বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৮ পি.এম
ক্ষুধার তাড়নায় খাবারের প্যাকেট মনে করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্যাকেটটি কেড়ে নিয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। পরে প্যাকেটটি খুলে দেখেন, সেখানে ভাত নয় বরং মিষ্টি রয়েছে। প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে তিনি সেখান থেকে কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত আদালতে ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান নুর মোহাম্মদ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর আমলি) আদালতে শুনানি শেষে বিচারক সঞ্জয় পাল তাকে ৫০ টাকা জরিমানা করেন।
এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাকে ১০০ টাকা সহায়তা করেন। সেই অর্থ থেকে জরিমানার ৫০ টাকা পরিশোধ করে তিনি মুক্ত হন।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর রেলস্টেশনে এই ঘটনাটি ঘটে। নড়াইলের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ যশোরের ঝিকরগাছার একটি কাঁচামালের আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কাজ শেষে তিনি যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান করছিলেন।
একপর্যায়ে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লেও তার কাছে খাবার কেনার জন্য টাকা ছিল না। এ সময় খাবারের প্যাকেট মনে করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি প্যাকেট কেড়ে নেন তিনি। পরে প্যাকেট খুলে মিষ্টি দেখতে পান এবং কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পরদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার জিআরও এসআই হেলালুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর নুর মোহাম্মদকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি জনগণ বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক ও সংকটময় সময় পার করছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের জীবনের সব ধরনের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় উপাদানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সম্প্রচারিত এক পূর্ব-রেকর্ডকৃত ভিডিও ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও তার প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেয়নি। ফলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে না পেরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমেই নিজের ভাষণ পাঠাতে বাধ্য হন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) এই শীর্ষ নেতা।
ভাষণে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। আব্বাস প্রশ্ন তোলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ভয়াবহ মানববিপর্যয় দেখার পরও বিশ্ব সম্প্রদায় আর কতদিন নীরব থাকবে এবং ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করে যাবে। তিনি জানতে চান, ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
সংঘাত নিরসনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আব্বাস বলেন, দীর্ঘমেয়াদে গাজা উপত্যকাকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা যাবে না। গাজা, পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরকে একক রাষ্ট্র, একক সরকার ও একই আইনের অধীনে পরিচালিত হতে হবে, যেখানে কেবল একটিই বৈধ সশস্ত্র বাহিনী থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সাল থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ৯০ বছর বয়সী মাহমুদ আব্বাস। তবে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধে ব্যর্থতার কারণে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের বড় অংশের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার চামড়া ও পাদুকা শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে। এই রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু করেছে। এই রোডম্যাপে ট্যানারি মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্টদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, দেশে চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বিদ্যমান এবং এ খাতে দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের জনগণকে দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগও রয়েছে।
রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা প্রদান করতে হবে।
এই লক্ষ্যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
চামড়া শিল্পে গবেষণা জোরদারের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন মো. আতাউর রহমান খান। তিনি বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক ও উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের পর চামড়া শিল্পের অবস্থান রয়েছে। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে এ শিল্পে।
বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে। চামড়াজাত শৌখিন পণ্যেরও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, দেশে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম।
প্রতিবছর দেশে আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর বড় অংশ রপ্তানি করা হয় এবং অবশিষ্ট অংশ দেশীয় চামড়াজাত পণ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের চামড়া প্রধানত ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ানে রপ্তানি করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এক্সপোটি ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইসিসিবিতে চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা একটি ভালো পদে অধিষ্ঠিত হওয়া যথেষ্ট নয়; দেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা আবশ্যক।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা মেধাবীদের মধ্যে সেরা মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল প্রতিভাবানদের জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই যান, আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।’
এ সময়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে এসে মনে হচ্ছে, যেন আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
দেশ যখনই কোনো সংকট, দুর্যোগ বা জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মেধার সঠিক বিকাশ ঘটে অধ্যবসায়, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে।’
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার আহ্বান জানান।
দেশের প্রতি দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, ‘শুধু বিসিএস দিয়ে একটি সুন্দর চেয়ারে বসলে হবে না, দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজেকে স্বনামধন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর কখনও রাজপথে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’
অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে এবং মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ডাক বিভাগ ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লেটার রাইটার মডিউল’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশের ১২টি এলাকায় প্রাথমিকভাবে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা থেকে গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে ১২টি ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় এ সেবা চালু হয়েছে। শিগগিরই বান্দরবান এবং সুনামগঞ্জের সাল্লা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে।
২৯ জুলাই ডাক ভবনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই সেবার উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্যায়ে ঢাকার ভেতরে চারটি এবং ঢাকার বাইরে চারটিসহ মোট আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালু করা হয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের কারিগরি প্রস্তুতি সম্পর্কে ‘মেইল প্রসেসিং এবং লজিস্টিক সার্ভিস টেকসই ও আধুনিকীকরণ’ প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহ আলম ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পের আওতায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লেটার রাইটার মডিউল পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অনেকের কর্মসংস্থান হবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সারা দেশে ৬ হাজার মোবাইল সেট ও ৫০০ কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলছে।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণ করে ডাক বিভাগ আটটি সুনির্দিষ্ট কাজ হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালু করা অন্যতম।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব উদ্যোগের ফলে মৌসুমি ফলসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনে ডাক বিভাগের সক্ষমতা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের ফলের ক্রেটসহ বিভিন্ন পণ্য নিরাপদে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের যেকোনো জেলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত উপজেলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা সময় লাগছে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই এসব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পার্সেল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহ আলম বলেন, আগে পরিবহনের সময় কোন পণ্য কোথায় রয়েছে, তা জানার সুযোগ ছিল না। বর্তমানে প্রতিটি পার্সেলের গায়ে বারকোড ব্যবহার করে ডমেস্টিক মেইল সিস্টেমের (ডিএমএস) মাধ্যমে তা ইস্যু ও বিলি করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা ঘরে বসেই তাদের পণ্যের হালনাগাদ তথ্য জানতে পারছেন।
ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আরও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূমির দলিল, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সেবা। ই-কমার্স পণ্যের ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবা চালুর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিদেশে পার্সেল পাঠাতে স্বল্প মাশুলে এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস (ইএমএস) সুবিধাও রয়েছে।
ডাক বিভাগের সেবার ধরনে পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক বলেন, চিঠি, দ্রুতগামী পত্র, পার্সেল ও প্যাকেটজাতীয় ডাকদ্রব্য গ্রহণ, পরিবহন ও বিলি করা ডাক বিভাগের মূল কাজ বা কোর সার্ভিস। এর বাইরে সঞ্চয় ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র পরিচালনা, পাঠ্যবই ও টিকা বিতরণ, লটারির টিকিট বা প্রাইজবন্ড বিক্রির মতো কাজগুলো মূলত এজেন্সি ফাংশন, যা সরকার বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগকে দিয়ে থাকে।
ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক চিঠি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রযুক্তির প্রসারে এখন মানুষ লাইভ ভিডিও কল ও এসএমএসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারছেন। ফলে চিঠির উত্তরের জন্য আগের মতো মাসের পর মাস অপেক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে না। একইভাবে সরকারের সার্বিক নীতির কারণে সবকিছু অনলাইনে করার প্রবণতা বেড়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোও এখন কাগজের নথির পরিবর্তে ই-নথি ও ডি-নথি ব্যবহার করছে। ফলে দাপ্তরিক চিঠিপত্রের ব্যবহারও ক্রমে কমছে।
চিঠির প্রচলন কমলেও ই-কমার্সের হাত ধরে ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে বলে মহাপরিচালক মনে করেন। তিনি বলেন, দেশের নাগরিকরা অনলাইনে যেসব পণ্য কেনাবেচা করেন, তার সবই ডাকদ্রব্য। বর্তমানে চিঠির জায়গা দখল করছে পার্সেল ও পণ্য পরিবহন। তাই এই কোর সার্ভিসকে ঘিরেই নতুনভাবে ডাক বিভাগের কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের মতো উদ্যোগে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তেমনি ই-কমার্সের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন সেবা ও সুযোগ তৈরির মধ্য দিয়েই ডাক বিভাগ নতুন রূপে ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য, ডাক বিভাগের সেবা সম্প্রসারণ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লেটার রাইটার মূলত একই কাজের দুটি ভিন্ন রূপ হিসেবে কাজ করবে। ডাক বিভাগের নাম ও ব্র্যান্ড ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় পণ্য সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করলে তা ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ হিসেবে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি এককভাবে বা নিজস্ব উদ্যোগে একই দায়িত্ব পালন করলে তাকে ‘লেটার রাইটার’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তার পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ