০১:৩২ পি.এম
রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে। তবে দেশের অর্থনীতি এখনও প্রত্যাশিতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের এলসি (ঋণপত্র) সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও এ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ভোগ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও পেট্রোলিয়াম আমদানিতে যেমন হ্রাস হয়েছে, তেমনি কমে গেছে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিও। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে রফতানি আয় হ্রাসেরও ইঙ্গিত উৎপন্ন করছে।
বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি গতি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। গত রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি খোলার পরিসংখ্যানে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে এমন এক চিত্র উঠে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ১৪০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে এলসি নিষ্পত্তির হারও ১০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এলসি খোলা হয়েছে শিল্পে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির জন্য, যার পরিমাণ ১ হাজার ৮২১ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৮৭১ কোটি ডলারে ছিল। শুধু এলসি খোলার কথাই নয়, কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি নিষ্পত্তি আড়াই শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
শিল্পে ব্যবহৃত মধ্যবর্তী পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এলসি খোলার পাশাপাশি নিষ্পত্তি কমে গেছে। গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে পেট্রোলিয়াম আমদানির জন্য এলসি খোলার হার ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং এলসি নিষ্পত্তি ১৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের উপজীব্য হচ্ছে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির পরিসংখ্যান। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি নিষ্পত্তিতে ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে। একই সঙ্গে রফতানি আদেশের বিপরীতে নতুন এলসি খোলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ না থাকার ফলে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এলসি খোলার পরিসংখ্যানে। ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বহু দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর ফলে কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, মধ্যবর্তী পণ্য কিংবা শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানির সক্ষমতা কমে গেছে। অর্থনীতিতে যে নতুন কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে এখনো বের হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।
এ অবস্থায় অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেছেন, দেশের মুদ্রানীতিকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অন্তত ১০ শতাংশে উন্নীত করা উচিত। এছাড়াও খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়ন এবং যেসব পণ্যে কর বা শুল্ক কমানো হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আমদানি বাড়াতে বাজারভিত্তিক নীতিতে আরও নমনীয়তা আনার প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
শুধু শিল্প-কারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি নয়, বরং ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানিতেও এলসি কমেছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ এবং এলসি নিষ্পত্তি ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন