প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়ন থেকে শরীফপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন হাছানহাট সংযোগ সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা মোট ৫ কোটি টাকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর রেলিংয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীও ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে, পায়ের আঘাতে স্ল্যাব ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্ল্যাবের ভাঙা অংশে রডের পরিবর্তে জিআই তার রয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদকে বদলি করা হয়েছে।
নোয়াখালী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল কৌশিক বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রকৌশলীকে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রকৌশলীকে ঢাকা থেকে বদলি করা হয়েছে এবং দুই কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। এলজিইডি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়ন থেকে শরীফপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৯.৬ মিটার। বিশ্বব্যাংক প্রকপ্লে আওতায় সেতুর প্রকল্প ব্যয় ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজটি করছে মেসার্স হক ট্রেডার্স, যেখানে মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার মো. ফরহাদ পাটোয়ারী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই নিম্নমানের সিমেন্ট, বালু, রড, ইটের খোয়া ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেতুর রেলিংয়ে নিম্নমানের রড ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউল হক বাবলু বলেন, একলাশপুর, শরীফপুর ও নেয়াজপুর ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন সেতুটির ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন। তিনি জানান, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফুটপাতের স্ল্যাব নির্মাণের পর হালকা আঘাতেই সেটি ভেঙে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মামুন বলেন, সেতুর রেলিংয়ে নিম্নমানের মেয়াদোত্তীর্ণ সিমেন্ট ও রড ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানান, নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহারের কারণে হাত দিয়ে টান দিলেই রেলিং থেকে সিমেন্ট ও পাথর খসে পড়ছে। এ ধরনের কাজের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠার পর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল কৌশিক পৃথক তিনটি চিঠি দেন। এর মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করেননি। এটি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী। তাদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না, তা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে দেওয়া চিঠিতে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মাণকাজের ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশোধিত কাজের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না করে কোনো বিল পরিশোধ করা যাবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার ফরহাদ পাটোয়ারী জানান, তিনি ৫ আগস্টের পর বাবলু নামে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলেন, "এটি একটি চলমান কাজ। একটি স্থানে দুটি স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক জিআই তার ব্যবহার করা হয়েছিল।" বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে দুপাশের পুরো স্ল্যাব ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, কয়েকটি স্ল্যাব নিম্নমানের মনে হওয়ায় সেগুলো ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, "গত সোমবার স্ল্যাবগুলো ভাঙার সময় অতিউৎসাহী কিছু লোকজন সেখানে গিয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন