ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাইয়ের ৫৯ মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হবে: ডিবি


জুলাইয়ের ৫৯ মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হবে: ডিবি

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, সংস্থার গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই মামলার অগ্রগতির বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, প্রতিটি মামলায় বিপুল সংখ্যক আসামি থাকায় তাদের অবস্থান, ভূমিকা এবং ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ধাপে ধাপে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় ডিবির তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, ডিবিতে ৫৯টি মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিটি মামলায় আসামির সংখ্যা অনেক। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং কার কী অবস্থান ছিলো সেগুলো দেখার বিষয় আছে। ফরেনসিকের বিষয় আছে। সবকিছু নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ করা হচ্ছে। এ আন্দোলনের প্রায় ৪০ জিবি ডাটা আছে। আমরা অত্যন্ত সিরিয়াসের সঙ্গে মামলাগুলো নিয়ে কাজ করছি। আইনের ভেতরে থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

জুলাই আন্দোলন ঘিরে শুধুমাত্র ডিএমপিতেই শত শত মামলা ভুয়া হয়েছে। এমনও হয়েছে যে এক ঘটনায় তিনটা চারটা মামলা এবং এটা নিয়ে বিজনেস হয়েছে। যেহেতু দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা বা চার্জশিট করবেন। যারা মামলা বাণিজ্য করেছে তাদের তালিকা করে কোনো ব্যবস্থা নেবেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব মামলা হয়েছে আপনারা জানেন এ মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলা যে রকম আমরা এখানে দেখি আমাদেরকে বৃহৎ প্রচারে একটা মনিটরিং সেল আছে। ১৫ দিন পরপরই মামলাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ সদরদফতরেরও মনিটরিং সেল আছে। সেখানেও মামলাগুলো যাচাই-বাছাই হয়। কেউ যদি ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে মামলা করে থাকেন আমরা তাতে সায় দেব না। আমি আপনাদেরকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, মামলাগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে একমাত্র দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে।

মামলা তদন্তে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকগুলো সমস্যা। একটা বিশাল ডাটা বিশ্লেষণের বিষয় আছে। আবার আসামির সংখ্যা অনেক। আবার একেক ঘটনায় একেক রকম আসামি করা হয়েছে। সব জিনিসগুলো যাচাই বাছাই করতে হচ্ছে। সঠিক জিনিসটা যেনো মামলায় উঠে আসে, আমরা সে চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় উন্নয়ন প্রকল্প এখন নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


খুলনায় উন্নয়ন প্রকল্প এখন নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ

খুলনায় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার সুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে নগরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই উন্নয়নের প্রকল্প।

পাইপলাইন বসানোর পর নগরীর দুই শতাধিক অলিগলি ও উপ-সড়ক মাসের পর মাস খুঁড়ে রেখে দেয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও ছয় মাস, কোথাও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ার কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থার জন্য ভুক্তভোগীরা ওয়াসা এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন।

খুলনা ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১৫ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২৭ হাজার বাড়িতে পয়োনিষ্কাশন সংযোগ দেয়া হবে। এই কাজের জন্য ২৫৫ কিলোমিটারের বেশি পাইপলাইন, সাড়ে ১২ হাজার ম্যানহোল, দুটি শোধনাগার এবং আটটি পাম্প স্টেশন নির্মাণের প্রকল্প চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন এবং অধিকাংশ ম্যানহোলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু পাইপ বসানো শেষ হওয়ার পর অনেক অলিগলি এবং উপ-সড়ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া হয়নি।

নগরীর টুটপাড়া, দারোগাপাড়া, লবনচরা এলাকার বিভিন্ন সড়কে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও বড় বড় গর্ত দেখা যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক কাদায় পরিণত হচ্ছে, আবার শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি উড়ছে। এই কারণে রিকশা ও ইজিবাইক, এমনকি জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে।

টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল করিমা বলেন, 'এক বছর ধরে রাস্তা খোঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান কাদা হয়ে যায়। বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের নিয়ে বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। সড়কে রিক্সা চলাচল করতে পারছে না। ওয়াসার কাছে বারবার জানিয়েও কোন সমাধান পাচ্ছি না। তাই বাজারের ভারী ব্যাগ নিয়ে হেঁটে পার হওয়া রীতিমত দুর্ভোগ। ভোগান্তি থেকে কবে মুক্তি পাব জানি না।'

দারোগাপাড়া এলাকার গৃহিণী রাবেয়া খাতুন বলেন, 'বাসায় অসুস্থ শশুর আছেন। প্রায়ই তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। তবে সড়কে রিক্সা কিংবা ইজিবাইক চলাচল না করায় আমাদের দুর্ভোগ যেন বাড়তেই চলেছে।'

খুলনা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক খান মোহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, 'সুয়ারেজ প্রকল্পের মূল কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সড়ক পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রকল্প সংশোধনের (ডিপিপি) প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই অবশিষ্ট সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে। যেসব সড়ক সিটি কর্পোরেশন করতে পারবে না, সেগুলো ওয়াসা নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নগরবাসীর ভোগান্তি যত দ্রুত সম্ভব কমানো আমাদের লক্ষ্য।'

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, 'ওয়াসার প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় চলছে। বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে সব সড়কের কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে প্রধান সড়কগুলোর সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে অলিগলি ও উপ-সড়কগুলো সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াসার প্রকল্প সংশোধন অনুমোদন হলে বাকি কাজও দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। আমাদের লক্ষ্য, নাগরিকদের দুর্ভোগ যত দ্রুত সম্ভব দূর করা।'

খুলনা ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু নগরবাসীর প্রশ্ন হলো, প্রকল্প শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা আর কতদিন ভাঙা সড়কের দুর্ভোগ ভোগ করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরার হুমাইরা অর্জন করল দেশসেরা হওয়ার গৌরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


মাগুরার হুমাইরা অর্জন করল দেশসেরা হওয়ার গৌরব

মাগুরার কৃতী শিক্ষার্থী হুমাইরা ইয়াসমিন দেশের জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এ উপস্থিত বক্তৃতা (বালিকা) বিভাগে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুমাইরার গলায় স্বর্ণপদক পরিয়ে দেন এবং তার হাতে প্রশংসাপত্র তুলে দেন।

হুমাইরা মাগুরা সদর উপজেলার শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দেশের ২ কোটি ১৮ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কুইজ, বিতর্কসহ ৮টি প্রধান বিভাগে ৪৪টি ক্যাটাগরিতে মেধা যাচাই করা হয়। এই আয়োজনে সারা দেশের ১২৩৮৪ জন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং ৬৫৫৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিতদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

হুমাইরার এই অসাধারণ অর্জনে গর্বিত পুরো মাগুরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত। এই সাফল্য প্রমাণ করে— সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তৃণমূলের শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর হাজারীবাগে ভোরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


রাজধানীর হাজারীবাগে ভোরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় ভোরে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ঘোষণা করা হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা জেলা শাখার নেতাকর্মীদের দ্বারা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টার পর হাজারীবাগ এলাকায় এ মিছিলে যোগদান করেন শতাধিক নেতাকর্মী।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং সাবেক কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের দিকনির্দেশনায় এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল করতে করতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে তারা মাত্র কিছু সময়ের জন্য এ মিছিলটি করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী দ্রুততায় সরে যায়।

এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের এই মিছিলের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেনকে আটক করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেনকে আটক করা হয়েছে

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় ৪৫ বছর পর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। প্রায় সাড়ে চার দশক পলাতক থাকার পর অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

ডিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

 ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ঘটনার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দল-বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন করা।

চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক শেষে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান জিয়াউর রহমান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি দল তার ওপর গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিহত হন। পরবর্তীতে ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো জিয়াউর রহমানকে হত্যার খবর প্রচারিত হয়।

এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, ‘The President has been killed.’

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এছাড়া, ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে, তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘসময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%