ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের সময় বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা


দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের সময় বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরনগরী ডারবানে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন জনতার হামলায় এক বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালাতে প্রায় ৫০ জনের একটি দল জড়ো হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়, নিহত ব্যক্তি ডারবানের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে প্রায় ৫০ জনের একটি দল। পরে ঘটনাস্থলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন: এআইয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত, বিশ্বজুড়ে বন্ধ বহু ওয়েবসাইট

নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ডারবান শহর এসব বিক্ষোভের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দুই সপ্তাহ আগে সেখানে অভিবাসীবিরোধী মিছিলের পর লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছিল।

গত জুন মাস থেকে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করা আফ্রিকান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এসব কর্মসূচির মধ্যে কিছু সহিংসতায় রূপ নেয়।

নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, মালাউইসহ কয়েকটি দেশের সরকার দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের নাগরিকদের মধ্যে বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার মধ্যে মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করে কিছু দাবির বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছে।

আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ তরুণেরা

সহিংসতা এড়াতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটি থেকে বহু মানুষ দেশত্যাগ করেছেন, যা কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় ঘটনা। হাজার হাজার অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে গেছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা কারণে অনেক বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

দক্ষিণ আফ্রিকা, আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বহু মানুষ এখানে পাড়ি জমান। তবে দেশের বিভিন্ন জনগণের অভিযোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার নিন্দা করেছেন। তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনথিভুক্ত অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন: ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবলীগ নেতা সন্দেহে আটক হায়দার আলীকে জামায়াত নেতারা ছাড়িয়ে নিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৯ এম


যুবলীগ নেতা সন্দেহে আটক হায়দার আলীকে জামায়াত নেতারা ছাড়িয়ে নিলেন

ঝিনাইদহে, যুবলীগ নেতা সন্দেহে আটক হওয়া একজনকে জামায়াতের কর্মীরা নিজেদের সদস্য হিসেবে দাবি করে থানা থেকে মুক্ত করেছেন। এই ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থানায়।

তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের তালসার গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের পুত্র হায়দার আলীকে পুলিশ আটক করে। কুশনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাকে তালসার পুলিশ ক্যাম্পে আটক করা হয়। পরে তাকে কোটচাঁদপুর থানায় পাঠানো হয়। রাত ৯টার দিকে স্থানীয় জামায়াতের নেতারা এসে দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকে হায়দার তাদের দলের সক্রিয় সদস্য। তারা তার পক্ষে ইয়ানত দেয়ার রসিদসহ সভা-সমাবেশের প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এরপর পুলিশ হায়দার আলীকে মুক্ত করে।

কোটচাঁদপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে হায়দার আলীকে আটক করা হয়েছিল। স্থানীয় জামায়াতের নেতারা এসে তাদের সদস্য হিসেবে প্রমাণ দেখান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে হায়দার আলীকে জামায়াতের নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

কোটচাঁদপুর পৌর জামায়াতের আমির আবদুল কাইয়ুম মন্তব্য করেন, ‘হায়দারকে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছিল। তিনি আমাদের কর্মী। তার সব কাগজপত্র দাখিল করার পর পুলিশ যাচাই-বাছাই করে আমাদের কাছে দিয়েছেন।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে ঘুম না এলে দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৯ এম


রাতে ঘুম না এলে দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)

রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও অনেকের জন্য সহজে ঘুম আসা কঠিন হয়ে পড়ে। দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ এবং বিভিন্ন কারণে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক প্রশান্তি বিঘ্নিত হয়। তাই সুস্থ জীবনযাপনের পাশাপাশি মানসিক শান্তির জন্য আল্লাহর স্মরণ এবং দোয়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন, ‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম।’ (সুরা নাবা: ৯)

ইসলামের শিক্ষায় ঘুমানোর পূর্বে আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও সাহায্য চাওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে এমন একটি দোয়ার বর্ণনা রয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবি হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-কে শয্যায় যাওয়ার সময় পড়তে নির্দেশ করেছিলেন।

হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) যখন রাতে ঘুমাতে না পারার সমস্যার কথা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানালেন, তখন তিনি তাকে একটি বিশেষ দোয়া শেখান। দোয়াটিতে আল্লাহর কাছে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা এবং আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।

اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَىَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ يَبْغِيَ عَلَىَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া মা আজাল্লাত, ওয়া রাব্বাল আরদিনা ওয়া মা আকাল্লাত, ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বিনি ওয়া মা আদাল্লাত। কুন লি জারাম মিন শাররি খালকিকা কুল্লিহিম জামিআ। আইঁ ইয়াফরুত্বা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও ইয়াবগিয়া আলাইয়্যা। আয্যা জারুকা ওয়া জাল্লা সানাউকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।

দোয়ার অর্থ: হে আল্লাহ! সাত আকাশ ও তার ওপর যা কিছু রয়েছে, জমিনসমূহ ও তার ওপর যা কিছু রয়েছে এবং শয়তান ও তাদের মাধ্যমে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, সবার প্রতিপালক! আপনার সব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করার জন্য আপনি আমার আশ্রয়দাতা হোন। তাদের কেউ যেন আমার ওপর সীমালঙ্ঘন করতে না পারে কিংবা আমার প্রতি অন্যায় করতে না পারে। আপনার আশ্রয় অত্যন্ত সম্মানিত এবং আপনার প্রশংসা মহিমান্বিত। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।

এছাড়া ঘুমানোর পূর্বে আল্লাহকে স্মরণ করা, দোয়া পড়া এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখা একজন মুমিনের জন্য প্রশান্তিদায়ক আমল হিসেবে বিবেচিত হয়। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা, রাতে অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।

তবে এই দোয়া পড়ার পর প্রত্যেকের ঘুম সঙ্গে সঙ্গে চলে আসবে— এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন অনিদ্রায় ভুগলে অথবা ঘুমের সমস্যায় দৈনন্দিন জীবন বিঘ্নিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করাও ঠিক নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে ঘুম না আসলে ক্যামোমাইল চা ব্যবহার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ এম


রাতে ঘুম না আসলে ক্যামোমাইল চা ব্যবহার করুন

সারাদিনের কাজের চাপ এবং মানসিক উদ্বেগের কারণে রাতে ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। অনেকেই ঘুমানোর আগে এক কাপ চা বা কফি পান করেন।

কিন্তু ক্যাফিনের পরিবর্তে ক্যামোমাইল চা একটি বিকল্প হতে পারে। এই ভেষজ ফুল থেকে তৈরি পানীয়টি দীর্ঘদিন ধরে আরাম এবং ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পরিচিত। তবে, কি ক্যামোমাইল চা সত্যিই উপকারী?

কী এই ক্যামোমাইল চা?

ক্যামোমাইল একটি বিশেষ ধরনের ফুল। এই ফুল শুকিয়ে গরম পানিতে ভিজিয়ে ক্যামোমাইল চা প্রস্তুত করা হয়। সাধারণ চায়ের তুলনায় এতে স্বাভাবিকভাবে ক্যাফিন নেই। এর মধ্যে কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করা হয়। কিন্তু এই চা পান করলেই যে অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

অ্যাপিজেনিন নামক একটি উদ্ভিজ্জ উপাদান মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট রিসেপ্টরের সঙ্গে কাজ করতে পারে। কিছু গবেষণায় ঘুমের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উপকারিতা পাওয়া গেলেও, অনিদ্রার চিকিৎসা হিসেবে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

দিনের শেষে গরম এক কাপ ক্যামোমাইল চা পান করা অনেকের কাছে একটি আরামদায়ক অভ্যাস। ক্যামোমাইল পেটের অস্বস্তি এবং হজমের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। তবে, যদি পেটের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে শুধুমাত্র ভেষজ চা পান না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রাতে সাধারণ চা বা কফি পান করলে তার ক্যাফিন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ক্যামোমাইল চা স্বাভাবিকভাবে ক্যাফিনমুক্ত হওয়ায় এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

এক কাপ গরম পানিতে ক্যামোমাইল চায়ের ব্যাগ অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ শুকনো ক্যামোমাইল ফুল দিয়ে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর ছেঁকে পান করুন। ঘুমানোর আগে সন্ধ্যা বা রাতে এটি পান করা যেতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, কিন্তু স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ইসরাইলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ এম


ইরানের সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, কিন্তু স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ইসরাইলের

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সরকারের পতন ঘটানোকে দেশের জন্য ‘প্রধান লক্ষ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যদিও ইরানের সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা ইসরাইলের রয়েছে, তবুও দেশটির সরকার উৎখাত করা কতটা সম্ভব, সে বিষয়ে বিশ্লেষকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর সমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য এসেছে। গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা এবং পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে ইরানে নতুন হামলা কিংবা সরকার উৎখাতের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে পারলেও কেবল বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সরকার পতন ঘটানো সম্ভব নয়। স্থল অভিযানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি ও বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হবে।

ইরানে হামলার সক্ষমতা কতটা ইসরাইলের?

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানে হামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা ইসরাইলের রয়েছে। যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) গবেষক আরবান কনিংহ্যাম বলেন, ইসরাইলের আক্রমণাত্মক অস্ত্রের মজুত এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা দেশটিকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করে। এর মাধ্যমে ইসরাইল আবারও ইরানের আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হবে।

তবে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা এবং একটি দেশের সরকার উৎখাত করা এক বিষয় নয়। বিমান হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা কঠিন।

তুরস্কের আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চাগলার কুরচের মতে, বিমান হামলা কোনো দেশের সামরিক সক্ষমতা কমাতে পারে, কিন্তু তার আক্রমণাত্মক সামর্থ্য সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারে না। আকাশপথের হামলা থেকে সুরক্ষিত গোপন ও সুদৃঢ় স্থাপনাগুলো টিকে যেতে পারে।

সরকার পতনে স্থল অভিযান কি অপরিহার্য?

ইরানের সরকার পরিবর্তনের জন্য স্থল অভিযানের প্রয়োজনীয়তাকে বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। নেতানিয়াহুও গত মার্চে স্বীকার করেছিলেন যে, শুধুমাত্র আকাশপথে হামলা চালিয়ে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেছিলেন, এর জন্য স্থল অভিযানও প্রয়োজন।

তবে ইরানের মতো একটি বৃহৎ দেশে সেনা মোতায়েন করে দীর্ঘদিন অবস্থান করা ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। কুরচের মতে, কোনো সরকারকে উৎখাত করতে হলে শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো যথেষ্ট নয়; বরং সেনা মোতায়েন করে কয়েক বছর সেখানে অবস্থান করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা ও সাইবার হামলাও ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের অংশ হতে পারে। তবে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার পতন নিশ্চিত করার মতো সুস্পষ্ট কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ইরানের অভ্যন্তরে কুর্দি কিংবা বালুচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী অভিযান জোরদার করার সম্ভাবনাও সীমিত। কনিংহ্যামের মতে, কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক লড়াই চালানোর মতো সক্ষমতা নেই।

ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি

ইসরায়েলের সামরিক শক্তি বেশি হলেও ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র নতুন সংঘাতকে ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে। আরইউএসআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশলের মতে, ইরানের লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও আঘাত হানার ব্যবস্থায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ইরানকে কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিও বিমান হামলা থেকে কিছু সামরিক স্থাপনা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে। ইরানের তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরাইলকে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। এতে দেশটির প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিপরীতে, ইরান তুলনামূলক কম খরচে কিছু অস্ত্র ব্যাপক হারে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে।

ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি শুধুমাত্র ইসরায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা দেশগুলোও সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

নতুন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কি পাশে থাকবে?

ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সমর্থন পাওয়া অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ইসরায়েলের একটি প্রস্তাবে ট্রাম্পের সম্মতি মেলেনি। তবে তা ভবিষ্যতে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়া ইসরাইলের জন্য ইরানের গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত স্থাপনায় হামলা চালানো আরও কঠিন হবে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোরদো ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান থেকে ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। গভীর ভূগর্ভে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি এসব অস্ত্রের সমতুল্য সক্ষমতা ইসরায়েলের এককভাবে নেই বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ না নিলে ইরানও পাল্টা হামলার ক্ষেত্রে কৌশলগত হিসাব করতে পারে। ওয়াশিংটনকে সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান। এতে ইসরাইলকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত কি সরকার পতন ঘটাতে পারবে ইসরাইল?

বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে, ইরানের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উৎখাত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি লক্ষ্য। প্রথমটি অর্জনের সামর্থ্য ইসরায়েলের থাকলেও দ্বিতীয়টির জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়।

কুরচের মতে, দীর্ঘদিন সেনা মোতায়েন ও অবস্থান ছাড়া কোনো সরকারকে উৎখাত করা অত্যন্ত কঠিন। ইরানের মতো বিশাল ভূখণ্ডের দেশকে ইসরায়েলের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবসম্মত নয়। তার মূল্যায়নে, যুক্তরাষ্ট্রও আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী হবে না।

সূত্র: আলজাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%