রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫১ পি.এম
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার সংক্রান্ত অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দাখিল করেছে তাদের পরিবার। অভিযোগটি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দাখিল করেন মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের রোমান, যিনি চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে অভিযোগটি জমা দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন রুনি। ১৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার শুরুতে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং র্যাব তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কোনো ফলাফল আসেনি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর ওপর। তবে দীর্ঘ তদন্তের পরও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হোক। একইসাথে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য অভিযোগটি রেজিস্টারভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগ গ্রহণের পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, তারা তাড়াহুড়ো করছেন না, বরং সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য বের করতে চান।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলাটি সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে। নতুন কিছু তথ্য এবং প্রমাণ পাওয়ার খবর প্রকাশের পর সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘও বিষয়টি জানতে ৩০ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছিল বলে একটি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০১২ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন হয়েছে। বিচারিক আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমাও বহুবার পিছিয়েছে। একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পিছিয়েছে।
এদিকে মামলার দীর্ঘ তদন্তে সাগর-রুনির বাসার নিরাপত্তাপ্রহরী হুমায়ুন কবীর ওরফে এনামুলের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। তবুও প্রায় ১৩ বছর ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এনামুলকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার মা ফাতেমা বেগম ছেলেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময়েও এনামুলের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় দশক পর পরিবারের এই নতুন আইনি পদক্ষেপে মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে অভিযোগটি পর্যালোচনা করে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১০ বছর আগে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শারমিনকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী দুলাল হোসেন, যিনি দুলু ওরফে জুয়েল নামেও পরিচিত, তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ৪র্থ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে, দণ্ডিতকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুলাল হোসেনের মৃত্যুর আগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জেল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশও আদালত প্রদান করেছে।
অন্যদিকে, একই মামলায় আসামি হারুন (৪৫), মোরশেনা (৪০), সুমাইয়া (২২), রাজুর (২৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছে। মামলার আরেক আসামি জরিনা বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শারমিনের সঙ্গে দুলাল হোসেনের প্রায় ১৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকে দুলাল ও অন্য আসামিরা দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারমিনকে মারধর করতেন। ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে মারধর করা হয়। পরে ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জে দুলালের বসতঘরের ভেতর শারমিনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভান। গুরুতর অবস্থায় শারমিনকে প্রথমে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় শারমিনের মা মোসা. মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পশ্চিম থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে টঙ্গীবাজার এবং সাতাইশ রাজনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর আদালতে রোববার দুপুরে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন- গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ওসমান আলী (৬৭), গাজীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেন (৪৫) এবং গাজীপুর মহানগরের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সক্রিয় কর্মী মো. নজরুল ইসলাম (৩৬)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ কার্যক্রমের আওতায় যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী টঙ্গীর সাতাইশ রাজনগর এলাকায় জড়ো হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ১১টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় যুবলীগ নেতা মনির হোসেন এবং নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের অপর সহযোদ্ধারা পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ) একই রাতে টঙ্গীবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ওসমান আলীকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রোববার দুপুরে তাদের গাজীপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্যবসার সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে চীন সফর করেন মো. আসাদুল্লাহ। চীন সফরের সময় তিনি দেশটির উৎপাদন, সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। দেশে ফিরে এসে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ নেন। ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম চীন ও ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত হয়েছেন। রহমতপুর ইউনিয়নের মোল্লাবাড়ির সন্তান আসাদুল্লাহ, সমাজসেবক মো. হারুন মোল্লার ছেলে। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি মানুষের জন্য কাজ করার বিষয়টিকে নিজের উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
চীন সফর থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়
২০১৮ সালে চীন সফরের সময় আসাদুল্লাহ দেশটির ব্যবসা ও উৎপাদন খাতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পর তিনি দেশে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অগ ঊীঢ়ৎবংং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চীন ও ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ, বুকিং, পরিবহন এবং বাংলাদেশে সরবরাহের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগত গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনসেবা দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আসাদুল্লাহ পরবর্তী সময়ে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ান। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ঞধংষরসধ এৎড়ঁঢ়-এর আওতায় বর্তমানে অগ ঊীঢ়ৎবংং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ, অগ ঞড়ঁৎ ্ ঞৎধাবষং, অগ জবধষ ঊংঃধঃব এবং অগ ওহঃবৎরড়ৎসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অগ ঞড়ঁৎ ্ ঞৎধাবষং-এর মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং, বিমান টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। বিদেশ ভ্রমণপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যটন ও ভ্রমণসেবা খাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্যদিকে অগ জবধষ ঊংঃধঃব-এর মাধ্যমে জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয় এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই গ্রুপের অগ ওহঃবৎরড়ৎ আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও সাজসজ্জার কাজ করছে।
ব্যবসার এই বিস্তারের মাধ্যমে আসাদুল্লাহ একটি খাতনির্ভর প্রতিষ্ঠান থেকে বহুমুখী ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে ভ্রমণ, রিয়েল এস্টেট ও ইন্টেরিয়র, বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম গড়ে তোলাই তাঁর উদ্যোক্তা-যাত্রার বর্তমান চিত্র।
ব্যবসার পাশাপাশি আসাদুল্লাহ সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হয়েছেন। তিনি হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, যা তাঁর বাবা সমাজসেবক মো. হারুন মোল্লা প্রতিষ্ঠা করেছেন। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা, বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তার অংশ হিসেবে সম্প্রতি লোহালিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে গড়ে তোলা হয়েছে অগ ঝঢ়ড়ৎঃং অপধফবসু। এখানে ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পাশাপাশি অভিজ্ঞ কোচের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মাদক ও অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রেখে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আসাদুল্লাহর উদ্যোক্তা-যাত্রার একটি দিক আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, অন্যদিকে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা। চীন ও ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং একই সঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বাবুগঞ্জ থেকে শুরু করা এই উদ্যোক্তা-যাত্রাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন আসাদুল্লাহ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাঘায় পানিবন্দি পদ্মার ১৫টি চরে বিশুদ্ধ পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই ১৫টি চরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বেশিরভাগ বাড়ির টিউবয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে লক্ষীনগর চর পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, এখানে ১৫০টি পরিবার বসবাস করছে। তারা এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে। চৌমাদিয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলে পানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলের পাশে দিয়াড়কাদিরপুর বাজার অবস্থিত। বাজারের পাশে একটি টিউবয়েলের অর্ধেক অংশ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এই টিউবয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করে মানুষকে জীবনধারণ করতে দেখা গেছে। প্রতিটি চরের মানুষের একইভাবে পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। চারপাশে পানি ছড়িয়ে রয়েছে এবং বাড়িসহ সব জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আবদুর রহমান জানান, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া ও দিয়াড়কাদিরপুরসহ চরের প্রতিটি বাড়িতে পানি উঠার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ টিউবয়েলের অর্ধেকের বেশি অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে, উপায় না থাকায় তলিয়ে থাকা টিউবয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
দিয়াড়কাদিরপুর চরের দিলরুবা খাতুন বলেন, তার বাড়িতে টিউবয়েল নেই। তিনি বাজারের পাশে একটি টিউবয়েল থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে পান করেন। এই টিউবয়েলও অর্ধেকের বেশি ডুবে আছে। কোন উপায় নেই, তিনি এ টিউবয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম জানান, পদ্মার চরের প্রায় ৯০ ভাগ পরিবারের বাড়িতে পানি উঠেছে। শত শত পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু কিছু বাড়ি সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। এর ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, দিয়াড়কাদিপুর, উত্তর কালিদাসখালী, দক্ষিন কালিদাসখালী, পশ্চিম চকরাজাপুর, পূর্ব চকরাজাপুর, দাদপুর, পলাশি ফতেপুর, নিচ পলাশি ফতেপুর, জোতাশী, লক্ষীনগর, কালিদাসখালী, আম বাগান, টিকটিকিপাড়াসহ ১৫টি চরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে। সকলেই পানিবন্ধী অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার জানিয়েছেন, ১০ সেপ্টেম্বর চৌমাদিয়া, দিয়াড়কাদিরপুর, আতারপাড়া চরে পানিবন্দি ১০০টি পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে জলমগ্ন চরের মানুষের জন্য কিছুটা বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ