বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৬ পি.এম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়ন থেকে শরীফপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন হাছানহাট সংযোগ সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা মোট ৫ কোটি টাকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর রেলিংয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীও ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে, পায়ের আঘাতে স্ল্যাব ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্ল্যাবের ভাঙা অংশে রডের পরিবর্তে জিআই তার রয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে বদলি করা হয়েছে।
নোয়াখালী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল কৌশিক বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রকৌশলীকে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রকৌশলীকে ঢাকা থেকে বদলি করা হয়েছে এবং দুই কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। এলজিইডি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়ন থেকে শরীফপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৯.৬ মিটার। বিশ্বব্যাংক প্রকপ্লে আওতায় সেতুর প্রকল্প ব্যয় ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজটি করছে মেসার্স হক ট্রেডার্স, যেখানে মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার মো. ফরহাদ পাটোয়ারী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই নিম্নমানের সিমেন্ট, বালু, রড, ইটের খোয়া ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেতুর রেলিংয়ে নিম্নমানের রড ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউল হক বাবলু বলেন, একলাশপুর, শরীফপুর ও নেয়াজপুর ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন সেতুটির ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন। তিনি জানান, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফুটপাতের স্ল্যাব নির্মাণের পর হালকা আঘাতেই সেটি ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মামুন বলেন, সেতুর রেলিংয়ে নিম্নমানের মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ও রড ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানান, নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহারের কারণে হাত দিয়ে টান দিলেই রেলিং থেকে সিমেন্ট ও পাথর খসে পড়ছে। এ ধরনের কাজের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল কৌশিক পৃথক তিনটি চিঠি দেন। এর মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করেননি। এটি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী। তাদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না, তা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে দেওয়া চিঠিতে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মাণকাজের ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশোধিত কাজের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না করে কোনো বিল পরিশোধ করা যাবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার ফরহাদ পাটোয়ারী জানান, তিনি ৫ আগস্টের পর বাবলু নামে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলেন, "এটি একটি চলমান কাজ। একটি স্থানে দুটি স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক জিআই তার ব্যবহার করা হয়েছিল।" বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে দুপাশের পুরো স্ল্যাব ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, কয়েকটি স্ল্যাব নিম্নমানের মনে হওয়ায় সেগুলো ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, "গত সোমবার স্ল্যাবগুলো ভাঙার সময় অতিউৎসাহী কিছু লোকজন সেখানে গিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধ, সংঘাত ও কূটনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, পাশাপাশি অতীতের স্মরণীয় ঘটনাগুলোও পুনরায় আলোচনায় উঠে আসছে।
জাতিসংঘের ইতিহাসের কিছু স্মরণীয় ও আলোচিত মুহূর্ত নিচে উপস্থাপন করা হলো—
ফিদেল কাস্ত্রোর সাড়ে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন ভাষণ (১৯৬০)
জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণের রেকর্ডটি কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দখলে রয়েছে। ১৯৬০ সালে তিনি নিজের প্রথম ভাষণে টানা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য দেন। এই সময় তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তীব্র সমালোচনা করেন এবং কিউবান বিপ্লবের আদর্শ তুলে ধরেন। Politics
নিকিতা ক্রুশ্চেভের টেবিল চাপড়ানো (১৯৬০)
১৯৬০ সালের অধিবেশনে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ টেবিলে সজোরে ঘুষি মারতে শুরু করেন। এই অধিবেশন ঘিরেই তার জুতা খুলে টেবিলে আঘাত করার ঐতিহাসিক কিংবদন্তি সৃষ্টি হয়।
হুগো চ্যাভেজ ও ‘শয়তানের গন্ধ’ (২০০৬)
২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ পডিয়ামে উঠে বুকে ক্রস আঁকেন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল। আজও এখানে গন্ধকের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’
গাদ্দাফির সনদ ছিঁড়ে ফেলা (২০০৯)
লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০০৯ সালে ১৫ মিনিটের সময়সীমা ভেঙে টানা ১০০ মিনিট বক্তব্য দেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাস পরিষদ’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদের একটি পাতা ছিঁড়ে কাঁধের ওপর দিয়ে ছুঁড়ে ফেলেন।
নেতানিয়াহুর কার্টুন বোমা (২০১২)
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অগ্রগতি বোঝাতে অধিবেশনে একটি বড় বোমার কার্টুন চিত্র প্রদর্শন করেন এবং সেখানে একটি লাল কালি দিয়ে সীমারেখা টানেন।
ট্রাম্পের ‘রকেট ম্যান’ মন্তব্য (২০১৭)
২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং দেশটির নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেন। Politics(Right)
গিলাদ এরদানের সনদ শ্রেড করা (২০২৪)
ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের একটি প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান অধিবেশনের সামনেই একটি ছোট পেপার শ্রেডার মেশিন দিয়ে জাতিসংঘ সনদের প্রচ্ছদ পাতা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেন।
ট্রাম্পের ‘এস্কেলেটরগেট’
সম্প্রতি জাতিসংঘের মূল ভবনে প্রবেশের সময় এস্কেলেটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে অভিযোগ করলেও জাতিসংঘ জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একজন ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত এস্কেলেটরের ইমার্জেন্সি স্টপ বোতামে চাপ দেওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায়।
এসব নাটকীয় ঘটনা ছাড়াও দীর্ঘ ভাষণ ও ক্লান্তিকর সূচির কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব নেতাদের ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।
সূত্র: ওয়াননিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতিসংঘে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের স্বল্প সামর্থ্য নিয়ে দুর্যোগপূর্ণ ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে বর্তমান সরকার উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। আমাদের দেশে শতশত নদী প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিলিত হয়। দেশের মানুষ পানির খুব কাছাকাছি বসবাস করে। আমাদের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের ৪ শতাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রে বিলীন হবে। এর ফলে প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বল্প সামর্থ্য দিয়েই দুর্যোগপূর্ণ ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করেছি এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়িয়েছি। আমরা ৫ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ নিচ্ছি। ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পানি সংরক্ষণের জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের আধুনিকায়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ গ্রিন গ্রোথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আমরা সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্পায়ন এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ওপর জোর দিচ্ছি। একই সঙ্গে সংকটপূর্ণ ইকোসিস্টেমকে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।’
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং এর ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবগুলো হলো:
১. দ্রুত ও ন্যায্যভাবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে।
২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য যথাযথ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
৩. জলবায়ু প্রযুক্তি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অ্যাকসেস নিশ্চিত করতে হবে।
৪. জলবায়ু-উদ্বাস্তুদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে আসার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই পরিবারের চার সদস্য, যার মধ্যে বাবা, দুই ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে, এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত রায়েশা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হেলাল উদ্দিন (৫৫), তার ছেলে সজীব (২৪) ও সামিন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া (১৭)।
এ সময় আরেক পরিবারের শিরিন বেগম (৪৫) ও তার আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে স্বজনেরা হোমনা থেকে একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হারিয়া এলাকায় আসছিলেন। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় ট্রলারটি ডুবে যায় এবং যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন অন্য একটি ট্রলার নিয়ে কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আনুমানিক দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে তারা খবর পান বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ক্ষুধার তাড়নায় খাবারের প্যাকেট মনে করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্যাকেটটি কেড়ে নিয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। পরে প্যাকেটটি খুলে দেখেন, সেখানে ভাত নয় বরং মিষ্টি রয়েছে। প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে তিনি সেখান থেকে কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত আদালতে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান নুর মোহাম্মদ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর আমলি) আদালতে শুনানি শেষে বিচারক সঞ্জয় পাল তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করেন।
এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাকে ১০০ টাকা সহায়তা করেন। সেই অর্থ থেকে জরিমানার ৫০ টাকা পরিশোধ করে তিনি মুক্ত হন।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর রেলস্টেশনে এই ঘটনাটি ঘটে। নড়াইলের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছার একটি কাঁচামালের আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কাজ শেষে তিনি যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লেও তার কাছে খাবার কেনার জন্য টাকা ছিল না। এ সময় খাবারের প্যাকেট মনে করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি প্যাকেট কেড়ে নেন তিনি। পরে প্যাকেট খুলে মিষ্টি দেখতে পান এবং কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পরদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার জিআরও এসআই হেলালুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর নুর মোহাম্মদকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ