প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আবাসিক ছাত্রাবাস ‘ইসলামিক মিশন সিটি’ পরিদর্শন করেন গৌতম কুমার দে, যিনি মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। এই পরিদর্শনের সময় তিনি দেশের সংস্কৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে জাতীয় ফল কাঁঠালের দুটি চারা রোপণ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মিশরের মাটিতে কাঁঠালগাছ রোপণের ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটলো।
রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কায়রোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামিক মিশন সিটিতে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার শরিফের সহকারী মহাপরিচালক মোস্তফা, প্রেস সচিব ওমর ফাতেহি, মিশরে বাংলাদেশ ছাত্র সংগঠন ইত্তেহাদের সহ-সভাপতি দেলোয়ার মাহমুদ খান মিল্কি, পিএইচডি গবেষক আব্দুর রহিম, জুলাই যোদ্ধা কিশোরগঞ্জের মাসুদ হাসান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিনিধি মুয়াজ বিন মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
সাক্ষাতে আল-আজহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি, ইসলামিক মিশন সিটিতে বাংলাদেশিদের আবাসিক আসন বাড়ানো এবং মেধাবী ও ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে আল-আজহার কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
ইসলামিক মিশন সিটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, "কয়েক বছর ধরে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছেন।" তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও ভদ্রতা উল্লেখ করে তাদের সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে সাক্ষাতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও পরিচিত করে তুলতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে ইসলামিক মিশন সিটিকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশের রিকশার একটি মডেল উপহার দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, "মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস এবং পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরে তাদের অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজে লাগাবেন।
পরে ড. ঈসাম কাজি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামিক মিশন সিটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন গৌতম কুমার দে। তিনি প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। এরপর টেনিস ও বিলিয়ার্ড হল, জিমনেশিয়াম, ফিটনেস সেন্টারসহ শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন।
ইসলামিক মিশন সিটিতে বর্তমানে বিশ্বের ১০৩টি দেশের শিক্ষার্থীরা বসবাস ও পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের গাছ রোপণের মাধ্যমে দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি প্রতীকী পরিচয় তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কাঁঠালের দুটি চারা রোপণের সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত বলেন, "বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি ফল নয়, এটি দেশের মাটি, প্রকৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে কাঁঠালগাছ বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও মিশরের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি প্রতীকী স্মারক তৈরি হবে।
ইসলামিক মিশন সিটির পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে গৌতম কুমার দে বলেন, "সুন্দর ও সবুজ পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ রয়েছে।" তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।"
সাক্ষাৎ শেষে ড. ঈসাম কাজি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পাঠ্যক্রম-সম্পর্কিত কয়েকটি বই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন।
পরিশেষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন গৌতম কুমার দে। তিনি ইসলামিক মিশন সিটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন