মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৭ পি.এম
যশোরের কেশবপুরে মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা পরিবহনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে।
১৩ অক্টোবর সোমবার বিকেলে উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের ভেরচী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে।
এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে ভেরচী গ্রামের সড়ক দিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির মৎস্য ঘেরে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দুটি আলমসাধুতে ৩২ ড্রাম মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ব্যক্তি। খবর পেয়ে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস তাদের আটক করেন। পরে ইউএনও আনোয়ার হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) আইন ২০২০ অনুযায়ী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কোমলপুর গ্রামের মাহাবুর রহমানকে (৩৮) ২ হাজার টাকা এবং একই উপজেলার ঘুটুদিয়া গ্রামের জাহিদুর ইসলামকে (৩৮) ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
দেশে মাছের খাদ্য বা পুকুরের সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে মাছের খাদ্য বা ঘেরে সরাসরি মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।
অতীতে কিছু ক্ষেত্রে পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে ফাইটোপ্লাংটন বা অ্যালগি (শৈবাল) তৈরির জন্য জৈব সার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা বা পোল্ট্রি ওয়েস্ট ব্যবহার করা হতো। তবে কাঁচা বা অপরিশোধিত মুরগির বিষ্ঠায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও বিষাক্ত উপাদান থাকে, যা মাছের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকার কারণে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, প্রশাসন কীভাবে তাকে সহায়তা করবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চুয়েটের শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগপূর্বক সম্মানের সাথে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আল্টিমেটামের ঘোষণা দেয়। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চুয়েট উপাচার্য কোনো মন্তব্য করেননি।
আজ সকালে গণমাধ্যমকর্মীরা উপাচার্যের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলেও তিনি রাজি হননি।
নিজের কক্ষের সামনে থেকে তিনি বলেন, "আমরা এখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছি। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে এটা তাদের ব্যাপার।"
প্রসঙ্গত, গত সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে নতুন উপাচার্য উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। বিকেলে হাটহাজারী এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদল কর্তৃক চুয়েটগামী বাসের উপর হামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের এই আল্টিমেটাম আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্তব্য করেছেন যে, আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারি প্রণোদনার কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সর্বত্র অনুভূত হচ্ছে।
তিনি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন।
কায়সার কামাল বলেন, জনগণের কাছে সরকারি সেবা ও সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছানোর জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার অপরিহার্য।
ডেপুটি স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক সংস্কার একা যথেষ্ট নয়; বরং আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কারও প্রয়োজন।
তিনি নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কায়সার কামাল বলেন, দেশ গঠনে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধীদলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের অব্যাহত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বরিশাল বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতু বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মৃতের বোন মিতারা খানম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে মৃত ঝুমুর খানম সেতুর কুয়েত প্রবাসী স্বামী গৌরনদীর চরগাধাতলী গ্রামের কাজী সাহাবুদ্দিন, তার মা রুনু বেগম, বোন শারমিন কাজী, নাজমিন কাজী এবং তার স্বামী সাইদুল হাওলাদার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে সামাজিকভাবে কাজী সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ঝুমুর খানম সেতুর বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাইফা নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
মৃতের স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকে আসামিরা ঝুমুরকে নানা কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। তিন বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিন কাজের সুবাদে কুয়েত যান এবং পরবর্তী সময়ে তার নির্দেশে তার মা, বোন ও বোন-জামাতা ঝুমুরের ওপর মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ডিসেম্বর মাসে ঝুমুর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
ঘটনার দিন, ৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে প্রবাসী সাহাবুদ্দিন ভিডিও কলের মাধ্যমে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিষপান করে আত্মহত্যার কথা বলেন। ফলে স্বামীর অব্যাহত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঝুমুর বাবার ঘরে থাকা ঘাস মারার ওষুধ (বিষ) পান করেন।
পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৫ অক্টোবর দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমুরের মৃত্যু ঘটে। পরে, মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর রাতে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুরকে দাফন করা হয়।
ঝুমুরের বাবা করিম খান জানান, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রীকে না আনাসহ এবং তার মেয়ে দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাতসহ বিদেশে যাওয়ার সময় সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের দাবীকৃত পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ার কারণে ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে করিম খান বলেন, "এভাবে যেন আর কোনো বাবা-মায়ের তার মেয়েকে হারাতে না হয়। আমি আমার মেয়ে ঝুমুরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে হেনস্তার ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উল্লেখ করেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে, যা তিনি আওয়ামী সন্ত্রাস হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ বিষয়ে সরকার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, "প্রতিশোধ নয়, ন্যায় বিচার নিশ্চিতে হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা।"
তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, যারা মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধে জড়িত, তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, "যে দল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলে গেছে, তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনুতাপের কোনো লক্ষণ নেই। বরং তারা নানা সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে।" ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে কারণ তার অপরাধ ছিল শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করা। একই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীও।
ডা. জাহেদ বলেন, যে দল দেশের ভেতরে সহিংসতা ও সন্ত্রাস উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের প্রধান করে; সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে রিকনসিলিয়েশনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
তিনি জানান, যদি রিকনসিলিয়েশনের কোনো সম্ভাবনা থেকে থাকে, তাহলে তা আওয়ামী লীগকে তাদের জায়গা থেকে বলার কথা ছিল। তিনি বলেন, "দুই বছর পরে এবং তাদের আচরণ দেখে রিকনসিলিয়েশনের আদৌ কোনো সম্ভাবনা আমি দেখি না।" ক্ষমা চাওয়া বা অনুতাপের বিষয় দূরে থাকুক; তারা হুমকি দিচ্ছে এবং সহিংসতা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ডা. জাহেদ আরও বলেন, ড. ইউনূস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার চেষ্টা আওয়ামী সন্ত্রাস। এ বিষয়ে লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এ ধরনের পদক্ষেপ আনচ্যালেঞ্জড যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ