প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা "ছাত্রদলের রাকিবকে অনুসরণ করুন" মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
উপাচার্য জানান, তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে অনুসরণ করতে বলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদলের ওই অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাকিবের কাজের প্রতি আগ্রহ, সক্রিয়তা ও কর্মনিষ্ঠার উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা যেন রাকিবের মতো আরও দায়িত্বশীল ও কর্মনিষ্ঠ হন।
অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন আরও উল্লেখ করেন, তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে মনে হয়েছে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে একজন নির্দিষ্ট ছাত্রনেতাকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।
তিনি বলেন, "রাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তার কর্মনিষ্ঠার বিষয়টিই আমি উদাহরণ হিসেবে বলেছি।" উপাচার্যের মতে, কোনো ব্যক্তির একটি ইতিবাচক গুণের প্রশংসা করা মানেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বা মতাদর্শকে সমর্থন করা নয়।
এছাড়া, তিনি জানান, ভালো গুণ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের একক বিষয় নয়। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের মধ্যে ভালো বৈশিষ্ট্য থাকলে সেটি উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা যেতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির একটি ভালো দিক অনুসরণ করার অর্থ তাঁর সব রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুসরণ করা নয়।
নিজের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, "কোনো বক্তব্যের একটি অংশ আলাদা করে বিচার না করে সেটি কোন পরিস্থিতিতে এবং কাদের উদ্দেশে বলা হয়েছিল তা বিবেচনা করা উচিত।"
সমালোচনার বিষয়ে অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, "দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হলে গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হেয় করা উচিত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কল্যাণকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জবি ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। ওই বক্তব্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাকিবকে অনুসরণ করার আহ্বান জানানোর বিষয়টি সামনে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন