বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:২৩ পি.এম
সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানিতে পড়ে আবদুল আলম (৩৫) নামের এক যুবদল কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় সওদাগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ যুবদল কর্মী কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাছনি বরবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের বাবা।
গতকাল বুধবার ভোরে তিনি নদীতে ভেসে আসা কাঠ সংগ্রহ করতে নৌকা নিয়ে নদীতে গিয়েছিলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জসীম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ যুবদল কর্মীর বড় ভাই নুরুল আলম সংবাদে বলেন, আবদুল আলমসহ চার বন্ধু ভোরে নৌকা নিয়ে সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। সকাল আটটার দিকে তার দুই বন্ধু এসে জানান, কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে অসাবধানবশত তিনি নদীর পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর নৌকায় থাকা অন্য তিনজন খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন জানায়, সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, যুবদল কর্মী নিখোঁজের খবর শুনেছি। তাকে উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. একে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৫ বছর কাটাতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
এই কর্মসূচির অংশ হিসাবে কেবি হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, এই দেশটিকে সবুজ এবং বসবাসযোগ্য করে তুলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করে যাওয়ার অংশ হিসেবে এই বৃক্ষরোপণের কাজ করা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাকৃবি'র উদ্যোগে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া নিজে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. শহীদুল হক, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জি.এম. মুজিবুর রহমান এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. আবদুল আলীম।
এ সময় কে.বি. হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দিন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ অতিথিবৃন্দ বৃক্ষরোপণের সুফল ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আদাবর থানা পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- মো. সাইদ (২৪), আকাশ (২৩), মো. ফারুক (২৬), কর্নেল (১৯), মো. মাইন উদ্দিন (২১), মো. সিফাত ওরফে হিটার (২২) ও মো. নাহিদুল (২৫)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১১টায় আদাবর থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, আদাবর থানার শেখেরটেক ৭ নম্বর সড়কের ব্রিজের ঢালে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী সামুরাই, চাপাতি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় পালানোর চেষ্টাকালে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ছোরা, ৩টি চাপাতি, একটি কুড়াল ও একটি শাবল উদ্ধার করা হয়।
এতে বলা হয়, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির প্রস্তুতির কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত মো. মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিএমপির মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় ২টি, মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে দিনাজপুর সদর থানায় ১টি এবং মো. সাইদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় ১টি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বোয়ালখালী জেলার অসহায় ২৫০টি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় ধরে উপজেলার চরখিজিরপুর, পশ্চিম গোমদণ্ডীসহ নদী তীরবর্তী এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে তিনি এ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন।
এই সময় এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, "গত ১০ বছরেও এমন বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টির কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এই সরকার মানবিক সরকার, তাই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য।"
এদিন প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
খাদ্য বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কামরুল হোসাইন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও কপিল উদ্দিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের দ্রুত বিকাশমান বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) খাতের জন্য একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ প্রণয়নের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা- জিআইজেড, বাংলাদেশ যৌথভাবে আজ ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসি-২০২৬’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন পরামর্শের কর্মশালার আয়োজন করেছে।
কর্মশালায় আলোচনা করা হয়, ২০২৩ সালের ‘ইলেকট্রিক মোটর রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড অপারেশন গাইডলাইন’-এ খ্যাপানো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব ধরনের পরিবহনে ৩০ শতাংশ ইভি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিল্প ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের পরিবহন খাত থেকে মোট কার্বন নিঃসরণের ৮১ শতাংশই সড়ক পরিবহন থেকে আসে। তাই পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে ই-মোবিলিটিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান। তিনি উল্লেখ করেন, যথাযথ প্রস্তুতি না নিলে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাত গড়ে তোলার সুযোগ হারাবে এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে (গ্লোবাল ভ্যালু চেইন-জিভিসি) পিছিয়ে পড়তে হবে।
তিনি জানান, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানিকারক হওয়া নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি ইভি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করা।’
জার্মান ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের পক্ষে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন ইয়ানিস হোসেন এবং জিআইজেড-বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গমবার্ট টেকসই পরিবহন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের রূপান্তরে জার্মানির অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (বিএমজেড)-এর অর্থায়নে পরিচালিত এবং জিআইজেড দ্বারা বাস্তবায়িত ‘ট্রানজিশন টু সাসটেইনেবল ই-মোবিলিটি (ট্রান্স২এসএমও)’ প্রকল্পের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি প্রণয়নে শিল্প মন্ত্রণালয়কে কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই সহায়তার অংশ হিসেবে জিআইজেড দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নীতিমালার খসড়া পর্যালোচনা করে তা আরও উন্নত করার জন্য কিছু কৌশলগত সুপারিশ করেছে। এর ফলে একটি মানসম্মত ও আনুষ্ঠানিক ইভি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ছিল নিম্ন-কার্বন উৎসভিত্তিক। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ গ্রিড ইভিতে রূপান্তরের চাপ সামাল দিতে সক্ষম হবে। এর জন্য পরিকল্পিত গ্রিড ব্যবস্থাপনা, স্মার্ট চার্জিং ব্যবস্থা এবং স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির অগ্রাধিকারমূলক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলা সম্ভব হবে।
ইভির বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায়, ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রস্তুত (সিবিইউ) অবস্থায় আমদানি করা বৈদ্যুতিক মোটরগাড়ির ওপর মোট করের হার (টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স-টিটিআই) ৩৭ শতাংশ নির্ধারণ এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অংশ (সিকেডি) আকারে আমদানি করা সব ধরনের ইভির ওপর মোট করের হার ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এভাবে দেশের স্থানীয় সংযোজন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হবে।
এছাড়া, ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ বছরের আয়কর অব্যাহতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্মশালার সমাপনীতে গণপরিবহন আধুনিকায়ন অব্যাহত রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এই সময় জানানো হয়েছে, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআরটিএ, এনবিআর, স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) এবং অন্যান্য অংশীজন যৌথভাবে প্রয়োজনীয় কারিগরি, শিল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ