প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনায় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার সুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে নগরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই উন্নয়নের প্রকল্প।
পাইপলাইন বসানোর পর নগরীর দুই শতাধিক অলিগলি ও উপ-সড়ক মাসের পর মাস খুঁড়ে রেখে দেয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও ছয় মাস, কোথাও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ার কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থার জন্য ভুক্তভোগীরা ওয়াসা এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন।
খুলনা ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১৫ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২৭ হাজার বাড়িতে পয়োনিষ্কাশন সংযোগ দেয়া হবে। এই কাজের জন্য ২৫৫ কিলোমিটারের বেশি পাইপলাইন, সাড়ে ১২ হাজার ম্যানহোল, দুটি শোধনাগার এবং আটটি পাম্প স্টেশন নির্মাণের প্রকল্প চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন এবং অধিকাংশ ম্যানহোলের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু পাইপ বসানো শেষ হওয়ার পর অনেক অলিগলি এবং উপ-সড়ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া হয়নি।
নগরীর টুটপাড়া, দারোগাপাড়া, লবনচরা এলাকার বিভিন্ন সড়কে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও বড় বড় গর্ত দেখা যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক কাদায় পরিণত হচ্ছে, আবার শুকনো মৌসুমে ধুলাবালি উড়ছে। এই কারণে রিকশা ও ইজিবাইক, এমনকি জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে।
টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল করিমা বলেন, 'এক বছর ধরে রাস্তা খোঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান কাদা হয়ে যায়। বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের নিয়ে বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। সড়কে রিক্সা চলাচল করতে পারছে না। ওয়াসার কাছে বারবার জানিয়েও কোন সমাধান পাচ্ছি না। তাই বাজারের ভারী ব্যাগ নিয়ে হেঁটে পার হওয়া রীতিমত দুর্ভোগ। ভোগান্তি থেকে কবে মুক্তি পাব জানি না।'
দারোগাপাড়া এলাকার গৃহিণী রাবেয়া খাতুন বলেন, 'বাসায় অসুস্থ শশুর আছেন। প্রায়ই তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। তবে সড়কে রিক্সা কিংবা ইজিবাইক চলাচল না করায় আমাদের দুর্ভোগ যেন বাড়তেই চলেছে।'
খুলনা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক খান মোহাম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, 'সুয়ারেজ প্রকল্পের মূল কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সড়ক পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রকল্প সংশোধনের (ডিপিপি) প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই অবশিষ্ট সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে। যেসব সড়ক সিটি কর্পোরেশন করতে পারবে না, সেগুলো ওয়াসা নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নগরবাসীর ভোগান্তি যত দ্রুত সম্ভব কমানো আমাদের লক্ষ্য।'
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, 'ওয়াসার প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় চলছে। বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে সব সড়কের কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে প্রধান সড়কগুলোর সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে অলিগলি ও উপ-সড়কগুলো সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াসার প্রকল্প সংশোধন অনুমোদন হলে বাকি কাজও দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। আমাদের লক্ষ্য, নাগরিকদের দুর্ভোগ যত দ্রুত সম্ভব দূর করা।'
খুলনা ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু নগরবাসীর প্রশ্ন হলো, প্রকল্প শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা আর কতদিন ভাঙা সড়কের দুর্ভোগ ভোগ করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন