শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৯ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা "ছাত্রদলের রাকিবকে অনুসরণ করুন" মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
উপাচার্য জানান, তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে অনুসরণ করতে বলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদলের ওই অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাকিবের কাজের প্রতি আগ্রহ, সক্রিয়তা ও কর্মনিষ্ঠার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা যেন রাকিবের মতো আরও দায়িত্বশীল ও কর্মনিষ্ঠ হন।
অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন আরও উল্লেখ করেন, তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে মনে হয়েছে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে একজন নির্দিষ্ট ছাত্রনেতাকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।
তিনি বলেন, "রাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তার কর্মনিষ্ঠার বিষয়টিই আমি উদাহরণ হিসেবে বলেছি।" উপাচার্যের মতে, কোনো ব্যক্তির একটি ইতিবাচক গুণের প্রশংসা করা মানেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বা মতাদর্শকে সমর্থন করা নয়।
এছাড়া, তিনি জানান, ভালো গুণ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের একক বিষয় নয়। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের মধ্যে ভালো বৈশিষ্ট্য থাকলে সেটি উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা যেতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির একটি ভালো দিক অনুসরণ করার অর্থ তাঁর সব রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুসরণ করা নয়।
নিজের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, "কোনো বক্তব্যের একটি অংশ আলাদা করে বিচার না করে সেটি কোন পরিস্থিতিতে এবং কাদের উদ্দেশে বলা হয়েছিল তা বিবেচনা করা উচিত।"
সমালোচনার বিষয়ে অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, "দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হলে গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হেয় করা উচিত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কল্যাণকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জবি ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। ওই বক্তব্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাকিবকে অনুসরণ করার আহ্বান জানানোর বিষয়টি সামনে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে রাতের অন্ধকারে খাবারের সঙ্গে বা স্প্রে ব্যবহার করে চেতনানাশক প্রয়োগের মাধ্যমে দুই পরিবারের ১০ জন সদস্যকে অসুস্থ করে একটি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনা ঘটে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ভান্ডারিকাঠী গ্রামের দুটি আলাদা বাড়িতে।
অসুস্থদের উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে গারুড়িয়া ইউনিয়নের ভান্ডারিকাঠী গ্রামের ফারুক খান মাস্টারের ঘরে চেতনানাশক প্রয়োগ করে। এর ফলে রাত ৯টার পর থেকে এক শিশুসহ পরিবারের ৩ জন অচেতন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, একই রাতে পার্শ্ববর্তী সুখী নীলগঞ্জ এলাকার আব্দুল খানের বাড়িতেও একই কায়দায় চেতনানাশক ব্যবহার করে দুষ্কৃতকারীরা। সেখানে পরিবারের ৭ জন সদস্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে সবাইকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান। দুর্বৃত্তরা আব্দুল খানের বাড়ি থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা, সোনার চেইন ও কানের দুলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানিয়েছেন, চেতনানাশকের কারণে রোগীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন এবং হাসপাতালে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০২৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সমাবেশের সময় গোলাপি বেগমের অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রায় এক বছর ধরে তার চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে, তার স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে গোলাপি বেগমের জন্য একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় গোলাপি বেগমকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও শাহাদত হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, হাসানুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংগঠনটি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ছয়টি বাসে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ খানের নেতৃত্বে শুরু হতে যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে নোওর, তুরাগ, কালিগঙ্গা, পদ্মা, আড়িয়াল ও ঐতিহ্য বাসে রাউটার স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে এই উদ্দেশ্যে রাউটার সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বাসে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ যাত্রাপথে মোবাইল ডাটা শেষ হয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ডাটা প্যাকেজের অভাব কিংবা নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে সমস্যায় পড়েন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে যাতায়াতের সময় ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে স্পন্সর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত ছয়টি বাসে রাউটার স্থাপন করা হবে। প্রতিটি বাসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৩২ জন শিক্ষার্থী ওয়াই-ফাইয়ে সংযুক্ত হতে পারবেন। জরুরি প্রয়োজনে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সহজে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম মাসের ইন্টারনেট খরচ জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ খান নিজেই বহন করবেন। পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় সংশ্লিষ্ট বাসের শিক্ষার্থীদের দ্বারা বহন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জকসুর নির্বাচনি ইশতেহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোতে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহিদ খান।
এ বিষয়ে জকসুর পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ খান বলেন, "যাদের জরুরি প্রয়োজন নেই, তাদের ওয়াই-ফাই ব্যবহার না করার অনুরোধ করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনের সময় ইন্টারনেট দরকার এমন শিক্ষার্থীরা সংযোগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।" কোনো বাসে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে ওয়াই-ফাইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাবে। তবে, এতে মাসিক খরচও বাড়বে এবং অতিরিক্ত ব্যয় সংশ্লিষ্ট বাসের শিক্ষার্থীদের বহন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, "একজন শিক্ষার্থীর মাসে ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হলেও যাতায়াতের সময় প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের উপকার হবে।" বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী দূর-দূরান্ত থেকে বাসে যাতায়াত করেন। তাদের কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রমটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সব বাসকে ওয়াই-ফাইয়ের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আমাদের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক স্যার আমাকে অনেক সহযোগিতা করছেন।
এ বিষয়ে জবির পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, "কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোতে ট্র্যাকিংয়ের জন্য জিপিএস স্থাপন করা হয়েছে। এখন পরীক্ষামূলকভাবে বাসগুলোতে রাউটার স্থাপন করা হচ্ছে। মূলত মাহিদের উদ্যোগেই এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।" এতে আশানুরূপ ফল পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সব বাসে এই সুবিধা চালু করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬১টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব ডাস্টবিনের অনেকগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ার কারণে ডাস্টবিনের চারপাশে আবর্জনা জমা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৯৯ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৫৫টি সোলার স্ট্রিট লাইট ও ২৬১টি স্টেইনলেস স্টিল ওয়েন্টবিন (ডাস্টবিন) বসানো হয়েছে। পৌরসভা এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করেছে। স্ট্রিট লাইটের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৪১০ টাকা এবং ডাস্টবিনের জন্য খরচ হয়েছে ৯৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৯৯৯ টাকা।
পৌর শহরের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, ডাস্টবিনে ময়লা জমে রয়েছে। অনেক স্থানে ডাস্টবিনের বাইরেও আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ময়লা অপসারণ না করায় কোথাও কোথাও ডাস্টবিনের চারপাশ ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি প্রবহমান খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডাস্টবিন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে ডাস্টবিনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যত্রতত্র ময়লা ফেলায় পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।
পৌরবাসীর দাবি, ডাস্টবিন স্থাপনের পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্থাপিত এসব ডাস্টবিন নাগরিক সুবিধার পরিবর্তে দুর্ভোগের কারণ হয়ে থাকবে। জনবসতি এলাকায় ছোট ডাস্টবিন দিয়ে হয় না, তাই পৌরসভার উদ্যোগে নতুন করে ডাস্টবিন বসানো উচিত।
ময়লা পরিষ্কার ও ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে মঠবাড়িয়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ডাস্টবিনগুলো কবে স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। তিনি জানান, কোনো ডাস্টবিন নষ্ট হয়ে থাকলে বা সেখানে ময়লা জমে থাকার অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। তবে জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় নিয়মিত পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ