প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার সংক্রান্ত অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দাখিল করেছে তাদের পরিবার। অভিযোগটি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দাখিল করেন মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের রোমান, যিনি চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে অভিযোগটি জমা দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন রুনি। ১৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার শুরুতে থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং র্যাব তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কোনো ফলাফল আসেনি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর ওপর। তবে দীর্ঘ তদন্তের পরও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হোক। একইসাথে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য অভিযোগটি রেজিস্টারভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগ গ্রহণের পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, তারা তাড়াহুড়ো করছেন না, বরং সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য বের করতে চান।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলাটি সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে। নতুন কিছু তথ্য এবং প্রমাণ পাওয়ার খবর প্রকাশের পর সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘও বিষয়টি জানতে ৩০ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছিল বলে একটি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০১২ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন হয়েছে। বিচারিক আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমাও বহুবার পিছিয়েছে। একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পিছিয়েছে।
এদিকে মামলার দীর্ঘ তদন্তে সাগর-রুনির বাসার নিরাপত্তাপ্রহরী হুমায়ুন কবীর ওরফে এনামুলের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। তবুও প্রায় ১৩ বছর ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এনামুলকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার মা ফাতেমা বেগম ছেলেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময়েও এনামুলের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় দশক পর পরিবারের এই নতুন আইনি পদক্ষেপে মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে অভিযোগটি পর্যালোচনা করে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন