প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বন্ধুদের মাঝে বসে আছেন, চারপাশের সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে এবং গল্প করছে। তবুও অনুভূতি হচ্ছে যে আপনি অত্যন্ত একা। কখনো কি এমন অনুভূতি আপনার হয়েছে? বিজ্ঞানের পরিভাষায়, এমন অবস্থাকে বলা হয় সাবজেক্টিভ লনলিনেস বা আত্মগত একাকিত্ব।
মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এস ভাইসের মতে, মানুষের একাকিত্বের দুটি প্রধান প্রকার রয়েছে। প্রথমটি হলো Social Loneliness, যা আশেপাশে মানুষের অভাব নির্দেশ করে। অপরটি হলো Emotional Loneliness, যা ভালোবাসার মানুষের অভাব বোঝায়। যখন কেউ মানুষের ভিড়ে বা বন্ধুদের মাঝে থেকেও নিজের আবেগ প্রকাশ করতে অক্ষম হয়, অথবা অপরপক্ষের কাছ থেকে পারস্পরিক বোধগম্যতা পায় না, তখনই তার মধ্যে Emotional Loneliness তৈরি হয়।
মূলত, যখন আমরা আশেপাশের মানুষের সাথে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি এবং চলাফেরা করতে পারি, তখন আমাদের দেহে অক্সিটোসিন নামক 'বন্ডিং হরমোন' নিঃসৃত হয়। কিন্তু যদি সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারি, অথবা সামাজিক প্রত্যাখ্যান, উপেক্ষা বা অস্বস্তির সম্মুখীন হই, তাহলে দেহে স্ট্রেস বৃদ্ধিজনিত কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে, ভিড়ের মাঝেও একাকিত্ব অনুভব হতে পারে।
সাবজেক্টিভ লনলিনেসের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষের আচরণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি বন্ধুদের সঙ্গে বাসে করে কোথাও ঘুরতে যান এবং তারা সবাই পাশাপাশি বসে, আর আপনাকে বারবার একা অন্য একটি সিটে বসতে হয়, তাহলে তা একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। আবার, যখন তারা হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের মধ্যে গল্প করছে এবং আপনি নীরবে তাদের পেছনে হাঁটছেন, তাও একাকিত্বের অনুভূতি সৃষ্টি করে। যদি আপনি কথা বলার চেষ্টা করেন কিন্তু কেউ গুরুত্ব না দেয় বা বারবার কথার মাঝেই থামিয়ে দেয়, তাহলে সেটিও একাকিত্বের অনুভূতি বাড়ায়। বন্ধুদের মাঝে হাসি-ঠাট্টা স্বাভাবিক হলেও, যদি সবসময় আপনাকেই লক্ষ্য করে মজা করা হয়, তাহলে এসব অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে আত্মগত একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রথমে প্রয়োজন সোশ্যাল মাস্কিং কমানো—অর্থাৎ অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের প্রকৃত অনুভূতি সবসময় লুকিয়ে না রাখা। আশেপাশের ফ্রেন্ড সার্কেলে পরিবর্তন আনাও জরুরি। এমন বন্ধুদের সাথে চলা উচিত যারা আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেবে এবং আপনাকে মূল্যায়ন করবে। তবে প্রত্যাশা করা উচিত নয় যে, সবাই আপনাকে সবসময় সমানভাবে গুরুত্ব দেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের সাথে একা সময় কাটানোকে শাস্তি হিসেবে না দেখে, বরং উপভোগ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।
লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম
শিক্ষার্থী,রসায়ন বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন