ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই দফার বন্যার আঘাতে কুড়িগ্রামে ব্যাপক ফসলহানি


দুই দফার বন্যার আঘাতে কুড়িগ্রামে ব্যাপক ফসলহানি

অনবরত বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের কারণে কুড়িগ্রামে পরপর দুই দফার স্বল্পমেয়াদী বন্যায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি কৃষকদের জন্য চরম আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকার প্রান্তিক কৃষকদের জন্য। উল্লেখ্য, স্থানীয় কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, বন্যার পানিতে একরের পর একর পটল ও করলার ক্ষেত তলিয়ে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যান্য ফসলের ক্ষেত, বিশেষ করে পাট, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেতগুলো রক্ষার উপায় না থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের ক্ষেত থেকে নষ্ট ও আধপাকা ফসল সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই সপ্তাহ আগে বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের ফলে কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদ-নদীর অববাহিকা এবং বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা তলিয়ে যায়। এর ফলস্বরূপ পটল, শসা, করলা, পাট, বাদাম, আমন বীজতলা সহ নানা ফসল নিমিষে তলিতে যায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দুই দফা বন্যায় ফসলের ক্ষেত দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচে থাকায় তা সম্পূর্ণরূপে পচে গেছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানিয়েছেন, হঠাৎ বন্যায় তাদের উঠতি ফসলের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা ধারদেনা করে লাগানো ফসল থেকে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পরবর্তী ফসল চাষ করার জন্য তারা এখন সরকারি জরুরি সহযোগিতার দাবি জানাচ্ছেন।

কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক মোছাব্বের হোসেন সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানাচ্ছেন, '২ বিঘা জমিতে পটল লাগিয়েছিলাম। কিন্তু সম্পূর্ণ আবাদটাই বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। মাত্র তিন বার পটল তুলে বাজারে বিক্রি করতে পেরেছিলাম। তাতে আমার উৎপাদন খরচই ওঠেনি। এখন সরকারিভাবে সহযোগিতা না পেলে পরবর্তী আবাদের জন্য আমার অর্থনৈতিক সামর্থ্য কোনো নেই।'

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান কৃষকদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, 'বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং পরবর্তী আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিয়ে আমরা কৃষকদের পাশে দাঁড়াব।'

জেলা কৃষি বিভাগের সরকারি তথ্যানুযায়ী, পরপর দুই দফা বন্যার ফলে জেলার ৯টি উপজেলার মোট ৪৯৯ হেক্টর জমির সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটিতে গাছচাপায় একজন নিহত, পাহাড় ছাড়তে প্রশাসনের মাইকিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


রাঙ্গামাটিতে গাছচাপায় একজন নিহত, পাহাড় ছাড়তে প্রশাসনের মাইকিং

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে, কারণ তিনি ধসে পড়া গাছের গোড়ায় চাপা পড়েছিলেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের লাইল্যাঘোনা এলাকায় গাছ চাপার ফলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সকালে লক্ষী বিলাস চাকমা নামের একজন ব্যক্তি একটি মরা গাছের গোড়া পরিষ্কার করার কাজ করছিলেন। এই অবস্থায় হঠাৎ একটি মরা গাছ ধসে গিয়ে তার গায়ের ওপর পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। খবর পাওয়ার পর বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমেনা মারজান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্তব্য করেন, 'গাছ চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। আমরা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী সকলকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।'

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করা হচ্ছে।

কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির ফলে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পাহাড়ে ধসের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বসবাসকারী জনগণের জন্য দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে, তবে অনেক বাসিন্দা এখনই ঘরবাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদি বৃষ্টিপাত আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ জেলেকে নিয়ে ট্রলারডুবি, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৭ পি.এম


১১ জেলেকে নিয়ে ট্রলারডুবি, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ৬

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলের অদূরে বঙ্গোপসাগরে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলেদের মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও ৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

রবিবার (৫ জুলাই) রাত ১০টার দিকে, রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে এটি ঘটেছে।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন- বায়েজিদ (৩০), ইমাদুল সিকদার (৪০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজিব (২৫)।

অন্যদিকে, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পানপট্টি ইউনিয়নের তুলারাম গ্রামের ইমাদুল খা (৪৫), খরিদা গ্রামের হারুন (৬০), গজালিয়া ইউনিয়নের আদানী গ্রামের ফরকান (৪৫), সায়েদ (২০), আল-আমিন (৪০) এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আক্কাস (২৫)।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানিয়েছেন, গলাচিপা উপজেলার পানপুট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের ইমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন ট্রলারটি শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ১১ জন জেলে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে রওনা হয়েছিল। পরবর্তীতে রোববার রাতে সাগরে প্রবল স্রোত ও বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। এ সময় জেলেরা ট্রলারের বিভিন্ন অংশ ও একটি বয়া ধরে সাগরের বুকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ভেসে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে, একই এলাকার ইমাম সিকদারের একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।

ট্রলারডুবির প্রায় দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ ৬ জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। স্থানীয় জেলে ও মাছ ধরার ট্রলারগুলো সাগরে নিখুঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য নিরলস তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজার মো. ইজাজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পরপরই রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে সাগরে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাক টু ব্যাক এলসি কমে যাওয়ায় রফতানি খাতে নতুন শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩২ পি.এম


ব্যাক টু ব্যাক এলসি কমে যাওয়ায় রফতানি খাতে নতুন শঙ্কা

রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে। তবে দেশের অর্থনীতি এখনও প্রত্যাশিতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের এলসি (ঋণপত্র) সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও এ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ভোগ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও পেট্রোলিয়াম আমদানিতে যেমন হ্রাস হয়েছে, তেমনি কমে গেছে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিও। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে রফতানি আয় হ্রাসেরও ইঙ্গিত উৎপন্ন করছে।

বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি গতি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। গত রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি খোলার পরিসংখ্যানে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে এমন এক চিত্র উঠে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ১৪০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে এলসি নিষ্পত্তির হারও ১০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এলসি খোলা হয়েছে শিল্পে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির জন্য, যার পরিমাণ ১ হাজার ৮২১ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৮৭১ কোটি ডলারে ছিল। শুধু এলসি খোলার কথাই নয়, কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি নিষ্পত্তি আড়াই শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

শিল্পে ব্যবহৃত মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এলসি খোলার পাশাপাশি নিষ্পত্তি কমে গেছে। গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে পেট্রোলিয়াম আমদানির জন্য এলসি খোলার হার ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং এলসি নিষ্পত্তি ১৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের উপজীব্য হচ্ছে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির পরিসংখ্যান। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি নিষ্পত্তিতে ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে। একই সঙ্গে রফতানি আদেশের বিপরীতে নতুন এলসি খোলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ না থাকার ফলে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এলসি খোলার পরিসংখ্যানে। ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বহু দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর ফলে কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, মধ্যবর্তী পণ্য কিংবা শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানির সক্ষমতা কমে গেছে। অর্থনীতিতে যে নতুন কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে এখনো বের হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।

এ অবস্থায় অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেছেন, দেশের মুদ্রানীতিকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অন্তত ১০ শতাংশে উন্নীত করা উচিত। এছাড়াও খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়ন এবং যেসব পণ্যে কর বা শুল্ক কমানো হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আমদানি বাড়াতে বাজারভিত্তিক নীতিতে আরও নমনীয়তা আনার প্রয়োজন।

শুধু শিল্প-কারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি নয়, বরং ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানিতেও এলসি কমেছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ এবং এলসি নিষ্পত্তি ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিয়েভসহ আশপাশে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ পি.এম


কিয়েভসহ আশপাশে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ২৩

রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আবারও রক্তাক্ত হলো ইউক্রেনের কিয়েভ। রুশ আগ্রাসন চলেছে রাতভর, যার ফলে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন কিয়েভে এবং আশপাশের অঞ্চলে আরও ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এদিকে যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, তবে ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি আলোচনায় নিজের শর্তে অনড় রয়েছেন।

কিয়েভের রাজধানীতে রাশিয়া চালিয়েছে রাতভর বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। অনেক আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লেগেছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লেও ইন্টারসেপ্টর সংকটের কারণে একটিও ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে তারা।

হামলার পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গুদামে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন যথাযথ সহায়তা পাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না পেলে রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখবে। এই সপ্তাহের ন্যাটো সম্মেলনে তিনি মিত্রদের কাছ থেকে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার আবেদন জানান।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইউক্রেনের জরুরি প্রতিরক্ষা প্রয়োজনকে সম্মেলনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান মানুষের ধারণার চেয়েও কাছাকাছি। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান এবং জেলেনস্কিও এখন শান্তি চান। ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা অব্যাহত থাকায় ট্রাম্পের আশাবাদ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ আগে দেয়া এক বক্তব্যে পুতিন আবারও জানিয়েছেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী হলেও এ বিষয়ে তাদের নিজেদের নির্ধারিত শর্তে আলোচনা হবে। তিনি দাবি করেন, দনবাসসহ দখলকৃত অঞ্চল নিয়ে পূর্ববর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে শান্তি সম্ভব এবং ইউক্রেনকেও কিছু ছাড় দিতে হবে। তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অগ্রগতির কথাও জানান এবং প্রয়োজনে ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেন।

অতএব, কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা ও কঠোর অবস্থানকে ধরে রাখা সংকটের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%