০১:৩৮ পি.এম
রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আবারও রক্তাক্ত হলো ইউক্রেনের কিয়েভ। রুশ আগ্রাসন চলেছে রাতভর, যার ফলে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন কিয়েভে এবং আশপাশের অঞ্চলে আরও ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এদিকে যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, তবে ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি আলোচনায় নিজের শর্তে অনড় রয়েছেন।
কিয়েভের রাজধানীতে রাশিয়া চালিয়েছে রাতভর বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। অনেক আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লেগেছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লেও ইন্টারসেপ্টর সংকটের কারণে একটিও ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে তারা।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
হামলার পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গুদামে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন যথাযথ সহায়তা পাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না পেলে রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখবে। এই সপ্তাহের ন্যাটো সম্মেলনে তিনি মিত্রদের কাছ থেকে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার আবেদন জানান।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইউক্রেনের জরুরি প্রতিরক্ষা প্রয়োজনকে সম্মেলনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান মানুষের ধারণার চেয়েও কাছাকাছি। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান এবং জেলেনস্কিও এখন শান্তি চান। ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা অব্যাহত থাকায় ট্রাম্পের আশাবাদ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ আগে দেয়া এক বক্তব্যে পুতিন আবারও জানিয়েছেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী হলেও এ বিষয়ে তাদের নিজেদের নির্ধারিত শর্তে আলোচনা হবে। তিনি দাবি করেন, দনবাসসহ দখলকৃত অঞ্চল নিয়ে পূর্ববর্তী সমঝোতার ভিত্তিতে শান্তি সম্ভব এবং ইউক্রেনকেও কিছু ছাড় দিতে হবে। তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অগ্রগতির কথাও জানান এবং প্রয়োজনে ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
অতএব, কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা ও কঠোর অবস্থানকে ধরে রাখা সংকটের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন