাগ। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবেদনটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য উত্থাপিত হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিবেদকের বক্তব্য নিচে উপস্থাপন করা হলো—
প্রতিবেদক সরেজমিনে ময়নাতদন্ত করতে আসা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তারা মর্গের সহকারী জীবন ওরফে জানু লাল এবং একজন বহিরাগত নারী সেলিনা কর্তৃক আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এটি শুধু শেষ কথা নয়, কারণ এই সহকারীরা ময়নাতদন্তে আসা স্বজনদের একটি তালিকা দেন। ওই তালিকায় সাবান, হুইল পাউডার, কর্পূর, হ্যান্ডগ্লাভসসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি সংগ্রহ করার জন্য তাদেরকে বলেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্বজনরা এসব পণ্য বাধ্য হয়ে কিনে দিলেও বাস্তবে তা ময়নাতদন্তের কাজে ব্যবহার করা হয়নি। বরং পণ্যগুলো পার্শ্ববর্তী দোকানে ফেরত দেয়া হয়। এসব হয়রানির বিষয়ে সুস্পষ্ট অভিযোগের সচিত্র প্রমাণ ও বক্তব্য সময় টেলিভিশনের কাছে ক্যামেরায় রেকর্ড করা আছে।
৩০ হাজার টাকা ঘুস প্রসঙ্গ
অনুসন্ধানকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. নাশাত জাবিন মর্গের সহকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক ৩০ হাজার টাকা ঘুস আদায় করেন বলে জানা গেছে। মর্গের একজন সাবেক সহকারী, পরিচয় গোপন রেখে, সময় টেলিভিশনের ক্যামেরায় এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেন। তার দাবি, ৩০ হাজার টাকা না দিলে মর্গে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয় না। উল্লেখ্য, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে জীবন ওরফে জানু লাল একমাত্র আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী। সেলিনা নামে অপর এক নারী সম্পূর্ণ বহিরাগত হয়ে মর্গে প্রবেশ করে যা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই তথ্য আরও নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে যে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাশাত জাবিন স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী না থাকায় টাকা আদায় করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ওই সহকারীর বক্তব্যও সময় টেলিভিশনের কাছে রেকর্ড রয়েছে।
অভিযুক্তকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি প্রসঙ্গ
প্রতিবাদলিপিতে সাক্ষাৎকার নেওয়া অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এই দাবিটি সঠিক নয়। ৩০ জুন অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য প্রতিবেদক সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে গিয়েছিলেন। সেখানে দেখা হলে, অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযুক্ত চিকিৎসক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবেদককে মেডিকেলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আঈনুল ইসলামের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি আনতে বলেন এবং স্থান বেড়িয়ে যান। প্রতিবেদক অধ্যক্ষের কাছে অনুমতি আনতে গিয়েছিলেন, তবে সেখানে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাশাত জাবিনকে অধ্যক্ষের কক্ষে আলাপরত অবস্থায় দেখেন। ওই সময় ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চাওয়া হলে, অধ্যক্ষ প্রতিবেদককে দুইদিন পর আসার কথা বলেন। এ সম্পর্কে অধ্যক্ষের সহকারীর বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর, ডা. নাশাত জাবিন অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হলে প্রতিবেদনকারী অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানানোর জন্য পুনরায় অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি বলেন, কিছুই জানাবেন না, বরং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করার কথা বলে স্থান ত্যাগ করেন।
প্রতিবাদলিপিতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উত্থাপিত দাবিগুলো সঠিক নয়। সময় টেলিভিশন যথাযথ সম্পাদকীয় নীতি অবলম্বন করে সংবাদটি প্রস্তুত করেছে। প্রতিবেদক হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীদের এবং মর্গের অনিয়ম সম্পর্কে সাবেক কর্মচারীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনও মতামত, বক্তব্য বা চিন্তার প্রকাশ নেই। সম্পূর্ণ ওই ক্ষেত্রে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। যেখানে সময় টেলিভিশনের সম্পাদকীয় নীতির কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন