প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের অব্যাহত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বরিশাল বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতু বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মৃতের বোন মিতারা খানম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে মৃত ঝুমুর খানম সেতুর কুয়েত প্রবাসী স্বামী গৌরনদীর চরগাধাতলী গ্রামের কাজী সাহাবুদ্দিন, তার মা রুনু বেগম, বোন শারমিন কাজী, নাজমিন কাজী এবং তার স্বামী সাইদুল হাওলাদার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে সামাজিকভাবে কাজী সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ঝুমুর খানম সেতুর বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাইফা নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
মৃতের স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকে আসামিরা ঝুমুরকে নানা কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। তিন বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিন কাজের সুবাদে কুয়েত যান এবং পরবর্তী সময়ে তার নির্দেশে তার মা, বোন ও বোন-জামাতা ঝুমুরের ওপর মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ডিসেম্বর মাসে ঝুমুর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
ঘটনার দিন, ৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে প্রবাসী সাহাবুদ্দিন ভিডিও কলের মাধ্যমে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিষপান করে আত্মহত্যার কথা বলেন। ফলে স্বামীর অব্যাহত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঝুমুর বাবার ঘরে থাকা ঘাস মারার ওষুধ (বিষ) পান করেন।
পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৫ অক্টোবর দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমুরের মৃত্যু ঘটে। পরে, মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর রাতে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুরকে দাফন করা হয়।
ঝুমুরের বাবা করিম খান জানান, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রীকে না আনাসহ এবং তার মেয়ে দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাতসহ বিদেশে যাওয়ার সময় সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের দাবীকৃত পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ার কারণে ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে করিম খান বলেন, "এভাবে যেন আর কোনো বাবা-মায়ের তার মেয়েকে হারাতে না হয়। আমি আমার মেয়ে ঝুমুরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন