ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকার উপরে


১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকার উপরে

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এলপিজি আমদানি গত এক মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ার ফলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের তুলনায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এর ফলে খুচরা বাজারে রান্নার গ্যাসের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বর্তমানে ভোক্তাদের জন্য তা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের উপর বাড়তি খরচের চাপ পড়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

বিইআরসি এবং এলপিজি আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। এই হিসাবে, এক মাসে আমদানি প্রায় ৪০ হাজার টন কমেছে।

এদিকে, গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।

ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এই পরিস্থিতি দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে সময় এবং খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা জানিয়েছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে আগে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে বাড়তি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান লোকসান এড়াতে আমদানি সীমিত রেখেছে বলেও তাদের দাবি।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের দিক থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত।

এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহ ঘাটতির কারণ হিসেবে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

তবে বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দূর না হলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এলপিজি সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

চলমান সংকটে একদিকে ভোক্তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আল-আজহারে কাঁঠালগাছ রোপণ করলেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


আল-আজহারে কাঁঠালগাছ রোপণ করলেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত

মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আবাসিক ছাত্রাবাস ‘ইসলামিক মিশন সিটি’ পরিদর্শন করেন গৌতম কুমার দে, যিনি মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। এই পরিদর্শনের সময় তিনি দেশের সংস্কৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে জাতীয় ফল কাঁঠালের দুটি চারা রোপণ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মিশরের মাটিতে কাঁঠালগাছ রোপণের ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটলো।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কায়রোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামিক মিশন সিটিতে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার শরিফের সহকারী মহাপরিচালক মোস্তফা, প্রেস সচিব ওমর ফাতেহি, মিশরে বাংলাদেশ ছাত্র সংগঠন ইত্তেহাদের সহ-সভাপতি দেলোয়ার মাহমুদ খান মিল্কি, পিএইচডি গবেষক আব্দুর রহিম, জুলাই যোদ্ধা কিশোরগঞ্জের মাসুদ হাসান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিনিধি মুয়াজ বিন মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

সাক্ষাতে আল-আজহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি, ইসলামিক মিশন সিটিতে বাংলাদেশিদের আবাসিক আসন বাড়ানো এবং মেধাবী ও ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে আল-আজহার কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

ইসলামিক মিশন সিটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, "কয়েক বছর ধরে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছেন।" তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও ভদ্রতা উল্লেখ করে তাদের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে সাক্ষাতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও পরিচিত করে তুলতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন সিটিকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের রিকশার একটি মডেল উপহার দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, "মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস এবং পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরে তাদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজে লাগাবেন।

পরে ড. ঈসাম কাজি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামিক মিশন সিটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন গৌতম কুমার দে। তিনি প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। এরপর টেনিস ও বিলিয়ার্ড হল, জিমনেশিয়াম, ফিটনেস সেন্টারসহ শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন।

ইসলামিক মিশন সিটিতে বর্তমানে বিশ্বের ১০৩টি দেশের শিক্ষার্থীরা বসবাস ও পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের গাছ রোপণের মাধ্যমে দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি প্রতীকী পরিচয় তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কাঁঠালের দুটি চারা রোপণের সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, "বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি ফল নয়, এটি দেশের মাটি, প্রকৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে কাঁঠালগাছ বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও মিশরের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি প্রতীকী স্মারক তৈরি হবে।

ইসলামিক মিশন সিটির পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে গৌতম কুমার দে বলেন, "সুন্দর ও সবুজ পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ রয়েছে।" তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।"

সাক্ষাৎ শেষে ড. ঈসাম কাজি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পাঠ্যক্রম-সম্পর্কিত কয়েকটি বই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন।

পরিশেষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন গৌতম কুমার দে। তিনি ইসলামিক মিশন সিটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে: আইরিন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে: আইরিন খান

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তিনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং সংকট নিরসনে সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোহিঙ্গা বিষয়ক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান মন্তব্য করেন, প্রকৃত সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে।

আইরিন খান উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা জনগণের জন্য অর্থসহায়তা কমছে এবং বিশ্বের মনোযোগও অন্যদিকে সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সহায়তা ব্যবস্থা কক্সবাজারে থাকা দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গার চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, প্রকৃত সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকারের ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত, এই ১২ লাখ শরণার্থীকে সহায়তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের একটি কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বর্তমানে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা জনাকীর্ণ আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে, যেখানে সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং মানবিক সহায়তা ক্রমাগত কমছে।

আইরিন খান ‘রোহিঙ্গা শিশুরা আশ্রয় শিবিরে কঠিন পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠছে’ উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গারা ৯ বছর ধরে আশ্রয় শিবিরে আছেন। শিশুরা সেখানেই বড় হচ্ছে। প্রতিবছর ১২ লাখ শরণার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। শিবিরগুলোতে বছরে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ কী? শরণার্থী শিবিরে ৯ বছর কাটানো একটি দীর্ঘ সময়।

আইরিন খান বলেন, এ কারণেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমাধানের লক্ষ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে। আমরা বিশ্বাস করি, এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। শরণার্থীরাও নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী, তবে তারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরতে চান। আমরা চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দিক।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার আশা করছেন? এবং মিয়ানমার সমাধানের বিষয়ে কতটা আগ্রহী? এই প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনুক। সেখানে থাকবে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশ, এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং অবশ্যই মিয়ানমার। আরও থাকবে দূরবর্তী সেই সব দেশ, যাদের মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রয়েছে কিংবা এই প্রক্রিয়ায় অর্থায়নের সামর্থ্য আছে।

আমরা এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চাই, যার মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারকে তার জনগণকে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি মিয়ানমারের ভেতরেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে, যাতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরতে পারে।

জাতিসংঘের ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে আইরিন খান বলেন, জাতিসংঘের একার পক্ষে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী দেশগুলোকে। তাদের আরও কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচের পদত্যাগ

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছাত্রদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছিল। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

রাজধানী বেলগ্রেডের প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ভুচিচ। তিনি উল্লেখ করেন, তার নয় বছরের শাসনকালে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। জুন মাসে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে আগ্রহী। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াতে পারবেন না।

রাশিয়াপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকার শুরু থেকেই জনগণের ক্ষোভের মুখে ছিল। অভিযোগ ছিল, নির্মাণকাজে নিয়ম না মেনে খরচ কমানোর কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৪ সালে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি করে।

বিভিন্ন পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকরা রাস্তায় নেমে আসেন। দেশটির টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচও আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন। তবে এই কিংবদন্তি টেনিস খেলোয়াড়কে শেষ পর্যন্ত দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিল।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ওই দুর্ঘটনা আসলে ভুচিচের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির দীর্ঘ শাসনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। স্টেশনটির সংস্কারের সঙ্গে ভুচিচের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এটি সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা ছিল। ভুচিচের অধীনে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন, কিন্তু আন্দোলনকারীরা শান্ত হননি। গ্রীষ্মজুড়ে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগের কারণে বিক্ষোভ অশান্ত হয়ে ওঠে।

ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়। তাই বছরের শেষের আগে সার্বিয়ার জনগণ দুইবার ভোট দিতে হবে। ভুচিচ জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে তার এক মাসেরও বেশি পরে। আন্দোলনের চাপেই এই আগাম সংসদ নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির তালিকায় ভোটের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ভুচিচ আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি ওই নির্বাচনে প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেতা হিসেবে লড়বেন। ফলে সার্বিয়ার রাজনীতির শীর্ষ পদে তার থেকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিও প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য।

ভুচিচ সংবিধানের ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন ছাত্র এবং দলের অনুগত কয়েকজন রয়েছেন। সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসের তথ্য অনুযায়ী, তারা গত দেড় বছরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অপরাধের সন্দেহভাজন ছিলেন। ভুচিচ ওই ঘটনাগুলোকে ‘ভয়াবহ ঘটনা, যা আমরা গত দেড় বছরে পার করে এসেছি’ বলেছিলেন।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের প্রোগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দুটি পক্ষ। একটি হলো ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’। অন্যটি পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’।

ভুচিচ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতির পরিচিত মুখ। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে চায়, এটাই তার ইচ্ছা। তবে একই সময়ে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং চীনের বিনিয়োগের জন্য দেশের দরজা খুলে দিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তামিমের ব্যাখ্যা, জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক কেন আইকন নন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


তামিমের ব্যাখ্যা, জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক কেন আইকন নন

জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন টুর্নামেন্ট ‘ডমেস্টিক-৩’-এ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ছয় আইকন ক্রিকেটার নির্বাচন করেছে। তবে এই তালিকায় জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের নাম নেই।

আইকন ক্রিকেটার হতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং তানজিদ হাসান তামিমও। কেন এই তারকা ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে অন্যদের বেছে নেওয়া হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল।

তামিমের মতে, আইকন ক্রিকেটার বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা। পুরো মৌসুমে যাদের পাওয়া যাবে, তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি দলগুলো বিবেচনায় নিয়েছে।

তামিম বলেন, "আমার মনে হয় বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে দেখতে হবে। দিনশেষে এটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট এবং এখানে খেলোয়াড়দের অ্যাভেইলেবিলিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।"

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাঈম শেখের উদাহরণ টেনে বিসিবি সভাপতি জানান, প্রথম পিকে তারা হয়তো এমন কাউকে চেয়েছে, যাকে পুরো মৌসুম পাওয়া যাবে। যেমন, নাঈম শেখ বর্তমানে জাতীয় দলে খেলছেন না, তাই তিন সংস্করণেই তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় বেশি।

লটারির মাধ্যমে ‘ডমেস্টিক-৩’-এর ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির আইকন ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, নুরুল হাসান সোহান, তাওহিদ হৃদয়, মোহাম্মদ নাঈম শেখ এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

দলভিত্তিক আইকন ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন, ওয়ালটনের মেহেদী হাসান মিরাজ, ফরচুনের তাওহিদ হৃদয়, এসিএমইর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিকুর রহিম, এসিই ব্লুস্টার্সের নুরুল হাসান সোহান এবং সিটিজেন ব্যাংকের মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

তবে আইকন তালিকায় জায়গা না পেলেও জাতীয় দলের তারকাদের জন্য দল পাওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। আগামী ২৬ অক্টোবর খেলোয়াড় বাছাইয়ের সময় নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং তানজিদ হাসান তামিমদের দলে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তামিম জানিয়েছেন, ওই দিন নিলাম অথবা ড্রাফটের মাধ্যমে খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে। নিলাম হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে, যা ড্রাফটের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সম্ভব নয়।

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ‘ডমেস্টিক-৩’। নতুন এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এনসিএল টি-টোয়েন্টি, বিসিএলের চার দিনের প্রতিযোগিতা ও বিসিএল ওয়ানডের জায়গায় আসবে একটি সমন্বিত ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। একই ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেটে অংশ নেবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ১৯টি ম্যাচ, ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতায় ১৬টি এবং চার দিনের ক্রিকেটে সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ডিসেম্বরে বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি পর্ব। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে চার দিনের প্রতিযোগিতা, আর ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো মাঠে গড়াবে আগামী মে মাসে।

ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি বিসিবির সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছে। প্রতিটি দল ২৩ সদস্যের স্কোয়াড গঠন করবে, যা তিন সংস্করণেই তাদের মূল দল হিসেবে থাকবে।

খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের পারিশ্রমিকের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যয়ের সীমাও নির্ধারণ করবে বিসিবি। বোর্ডের লক্ষ্য হলো, তিন সংস্করণের ক্রিকেটকে একই কাঠামোর আওতায় এনে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বাড়ানো, খেলোয়াড়দের আর্থিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রতিযোগিতাটির বাণিজ্যিক আকর্ষণ বৃদ্ধি করা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%