ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদ্রাসায় বলাৎকার-অশালীন ঘটনা লজ্জাজনক: ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন


মাদ্রাসায় বলাৎকার-অশালীন ঘটনা লজ্জাজনক: ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, মাদ্রাসায় বলাৎকার বা অশালীন কর্মকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। তিনি আরও জানান, সরকার এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব বিষয়েই নজর রাখছেন। শরিয়াহ অনুযায়ী হারাম ও হালাল কাজের বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: এনসিপি জামায়াতের পেটে ঢুকে গেছে: আবু হানিফ

ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

সম্মেলনে তিনি দেশের ইমাম সমাজকে উসকানিমূলক কথা না বলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্জিত ভাষায় দাওয়াত দেয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় মন্ত্রী খুদবায় সমাজের অসংগতি, মাদক এবং চাঁদাবাজির অপরাধ সম্পর্কে তুলে ধরার নির্দেশও দেন।

আরও পড়ুন: মেঘনা আলম: খালেদা জিয়ার মতো বিনাবিচারে কারাবরণ করেছি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত, ২ জন গুরুতর আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


যশোরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত, ২ জন গুরুতর আহত

যশোরে সংঘটিত দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- যশোর সদর উপজেলার মণ্ডলগাতী এলাকার শামিম হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন, যশোর শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম জয় এবং একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মণ্ডলগাতী এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক এবং রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব হাসান রিফাত।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে সিয়াম হোসেন, ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাত একই মোটরসাইকেলে মণ্ডলগাতী এলাকা থেকে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের মোটরসাইকেলটি নতুনহাট মোড় পার হওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। নিহত সিয়াম হোসেন বেনাপোলগামী মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত অপর দুজন যশোরগামী মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আহত ওমর ফারুক ও রাকিব হাসান রিফাতকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তার পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উল্লাপাড়ায় যুবক আকরামকে কুপিয়ে হত্যা, বন্ধু মারুফ আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৬ পি.এম


উল্লাপাড়ায় যুবক আকরামকে কুপিয়ে হত্যা, বন্ধু মারুফ আটক

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আকরাম সরকার নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগে তার বন্ধু মারুফ তালুকদারকে পুলিশ আটক করেছে। জানা গেছে, মারুফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

শুক্রবার রাতে উপজেলার গয়হাট্টা কোনাগাঁতী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

আকরাম সরকার ওই গ্রামের আব্দুর রহিম সরকারের পুত্র। অভিযুক্ত মারুফ তালুকদার গয়হাট্টা খোশালপুর গ্রামের মোহাম্মদ তালুকদারের সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মারুফ আকরামের বন্ধু।

আকরামের বাবা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলের দিকে মারুফ ফোন করে আকরামকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। এরপর সন্ধ্যার পর থেকে আকরামের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজার চেষ্টা করেও তার সন্ধান পাননি। পরে মারুফের বাড়িতে গিয়ে তার আঙিনায় আকরামের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এ সময় অভিযুক্ত মারুফ বাড়ির একটি কক্ষে ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মারুফকে আটক করে। পরে আকরামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে ফের হামলার চেষ্টা, ভূপাতিত করল সৌদি জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


রিয়াদে ফের হামলার চেষ্টা, ভূপাতিত করল সৌদি জোট

ইরানের সমর্থনে থাকা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আবারও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে, তারা দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান শহরের দিকে দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোনও নিক্ষেপ করেছে।

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে নস্যাৎ করে দিয়েছে। সৌদি-ইয়েমেন প্রতিরক্ষা জোট ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশে থাকতেই ভূপাতিত করেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি বিবৃতির মাধ্যমে জোট হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা জানায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার চেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে এই সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে, ভোর ৪টার কিছু সময় পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের 'আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম'-এর মাধ্যমে রিয়াদ, নাজরান এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়াদি আল-দাওয়াসিরে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজধানী রিয়াদজুড়ে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

সৌদি-ইয়েমেন জোট বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এক্সে জানান, রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। এর আগে, তিনি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরও একটি ড্রোন ধ্বংসের খবরও জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন রূপে সাজছে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


নতুন রূপে সাজছে বাংলা একাডেমির ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’

পলিয়ার ওয়াহিদ

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : হেমন্তের মায়াবী দুপুরে চারদিকে সোনালি রোদ ঝিলমিল করছে। আকাশে কিছু ছন্নছাড়া মেঘ ভাসছে। বর্ধমান হাউসের ঘন গাছের ওপর রোদ পড়ছে। দূরে দাঁড়িয়ে পুরোনো কিন্তু আভিজাত্যময় বর্ধমান হাউসের বলাকা রঙের সৌন্দর্য দেখছিলাম। যদিও এটি জীর্ণ ও মলিন, তবুও এর রাজকীয় আভা ঠিকই ঝলমল করছে।

প্রায় একশ বছর আগে, ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কবি কাজী নজরুল ইসলাম মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকায় এসে জাতীয় কবি এই ভবনে কিছুদিন ছিলেন, যা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কবির বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনের বাসভবন ছিল। নজরুল এখানে পুকুরে গোসল ও সাঁতার কাটতেন এবং বিকাল ও সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন।

কবির অবস্থানের স্মৃতি নিয়ে ভবনটি আজও দাঁড়িয়ে আছে। স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২৯ আগস্ট ১৯৭৮ সালে দোতলার পশ্চিমপাশে কবির থাকার ঘরটিকে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন। আজ আমি সেই স্মৃতিকক্ষ দর্শনে এসেছি এবং সরেজমিনে এর প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করছি।

বর্ধমান হাউসে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই বাইরে রঙচটা বিশাল দেয়ালে একটি ক্ষুদ্র কাচের সাইনবোর্ড দেখা যায়। সেখানে ছোটহরফে লেখা রয়েছে দ্বিতীয় তলায় ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ।’ এটি আলাদা করে চোখে পড়ার মতো নয়। সিঁড়ি ভেঙে নিচতলায় পা রাখতেই বাঁপাশে ‘জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর’ দেখা যায়। জাদুঘরের অনুমতি নিয়ে ছবি তোলার পর দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করি।

পুরোনো মেহগনি কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে চোখে পড়ে ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতির ছাপ। সিঁড়ির পাশে সূক্ষ্ম কারুকাজ করা লোহার রেলিং রয়েছে। কাঠ ও লোহার এই যুগলবন্দিতে যেন আজও বেঁচে আছে বর্ধমান হাউসের আভিজাত্য ও ইতিহাস।

দোতলায় ওঠার পর ডানপাশে ‘ভাষা আন্দোলন জাদুঘর’ এবং বামদিকে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ রয়েছে।

সেখানে নজরুল ও বিষাদসিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের আবক্ষ ভাস্কর্য রয়েছে। বাইরে বিশাল তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে পড়ি। জানতে পারি, কক্ষটি সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

অগত্যা পরের দিন আবার আসি। সেদিনও তালা ঝুলতে দেখি। বাংলাদেশ শিল্পীকল্যাণ ট্রাস্টের অফিসে একজনকে পেয়ে জানালেন, ‘ও রুমের লোক পাশের বিল্ডিংয়ে গেছেন।’ এরপর তৃতীয় তলায় উঠে যাই। সেখানে ‘মহাফেজখানা’ ও ‘লোকঐতিহ্য জাদুঘর’ ঘুরে নিচে নেমে আসি। কিছুক্ষণ পর গিয়ে দেখি এবার দরজা আবছা ভেড়ানো।

মনটা খুশিতে ভরে গেল। ভেতরে প্রবেশের জন্য জুতা খুলতে হলো। মনে হলো, শ্রদ্ধামাখা কোনো ঘরে ঢুকছি। যদিও কল্পনার মতো নয়, তবে এটি ছিমছাম ও সাদামাটা ছোট কামরা। নজরুলবর্ষ উপলক্ষে সংস্কারের কাজ চলছে। ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ বলতে কয়েকটি ছোট-বড় ছবি ও কিছু বইপত্র রয়েছে। তিনটি বইয়ের আলমারিতে সাজানো বই ও পত্রপত্রিকা রয়েছে। সামান্য আয়োজন হলেও শ্রদ্ধা ও যত্নের অভাব নেই। এটি বেশ পরিষ্কার ও পরিপাটি।

কক্ষের চারদিক নজরুলের বিভিন্ন ধরনের ছবি দিয়ে সাজানো। বাঁদিকের প্রথম ছবিতে দুই নারীকে নজরুলের গান শেখানোর দৃশ্য দেখা যায়। তার নিচে নজরুলের তিন ছেলে সাব্যসাচী, অনিরুদ্ধ ও বুলবুলের ছবি রয়েছে। এরপর নজরুলের প্রৌঢ় ও যৌবনের দুটি ছবি টাঙ্গানো। নতুন কালেকশানগুলো এখনো অপ্রস্তুতভাবে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ ছবির পাশে ক্যাপশন নেই, ফলে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হয়। বড় একটি টেবিলের ওপর প্রমীলার ছবি, কবির গানের খাতা ও পাণ্ডুলিপি রয়েছে। পুরোনো কিছু ছবি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আরেকটি টেবিলে কাঁঠালি রঙের ফুলদানিতে বেগুনি ও কুসুম রঙের ফুলের পাশে নজরুলের ছোট আবক্ষ মূর্তিটি আকর্ষণীয়। তার পাশেই নজরুলকে ঘিরে তৎকালীন ঢাকার লেখক সমাজের সাদাকালো ছবি রয়েছে।

'নজরুল স্মৃতিকক্ষ' সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রখ্যাত নজরুল গবেষক ও আধিপত্যবাদবিরোধী কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, "বহুদিন যাবত শুনেছি কক্ষটি সংস্কার করা হবে। কিন্তু করা হচ্ছে না কেন জানি না।"

নজরুল কক্ষ নিয়ে কোনো আইডিয়া আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, "সবচেয়ে ভালো হবে বাংলা একাডেমির পুকুরটিকে ‘নজরুল স্মৃতিবিজড়িত পুকুর' লিখে ঘাটে একটা বড় সাইনবোর্ড ব্যবহার করলে। নজরুল বর্ষে এটি অভিনব ঘটনা হবে।"

বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের দোতলায় অবস্থিত নজরুল স্মৃতিকক্ষ শুধুমাত্র কবির স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের স্থান নয়, এটি নজরুলের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাংলা একাডেমির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এখানে কবির রচনাবলি ও তাঁর জীবন-সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন উপকরণ সংরক্ষিত রয়েছে।

নজরুল গবেষণায় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক আনোয়ারুল হক বলেন, "নজরুল স্মৃতিকক্ষে নজরুলের ওপর গবেষণাধর্মী সব বইয়ের কালেকশন ও ঢাকায় নজরুল আর কী কী করেছেন তার একটি দিনপঞ্জিও থাকতে পারে। এ ছাড়া বাংলা একাডেমিতে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ আছে, এটা অনেকেই জানে না। এর প্রচার-প্রচারণা দরকার।"

জাদুঘর থেকে বেরুতেই কবি ও প্রতিভাবান গীতিকার মহসিন আহমেদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "নজরুল স্মৃতিকক্ষসহ বাংলা একাডেমিতে এতগুলো জাদুঘর আছে, তা বেশিরভাগ দর্শক তো দূরের কথা লেখকরাই জানেন না। একাডেমির প্রধান গেটে জাদুঘরগুলোর একটা ম্যাপ থাকলে ভালো হয়।"

নজরুল বর্ষ ও নজরুল গবেষকদের এসব দাবির প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, "আমাদের নজরুল একাডেমি বা ইনস্টিটিউটের মতো ডেডিকেটেড তেমন কিছু করার সুযোগ কম। তবুও আমরা কক্ষটি সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছি। সংস্কার ও নতুনরূপ দেওয়ার জন্য বিখ্যাত আলোকচিত্রী ও লেখক নাসির আলী মামুনের সঙ্গে চুক্তিও করেছি। তিনি কবির ছবির বিরল কিছু সংগ্রহ দিয়েছেন। কিছু ছবির সেটাপের কাজ চলছে। কক্ষ ছোট হওয়ায় সব ছবি ধরবে না। যতটা নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা সম্ভব, সেটা করব। এ ছাড়া কাজী নজরুলের ওপর গবেষণাধর্মী বইয়ের সংগ্রহ তো আছে।

আরও বাড়ানো হবে। আর পুকুরের বিষয়টি যেহেতু আলোচনায় এসেছে, আমরা পদ্ধতিমাফিক আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।"

বর্ধমান হাউসের মূল ফটক পেরিয়ে যখন রাস্তায় নামি, তখন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। ভাবছিলাম, নজরুল স্মৃতিকক্ষের সংস্কারের পাশাপাশি কক্ষটির পরিচিতি বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ জরুরি। এতে কক্ষটি নতুন প্রজন্মের নজরুলচর্চা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে। সংশ্লিষ্টদেরও প্রত্যাশা এমনই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%